ঢাকা, শনিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

চলে গেলেন ‘গণিতের নোবেল’ জয়ী একমাত্র নারী

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১৬ ৪:৩৪:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-১৬ ৮:২২:২৮ পিএম
মরিয়ম মির্জাখানি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : মাত্র ৪০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গণিতের সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার ‘ফিল্ডস মেডেল’ জয়ী প্রথম ও একমাত্র নারী মরিয়ম মির্জাখানি। স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইরত মির্জাখানি গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গণিতে বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী ইরানি নাগরিক মির্জাখানি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন। স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের ঘোষণায় মির্জাখানির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে, তবে তার মৃত্যুর স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

২০১৪ সালে মির্জাখানি গণিতের নোবেল প্রাইজ হিসেবে খ্যাত ‘ফিল্ডস মেডেল’ পুরস্কারে ভূষিত হোন। ‘ফিল্ডস মেডেল’ প্রতি ৪ বছর পর পর দেওয়া হয়ে থাকে। গণিতের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মির্জাখানি প্রথম ও একমাত্র নারী যিনি এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

মির্জাখানি তাত্ত্বিক গণিতের বিশেষজ্ঞ ছিলেন, যেমন: মডুলি স্পেস, তিকমুলার থিওরি, হাইপারবোলিক জিওম্যাট্রি জ্যামিতি, এরগডিক থিওরি এবং সিমপ্লেকটিক জিওম্যাট্রি। তিনি কার্ভড সারফেসেস স্পেয়ার্স, ডোনাট শেপ এবং অ্যামিবাস এর জটিল জ্যামিতিক বিষয়ে যেমন গবেষণা করেছেন, তেমনি মহাবিশ্বের জন্ম নিয়ে গবেষণায় তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের ব্যাখায় অবদান রেখেছেন।

মির্জাখানির অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মার্ক টেসিয়ার লেভিন।

তেহরান টাইমসে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেন, ‘বিশিষ্ট ইরানি এবং বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ মির্জাখানির অকালে চলে যাওয়াটা দুঃখজনক।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেন, ‘ইরানের প্রতিভা এবং গণিতের অধ্যাপক মির্জাখানির মৃত্যুর খবরটি আমাকে ব্যথিত করেছে এবং ইরানি নাগরিকদের মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।’

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মার্ক টেসিয়ার লেভিন বলেন, ‘মির্জাখানি একজন উজ্জ্বল থিওরিস্ট যিনি গণিত ও বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে স্থায়ী অবদান রেখেছেন এবং হাজার হাজার নারীকে অনুপ্রাণিত করেছেন।’

মির্জাখানি ১৯৭৭ সালে তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইরানেই বেড়ে উঠেন। ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে তিনি প্রথম ইরানি নারী শিক্ষার্থী হিসেবে স্বর্ণপদক জয় লাভ করেন। ১১৯৫ সালের আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে তিনি প্রথম ইরানি হিসেবে সম্পূর্ন নম্বর পেয়ে দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ইরানের বিখ্যাত শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে সম্মানজনক স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন এবং ২০০৮  সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অধ্যাপক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

মরিয়ম মির্জাখানি ব্যক্তিগত জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জন ভনড্রাকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের অ্যানাহিতা নামে এক কন্যা সন্তান আছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ ‍জুলাই ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop