ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি মানুষের হার্ট!

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১৬ ৮:১১:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-২৫ ৮:২৮:১২ পিএম

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো থ্রিডি প্রিন্টিং মেশিনে নরম কৃত্রিম হার্ট বা হৃদপিণ্ড তৈরি করছেন। সিলিকন দিয়ে তৈরি কৃত্রিম এই হার্ট প্রায় মানুষের আসল হার্টের মতোই। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হার্ট প্রতিস্থাপনের পরিবর্তে পরিবর্তনের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন।

বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬ মিলিয়ন মানুষ হার্ট অচল সমস্যায় ভুগছেন এবং ডোনারের বিশ্বব্যাপী ঘাটতি রয়েছে, তাই এই কৃত্রিম হার্ট দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা নিরসনের দারুন সমাধান হতে পারে।

সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এই খসড়া কৃত্রিম হার্ট দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ের মতোই হার্ট বিট চালু রাখতে পারে এবং তারা এটিকে আরো উন্নত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন।

বিজ্ঞানী দলটির একজন সদস্য নিকোলাস কোহার্স বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, রোগীর নিজস্ব হার্টের মতো প্রায় একই আকৃতির কৃত্রিম হার্ট তৈরি করা, যেটি মানুষের হার্টের মতোই যতটা সম্ভব ফর্ম এবং ফাংশন অনুযায়ী হবে।’

নতুন সিলিকনের হার্টটিতে মানুষের হার্টের মতোই বাম এবং ডান চেম্বার রয়েছে। এছাড়া বাইরে থেকে হার্টটিতে পাম্প করা যাবে এমন অতিরিক্ত চেম্বারও রয়েছে। এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে, হার্টের তৃতীয় চেম্বারে বাতাসের চাপ প্রবেশ করানোর মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন করা।

৩৯০ গ্রাম ওজন এবং ৬৭৯ কিউবিক সেন্টিমিটারের এই হার্ট ওজনে কিছুটা ভারী হলেও, আকৃতিতে মানুষের স্বাভাবিক হার্টের মতোই। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই কৃত্রিম সংস্করণটি যান্ত্রিক পাম্পের রিপ্লেস হিসেবে কাজ করবে, যেটি সবসময়ই অচল হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকে কিংবা শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করে।

বর্তমানে যান্ত্রিক পাম্প ব্যবহার করা হয়ে থাকে যখন মানুষ হার্ট নষ্ট হওয়া থেকে পুণরুদ্ধার হয় কিংবা ডোনারের হার্টের অপেক্ষায় থাকে।

সিলিকনের হার্ট কেবল প্রায় ৩০০০ বিটের মতো স্থায়ী হতে পারে, তাই এর ম্যাটেরিয়াল এবং কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু থ্রিডি প্রিন্টিং মেশিনের মাধ্যমে নরম ও মানুষের মতো হার্টবিট করতে পারে এমন কৃত্রিম হার্ট তৈরি করাটা চমৎকার একটা শুরু বলা যেতে পারে।

কোহারস বলেন, ‘এটি কেবল সম্ভাব্য পরীক্ষা ছিল। আমাদের লক্ষ্য প্রতিস্থাপনের জন্য তৈরি থাকা হার্ট উপস্থাপন করা নয় বরঞ্চ কৃত্রিম হার্ট উন্নত করার জন্য একটি নতুন দিক সম্পর্কে চিন্তা করা।’

‘থ্রিডি প্রিন্টেড ভার্সনের মাধ্যমে যদি আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটির রিপ্লেস করতে না পারি, তাহলে সম্ভবত ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনরুৎপাদন করার পথ খোলা রয়েছে।’

গত সপ্তাহে একদল বিজ্ঞানী জানিয়েছিলেন, সমুদ্রতলে বসবাসরত অ্যানেমনির মাধ্যমে হার্টের টিস্যু রিপ্লেস করার জন্য মানুষের স্টেম কোষগুলোর ব্যাপারে শেখা যেতে পারে।

এছাড়া এ বছরের শুরুর দিকে ওরসেসটার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের একটি দল পালংশাকের পাতা ব্যবহার করে রক্ত পরিবহনে সক্ষম এমন শিরা সহ হার্টের টিস্যু বানাতে সক্ষম হয়েছেন।

মানুষের হার্ট রিপ্লেস বা পুণরায় তৈরিতে চিকিৎসা বিজ্ঞান যদিও এখনো অনেকটা দূরত্বে রয়েছে, তবে নানা প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই দূরত্বটা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে।

পড়ুন : পালংশাকের পাতা দিয়ে হার্টের টিস্যু!





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ জুলাই ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop