ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ এপ্রিল ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

স্মার্টফোনে সেরা তিন উদ্ভাবন

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৪ ১:৩০:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-০১ ৪:২৪:৫৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : স্মার্টফোনে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ২০১৭ সাল খুব দারুন একটা বছর ছিল না। স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রি নতুন ফিচার আনতে একটা বিরতি নিয়েছে এমনটা মনে হয়েছে। কেননা প্রতিষ্ঠানগুলো এ বছরে যেসব ফিচার এনেছে, তার বেশিরভাগই আগে থেকেই ছিল।

যা হোক, তিনটি আকর্ষণীয় ট্রেন্ড এ বছরে শুরু হয় বা এ বছরই বেশি আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ২০১৮ সালে এই ট্রেন্ডগুলো আরো বেশি দেখা যাবে।

স্মার্টফোনে নতুন এই তিনটি সেরা উদ্ভাবন, সামগ্রিকভাবে ব্যবহারকারীদের ভালো অভিজ্ঞতা দিয়েছে এবং আগামী ১২ মাসে ভবিষ্যতের স্মার্টফোনগুলোতেও পাওয়া যাবে।

* ১৮:৯ রেশিও ডিসপ্লে
বহুদিন থেকেই বেশিরভাগ স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ১৬:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও সম্পন্ন। সিনেমা, টেলিভিশন এবং থিয়েটারের ক্ষেত্রে এটি একটি আদর্শ অনুপাত, তাই ছোট পর্দায় সিনেমা দেখার সুবিধার্থে একই অনুপাত ফোনগুলোতে ব্যবহৃত হয়।

যা হোক, ২০১৭ সালে বেশ কয়েকটি মেজর স্মার্টফোন ১৮:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওতে উন্নত হয়েছে। এটা শুরু হয় ‘এলজি জি৬’ স্মার্টফোনের মাধ্যমে, যা এর ৫.৭ ইঞ্চি স্ক্রিনের ২৮৮০x১৪৪০ রেজল্যুশনের ডিসপ্লের জন্য ১৮:৯ রেশিও ব্যবহার করে। বছরের শুরুর দিকে বাজারে আসা জি৬ স্মার্টফোনকে এলজি ১৮:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও বা ফুল ভিউ ডিসপ্লের স্মার্টফোন হিসেবে বাজারে নিয়ে আসে। যদিও জি৬ আগের এলজি ভি২০ মডেলের তুলনায় সামান্য ছোট, উভয় মডেলেই ৫.৭ ইঞ্চি স্ক্রিন থাকা সত্ত্বেও।
 


এই ১৮:৯ ডিসপ্লে আরো বেশি প্রচারণা পায় এলজি জি৬ বাজারে আসার কয়েক সপ্তাহ পরে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮ এবং এস৮ প্লাস স্মার্টফোনের বদৌলতে। কারণ উভয় ফোনের ডিসপ্লেতেই এই অনুপাত (টেকনিক্যালি ১৮.৫:৯) ব্যবহার করে স্যামসাং এবং এর ফলে ফোন দুইটির চাহিদাও বাড়ে। এটি সামান্য বেজেলে রেখে গ্যালাক্সি এস৮ এবং গ্যালাক্সি এস৮ প্লাস স্মার্টফোনে ‘ইনফিনিটি স্ক্রিন’ তৈরি করার সুবিধা দেয়। এলজি এবং স্যামসাংয়ের এসব ফোন ১৮:৯ ডিসপ্লে শুরু করার পর অন্যান্য ফোনেও নতুন এই ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে। যেমন স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮, এলজি ভি৩০, ওয়ানপ্লাস ৫টি প্রভৃতি।

এমনকি গুগলও নতুন এই ফরম্যাট গ্রহণ করে, পিক্সেল ২ এক্সএল স্মার্টফোনের ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের জন্য এটিকে ব্যবহার করে। অ্যাপল তো আরো একধাপ এগিয়ে প্রায় বেজেল মুক্ত স্মার্টফোন ‘আইফোন এক্স’ নিয়ে আসে, এর ৫.৮ ইঞ্চি ডিসপ্লের মধ্যে আরো লম্বা অনুপাত ১৯.৫:৯ রেশিও যুক্ত করে।

তবে স্মার্টফোনে এখনো কিছু সিনেমা এবং টিভি অনুষ্ঠান উপভোগের ক্ষেত্রে ১৮:৯ ডিসপ্লে ফরম্যাট সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও নতুন ফরম্যাটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কনটেন্ট প্রচুর তৈরি হচ্ছে কিন্তু ১৬:৯ এখনো স্ট্যান্ডার্ড রেশিও। তার মানে অসংখ্য কনটেন্টকে হয় স্ক্রিনের মাপে তৈরি করতে হবে, নয়তো বিকৃতি প্রতিরোধে লেটারবক্সিং ব্যবহার করতে হবে।

ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সামান্য হিসেবে মনে করা হচ্ছে, স্মার্টফোনের মধ্যে ১৮:৯ ফরম্যাটের চাহিদা ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেখে। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্ভাবন ২০১৮ সালে ব্যাপক ভাবে অব্যহত থাকবে এবং মধ্যম মানের ও বাজেট স্মার্টফোনগুলোতে ব্যবহৃত হবে। কেননা বড় স্ক্রিন সকলেই পছন্দ করে।

* ১২০ হার্জ স্মার্টফোন স্ক্রিন- উন্নত দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিক্স
স্মার্টফোনের জন্য ২০১৭ সালে এটি আরেকটি সেরা উদ্ভাবন। এটিও ডিসপ্লে কেন্দ্রীক তবে ১৮:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওর তুলনায় অনেক কম পরিচিত।

গেমিং পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেজার তাদের প্রথম ফোনে, যেটি নভেম্বরের শুরুতে বাজারে এসেছে, এটি সম্ভবত সবচেয়ে সুপরিচিত স্মার্টফোন যার ডিসপ্লে সাধারণ ৬০ হার্জের পরিবর্তে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট সমৃদ্ধ। এছাড়া শার্প এর অ্যাকোজ ব্র্যান্ডের কয়েকটি স্মার্টফোনও ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট সমর্থিত।
 


কেন এটি একটি বড় বিষয়? স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট প্রতি সেকেন্ডে একটি ছবি কত দ্রুত আপডেট করে তা বোঝায়। অর্থাৎ যদি আপনার ডিসপ্লে উচ্চ রিফ্রেশ রেট সম্পন্ন হয়, তাহলে ছবি অনেক বেশি স্মুথ ও পরিষ্কারভাবে প্রদর্শিত হবে, এমনকি স্ক্রলিং করার সময়ও।  

রেজার তাদের ফোনের ডিসপ্লেতে এই উচ্চ রেট ব্যবহার করে আল্ট্রা মোশন নামক আরেকটি প্রযুক্তির সঙ্গে, যা ফোনের গ্রাফিক্সের সঙ্গে সিঙ্ক করে প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চ রিফ্রেশ রেট পরিবর্তন করে। গেম খেলার ক্ষেত্রে এটি সর্বোত্তম রিফ্রেশ রেট বজায় রাখে, ফলে দারুন গ্রাফিক্স উপভোগ করা যায়।

২০১৮ সালে আমরা সম্ভবত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটির (এআর) জন্য আরো ভালো অভিজ্ঞতার স্মার্টফোন দেখতে পাবো। এছাড়াও আমরা স্মার্টফোনের ভেতরের হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক গেমস উপভোগে আরো উন্নত ভিআর হেডসেট দেখতে পাবো। এসব ডিসপ্লেতে উচ্চ রিফ্রেশ রেট থাকার ফলে ভিআর এবং এআর অ্যাপসগুলো আরো নিখুঁতভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে। রেজার স্মার্টফোনের ডিসপ্লেতে উচ্চ রিফ্রেশ রেটের জনপ্রিয়তায় সম্ভবত নতুন বছরে এই প্রযুক্তি গেমিং এবং ভিআর-ভিত্তিক অন্যান্য স্মার্টফোনগুলোতেও চালু হবে।

* ইসিম- পুরোনো ঘরানার সিমের ধারণা বদলে দিয়েছে

আপনার স্মার্টফোন কতটা উন্নত সেটা কোনে মুখ্য বিষয় না, সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা সাধারণ মোবাইলের মতোই সিমকার্ড প্রবেশ করিয়ে ব্যবহার করতে হয়। তবে ২০১৭ সালে অবশেষে এই পুরোনো প্রযুক্তি থেকে মুক্তিতে স্মার্টফোনে একটা উপায়ের দেখা মিলেছে।

গুগলের পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সএল প্রথম স্মার্টফোন যা নতুন ইসিম প্রযুক্তিতে বাজারে আসে। উভয় স্মার্টফোনই সিমকার্ডের পরিবর্তে সংযুক্ত সিম সার্কিট ডিজাইনে তৈরি হয়েছে, যা খোলা যায় না। এই প্রযুক্তির ‍সুবিধা হচ্ছে, সিম কার্ড বদল করার ঝামেলা নাই। ফোন তৈরির সময়ই মাদারবোর্ডের সার্কিটে সকল অপারেটরের তথ্য সংযুক্ত থাকে, ফলে নতুন সিম কার্ড না লাগিয়েই ফোনের সফটওয়্যার থেকে যেকোনো অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করা যায়।
 


সাধারণত দেখা যায় যে, আপনি যখন মোবাইল অপারেটর বদল করেন, তখন কাঙ্ক্ষিত অপারেটরের সিম কার্ড কিনে ফোনে লাগানো লাগে। যা অনেক ঝামেলার ব্যাপার, আর যারা দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেন তাদের জন্য তো আরো বেশি। গুগলের পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সএল স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ইসিমের সুবিধা হচ্ছে, এটি কোনো সিম কার্ড না এবং কোনো দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনি অন্য কোনো দেশে গেলে আপনার ফোন অটোমেটিক সে দেশে মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে এবং নতুন সিম কার্ড না লাগিয়েই আপনি আপনার পছন্দমতো অপারেটর ব্যবহার করতে পারবেন।    

প্রত্যাশা করা হচ্ছে, নতুন এই ইসিম প্রযুক্তি ২০১৮ সালে অন্যান্য স্মার্টফোনেও ব্যবহৃত হবে।

যা হোক, ২০১৭ সাল যদিও স্মার্টফোনের জন্য অনেক বেশি উদ্ভাবনীর বছর ছিল না, তারপরও বড় এবং উন্নত ডিসপ্লে সহ বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তি স্মার্টফোনে উপহার দিয়েছে। নতুন বছরে আরো নতুন প্রযুক্তির দেখা মিলবে, এমনটাই প্রত্যাশা বাজার বিশ্লেষকদের।

তথ্যসূত্র : অ্যান্ড্রয়েড অথোরিটি



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop
 
   
Walton AC