ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

ডিজিটাল রূপান্তরে মাইক্রোসফটের উদ্যোগ

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৫ ৫:২৪:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-১৫ ৫:২৭:৩২ পিএম

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : এ ডিজিটাল যুগে জ্ঞান ও ধারণা আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যাংকিং খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (সিএক্সও) ও আর্থিক খাতের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে সম্প্রতি এক সম্মেলনের আয়োজন করেছে মাইক্রোসফট। সম্মেলনটি রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বিভিন্ন আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ব্যবসাকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে উপকরণগুলো সম্পর্কে নিজেদের ধারণা আদান-প্রদান করেন এবং মাইক্রোসফট তাদের সামনে নতুন এ সুযোগগুলো উপস্থাপন করে। সম্মেলনে ডিজিটাল রূপান্তর ও ব্যাংকিং খাতের প্রডাক্টিভিটির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাওয়ার বিআই ও অ্যানালিটিকস কিভাবে নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করতে পারে এবং ক্লাউড কম্পিউটিং কিভাবে ব্যাংকিং খাতকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে পারে সম্মেলনে তা দেখানো হয়।

সম্মেলনে ডিজিটাল রূপান্তর ও ব্যাংকিংখাতের প্রডাক্টিভিটি নিয়ে সেশনও অনুষ্ঠিত হয় যেখানে অমনি চ্যানেল ও ডায়নামিক ৩৬৫ এবং পাওয়ার বিআই ও অ্যানালিটিকস এর ওপর উপস্থাপনা এবং এর পাশাপাশি, সাইবার নিরাপত্তা ও ট্রাস্টেড ক্লাউড নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে গ্রাহকদের প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রাহক প্যানেল আলোচনায় ‘ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল ডিসরাপশন’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। এ আলোচনার মধ্যে ছিল ডিজিটাল ডিসরাপশনে টিকে থাকা এবং বর্তমান সময়ের প্রবণতাসহ এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্মেলনে ওয়ান পার্টনার, পিডব্লিউসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছিলেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে মাইক্রোসফটের এশিয়া জরিপ অনুযায়ী, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আর্থিক খাতে ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের ৮১ শতাংশ জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে তাদের ডিজিটাল ব্যবসায় রূপান্তরিত হওয়া প্রয়োজন। ৩১ শতাংশ জানিয়েছেন, এ রূপান্তর নিয়ে তাদের ডিজিটাল স্ট্রাটেজি রয়েছে। জরিপের মাধ্যমে জানা গেছে, এশিয়ার ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ডিজিটাল রূপান্তরের স্ট্রাটেজির ক্ষেত্রে ক্লাউড কম্পিউটিংকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বিষয় বলে মনে করেন এবং তারা এও মনে করেন, ডাটা ইনসাইট নতুন আয়ের উৎসের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

এ নিয়ে মাইক্রোসফট এশিয়া প্যাসিফিকের সাউথইস্ট এশিয়ার নিউ মার্কেটসের চিফ অপারেটিং অফিসার রেনা চাই বলেন, ‘আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের খুব কাছাকাছি, বর্তমান সময়ে ব্যবসা প্রক্রিয়া এবং ব্যবসায় গ্রাহক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাইক্রোসফট আরো বেশি কিছু অর্জনে বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতায়ন চায়। তাই, বাংলাদেশের আর্থিক সেবাখাতের নতুন ও বিদ্যমান তথ্য থেকে ব্যবসায়িক অন্তর্দৃষ্টি খুঁজে বের করে বিশেষ করে, নির্দিষ্ট ডিজিটাল চ্যানেলের সেবা বিস্তৃত করার মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রত্যাশা আরো ভালোভাবে পূরণে সহায়তা করবে মাইক্রোসফট। আমরা বাংলাদেশের আর্থিক সেবাখাতের উন্নতিতে আমাদের সুযোগ ও সহায়তার বিস্তৃতি ঘটাবো। ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিষ্ঠানকে কোন অবস্থায় দেখতে চায় এটা নতুন করে ভাবতে ও এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা সকল ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও লাওসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, ‘ডিজিটাল ডিসরাপশনের এ সময়ে ব্যাংকিং খাত প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে কার্যক্রমের সঠিক পরিচালনায় ও মুনাফা বৃদ্ধিতে সঠিক উপকরণ ব্যবহার করে কর্মীদের ক্ষমতায়ন করতে পারে এবং গ্রাহকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করতে পারে। বাংলাদেশ এর ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে এবং মানুষ খুব দ্রুতই নতুন প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হওয়া শুরু করেছে। তাই, ব্যাংকগুলোর জন্য এখনই সময় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার তথ্যকে ইনসাইটে রূপান্তরিত করার, ধারণাকে কার্যক্রমে রূপান্তর করা, গ্রাহকদের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং তাদের পরামর্শদাতা হয়ে ওঠার।’

মাইক্রোসফট এশিয়া ডিজিটাল রূপান্তর গবেষণায় এশিয়ার পাঁচটি খাতের ১৪শ’ ৯৪ জন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জরিপ চালানো হয় যাদের মধ্যে ৩শ’ ৩৫ জন আর্থিক সেবা খাতের। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩টি বাজারে অন্তত আড়াইশ’র বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই জরিপ চালানো হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী সকল ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দেরই ডিজিটাল স্ট্রাটেজির পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে নতুন রূপদানের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল।

জরিপ অনুযায়ী, বেশিরভাগ ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দই ডিজিটাল রূপান্তরে ব্যবসায়িক পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনের ব্যাপারে সচেতন। জরিপে আরো উঠে এসেছে, এশিয়ার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই নতুন এ রূপান্তরের ক্ষেত্রে একেবারে শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। শুধুমাত্র ৩১ শতাংশ ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছে, তাদের ডিজিটাল রূপান্তরে প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ স্ট্র্যাটেজি রয়েছে এবং ৫৩ শতাংশ তাদের ব্যবসার নির্দিষ্ট কিছু অংশের ডিজিটাল রূপান্তরের কিছু ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, আর ১৬ শতাংশের খুবই সীমিত পরিসরে কিংবা বলা যায় তাদের এ নিয়ে কোনো স্ট্র্যাটেজি নেই।

মাইক্রোসফটের লক্ষ্য আরো বেশি কিছু অর্জনে বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির নির্মাণ যাতে অন্যরা উদ্ভাবন করতে পারে, তাদের নিজেদের প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে সমাধান নিয়ে আসতে পারে।

মাইক্রোসফট কিভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে এ নিয়ে জানতে ভিজিট: https://blogs.microsoft.com/transform
 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ জানুয়ারি ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton