ঢাকা, শনিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৫, ২০ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ইনস্টাগ্রাম থেকে বিদায় নিলেন দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৫ ৬:০০:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২৫ ৬:২০:৫৯ পিএম

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : ইনস্টাগ্রামের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে, ফেসবুকের মালিকানাধীন ফটো-শেয়ারিং অ্যাপটির প্রধান নির্বাহী কেভিন সিসট্রম তার ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি এবং সহকর্মী সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইক ক্রিগার সামাজিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠানটি থেকে চলে যাচ্ছেন।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে, নিউ ইয়র্ক টাইমস সর্বপ্রথম দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতার ইনস্টাগ্রাম ছাড়ার খবর প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম পরিচালনা নীতি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ক্রমশ বেড়ে চলার কারণেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।

কেভিন সিসট্রম ও মাইক ক্রিগার ২০১০ সালে ছবি শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১২ সালে ফেসবুক ইনস্টাগ্রামকে কিনে নেওয়ার পরও এই দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতাই ইনস্টাগ্রামকে পরিচালনা করছিলেন। তাদের সফল পরিচালনার কারণে বিশ্বব্যাপী ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ফলে সহ-প্রতিষ্ঠাতা দলটির পদত্যাগের খবরে, জনপ্রিয় এই ফটো শেয়ারিং সাইটটির পরিচালনা এবং ভবিষ্যত নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইনস্টাগ্রাম ছেড়ে যাবেন। ইনস্টাগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্বে ছিলেন কেভিন এবং প্রধান কারিগরি কর্মকর্তার (সিটিও) দায়িত্বে ছিলেন মাইক। তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কে পূরণ করবে, সে ব্যাপারে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এই দুইজনের পদত্যাগের খবর এমন এক সময় এলো যখন ভুয়া সংবাদসহ নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগে ফেসবুককে সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

কেভিন তার ব্লগ পোস্টে জানান, ‘আমরা নতুন উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীল কাজের জন্য বিরতি নিচ্ছি। নতুন কিছু তৈরি করতেই ইনস্টাগ্রাম থেকে সরে যাচ্ছি। কী আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে তা বুঝতে এবং বিশ্ব যা চায় তাতে সাড়া দিতেই আমরা এ পরিকল্পনা নিয়েছি।’

মার্ক জাকারবার্গ তার বিবৃতিতে বলেন, কেভিন ও মাইক নেতা হিসেবে অসাধারণ এবং ইনস্টাগ্রাম তাদের যৌথ সৃষ্টিশীলতার ফসল। গত ছয় বছর আমি তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাদের জন্য শুভকামনা এবং পরবর্তীতে তারা কী সৃষ্টি করতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে থাকবো।’

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেখা গেছে, ফেসবুক তাদের নির্বাহী কর্মকর্তাদের ইনস্টাগ্রামে যুক্ত করে চলেছে। নির্বাহী কর্মকর্তাদের রদবদল করা হচ্ছে। যেমন চলতি বছরের মে মাসে ফেসবুক অ্যাপের প্রধান কর্মকর্তা ক্রিস কক্সকে প্রতিষ্ঠানটির সব পণ্যের (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য অ্যাপ) প্রধান কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া ফেসবুক নিউজ ফিডের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম মোসেরিকে ইনস্টাগ্রামের হেড অব প্রোডাক্ট হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

কেভিন ও মাইক তাদের পদত্যাগের নেপথ্যের কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে বেনামি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ফেসবুক নেতৃত্বের সঙ্গে কেভিন ও মাইকের বিরোধ এর কারণ, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামের স্বায়ত্তশাসন নীতিতে ফেসবুকের প্রভাব বাড়ায়।

ফেসবুকের সঙ্গে এর আগে হোয়াটসঅ্যাপেরও ঝামেলা বেধেছিল। এ বছরের শুরুতে ফেসবুকের মালিকানাধীন অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপ ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ থেকে পদত্যাগ করেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যান কউম। হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকে নেওয়া হচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশনের মান দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে, ফেসবুকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন কউম। গত বছর হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে চলে যান আরেকজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেইন অ্যাকটন। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসে ফেসবুকের ক্যামব্রিজ অ্যালালিটিকা কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর, সবাইকে ফেসবুক পরিহার করার আহবানও জানান অ্যাকটন।

জ্যান কউম ও ব্রেইন অ্যাকটন ২০০৯ সালে মেসেজিং সেবা হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপকে কিনে নেয় ফেসবুক।

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton