ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

আঙুলের ছাপেই জানা যাবে মাদকাসক্ত কিনা

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৯ ৬:৩৬:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-০৯ ১১:২৫:০৯ পিএম

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : কেউ মাদকাসক্ত কিনা, তা নির্ণয়ে যুগান্তকারী এক মেডিক্যাল পরীক্ষা (স্ক্রিনিং টেস্ট) উদ্ভাবন করা হয়েছে। আঙুলের ঘাম পরীক্ষা করার মাধ্যমেই কেউ মাদকাসক্ত কিনা তা জানা যাবে। শরীরে অবৈধ মাদক শনাক্তের এই পরীক্ষা এমনকি মৃত মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।

শরীরে গাঁজা, কোকেন, অপিয়েট, অ্যামফেটামিনের মতো নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য এই স্ক্রিনিং টেস্ট বা মেডিক্যাল পরীক্ষা শনাক্ত করতে পারে এবং বিশেষ কার্টিজ ব্যবহার করে নমুনা সংগ্রহ করতে সময় নেয় মাত্র পাঁচ সেকেন্ড।

মাদকাসক্ত নির্ণয়ের জন্য সাধারণত মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা, মূত্র পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু নতুন পরীক্ষা ব্যবস্থায় কেবল আঙুলের ছাপ নিয়েই মাদকাসক্ত নির্ণয় করা সম্ভব হবে। রক্ত পরীক্ষা এবং মূত্র পরীক্ষার মতো সময় সাপেক্ষ পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়বে না। নতুন উদ্ভাবিত ‘ইন্টেলিজেন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার’ ডিভাইসটি এ সুবিধা দেবে। এই ডিভাইস নমুনা বিশ্লেষণ করে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ফলাফল প্রদান করতে পারে। ফলাফলের সঠিকতা রক্ত পরীক্ষা এবং মূত্র পরীক্ষার সমতুল্য।

মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে শরীরে ক্ষতিকারক মেটাবোলাইট তৈরি হয়। নতুন মেডিক্যাল পরীক্ষাটি আঙুলের ছাপে আটকে থাকা ঘাম থেকেই এই মেটাবোলাইট শনাক্ত করতে পারে। কেউ যখন কোকেন গ্রহণ করে তখন শারীরিক বেনজাইল ইগোনাইন এবং মিথাইল ইগোনাইন প্রক্রিয়ায় শরীরে ঘাম উৎপন্ন হয়। ডিভাইসটি তৈরি করেছে ব্রিটিশ কোম্পানি ইন্টেলিজেন্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট। 

মাদকাসক্ত নির্ণয়ে আঙুলের ছাপের এই পরীক্ষাটি বৈপ্লবিক অগ্রগতি নিয়ে আসতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। এটি রক্ত পরীক্ষা, মূত্র পরীক্ষা এবং মুখের লালা পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ। রক্ত পরীক্ষা করার জন্য যে লেভেলের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়ে, ডিভাইসটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সে লেভেলের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না। মূত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে মূত্রের নমুনা সঠিক ব্যক্তিরটিরই কিনা অনেক সময় এমন সংশয় থাকে, নতুন ডিভাইসটি আঙুলের ছাপের নমুনার হওয়ায় এ ধরনের কোনো সংশয় নেই।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদকাসক্ত নির্ণয়ের পরীক্ষা আরো নির্ভুল করার জন্য বিভিন্ন কিছুর প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু এবার একটি ডিভাইসের মাধ্যমেই নির্ণয় করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ভারী মেডিক্যাল সরঞ্জামের প্রয়োজন পড়ে এমন ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা ডিভাইসটির মাধ্যমে সহজেই কর্মীদের পরীক্ষা করতে পারবেন।

এছাড়া মৃত মানুষের ওপর পরীক্ষার সক্ষমতার দরুন মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া যাবে। যা পুলিশি তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

তথ্যসূত্র : মিরর



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ অক্টোবর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton