ঢাকা, রবিবার, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ২১ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে বিএনপি

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-১৮ ২:১৮:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-১৯ ১১:২৮:১৭ এএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা এবং ক্ষমতায় গেলে দেশ পরিচালায় কোন বিষয়গুলো প্রধান্য পাবে-তা ইশতেহার আকারে প্রকাশ করেছে বিএনপি।

বিএনপির ইশতেহারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা ও সংবিধানে গণভোট পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্র চর্চা এবং কোনো ধরনের প্রতিশোধের রাজনীতি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে লেকসোর হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির ইশতেহারে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ব্যবস্থায় বলা হয়েছে-

 

* বিএনপি নির্বাচনের দিনের গণতন্ত্রকে নিত্যদিনের অনুশীলনে পরিণত করবে।                  

* সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে।

* একাধারে পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান করা হবে।

* মন্ত্রিসভাসহ প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হবে।

* বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেওয়া হবে।

* সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

* বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে ‘জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংবিধানে ‘গণভোট’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা হবে।

* সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে উল্লেখ সংখ্যক নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

* জাতীয় সংসদকে সকল জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।

* নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট অতীতের সমস্যার আলোকে নিরূপণ করা হবে এবং এই লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে স্বচ্ছ আলাপ-আলোচনা করা হবে।

* প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশনের সদস্য থাকবেন সংসদে সরকারি দলের নেতা, বিরোধী দলের নেতা এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্ব।

* একদলীয় শাসনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।

* জাতীয় নেতৃবৃন্দের আপত্তিকর সমালোচনা রোধে সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হবে।

* ব্যক্তির বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্যকে বিবেচনায় না নিয়ে কেবল সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশ-প্রেম ও বিচার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র, পুলিশ এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে।

* প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ দেওয়া হবে।

* র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। র‌্যাবের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তন করে অতিরিক্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। এই ব্যাটেলিয়ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। রাষ্ট্রের সকল সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা স্ব স্ব চার্টার অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

* চাকরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সব ধরনের তদবির ও চাঁদাবাজি নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দেশরক্ষা, পুলিশ ও আনসার ব্যতীত শর্তসাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা থাকবে না।

* বিডিআর হত্যাকাণ্ডের এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসংক্রান্ত সকল অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে এবং অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

* রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় যেন সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

* প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রতিবছর প্রকাশ করা হবে।

* সড়ক পথে চলাচলে বিরাজমান বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানো হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

* দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি একটি উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই । বিএনপি জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করতে চাই যে, ক্ষমতায় গেলে কারো ওপরই কোনো প্রকার প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। একটি প্রতিহিংসামুক্ত এবং সহমর্মী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এই মুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সঙ্গে নেই। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একটি পরিত্যক্ত ভবনে নির্জন কারাবাস করছেন। তার অপরাধ তিনি জীবনে অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই এবং বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে সুন্দর করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মানুষের মুক্তি, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি আজ বন্দী জীবনযাপন করছেন।’

বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঘরে থাকতে পারছে না-অভিযোগ করে দলের মহাসচিব বলেন, ‘এ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা নিজ ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা নিজ ঘরে ফিরতে চান। আপনাদের সমর্থন ঘরছাড়া মানুষগুলোকে ঘরে ফিরবার সুযোগ করে দেবে। অবসান ঘটাবে জুলুম-নির্যাতনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করলে ঐকমত্য, সকলের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিহিংসাহীনতা এই মূলনীতির ভিত্তিতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। ’

‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’-সংবিধানের এই নীতির ভিত্তিতে সরকার পরিচালনার যাবতীয় পদক্ষেপের ভিত্তি হবে রাষ্ট্রের মালিকদের মালিকানা সুদৃঢ় করা। শুধু নির্বাচনে জেতা দলের মানুষের নয়, এই মালিকানায় সকল দল, ব্যক্তি ও মতাদর্শ অন্তর্ভুক্ত হবে’, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতিতে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ লড়াই শুধু নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, এ লড়াই অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। এ লড়াই মুক্ত জীবনে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই।’

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ ডিসেম্বর ২০১৮/রেজা/ইভা

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge