ঢাকা, শনিবার, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে জাতিসংঘকে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১৩ ১২:৫৬:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-১৩ ১২:৫৬:৫৭ পিএম

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চলছেই। নিরীহ রোহিঙ্গাদের হত্যা, তাদের ঘরবাড়ি জালিয়ে দেওয়াসহ রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার বাহিনী। আরো উদ্বেগের বিষয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে উগ্র বৌদ্ধরাও রোহিঙ্গাদের হত্যার পাশাপাশি তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে।  জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত বলেছেন, রাখাইনে এক হাজারের বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

তবে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে তাদের বক্তব্য সত্যি হলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরো অনেক ভয়াবহ। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে চলে আসছে। সীমান্তে নাফ নদী পার হতে গিয়ে অনেকে ডুবে মারা যাচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালংসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৩৬তম অধিবেশনে মানবাধিকার বিষয়ক ইউএন হাইকমিশনার জায়িদ রা’দ আল হুসেইন বলেছেন, রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হচ্ছে। তিনি রাখাইনের পরিস্থিতিকে অন্ধকার ও বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, সেখানে যা চলছে তা জাতিগতভাবে নির্মূলের যথার্থ উদাহরণ। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা নিধনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় মিলিশিয়াদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

বস্তুতঃ রোহিঙ্গাদের ‘গণহত্যা’ চলছে, ‘জাতিগত নিধন’ চলছে- বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্তর্জাতিক মহলে এরকম কথা এখন প্রায় সবাই বলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর এই বর্বর অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। কাজাখস্তানে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা- ওআইসি’র বৈঠকে রোহিঙ্গা হত্যায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু টনক নড়ছে না শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি কিংবা সেখানকার শাসক বা সেনা কর্মকর্তাদের। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলছে তারা।

মিয়ানমার বলছে রোহিঙ্গারা নিজেরাই তাদের বাড়িঘরে আগুন লাগাচ্ছে। অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলছেন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ পলায়নরতদের গুলি করে মারার তথ্য-প্রমাণ ও স্যাটেলাইট চিত্র তাদের হাতে রয়েছে। বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিনিধি জোনাথন হেড বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে পুলিশের সামনেই রাখাইন বৌদ্ধদের আগুন লাগাতে এবং লুটপাট চালাতে তিনি নিজে দেখেছেন।

মূলতঃ রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার খেলছে প্রায় চার যুগ ধরে। আর এর প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়ছে বাংলাদেশের ওপর। বিপুলসংখ্যক শরণার্থী নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি চলমান থাকলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। এ সংকটের সমাধান এখন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে জাতিসংঘকে। মিয়ামনারকে বাধ্য করতে হবে অবিলম্বে হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে। তবে শুধু বিশ্বের প্রতি তাকিয়ে থাকলেই হবে না, নিজেদের গরজেই বৈশ্বিক ফোরামে আরো সরব হতে হবে আমাদেরও। জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে যাতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, সে জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক তত্পরতা চালাতে হবে। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনকভাবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায় এগিয়ে আসবে এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭/আলী নওশের

Walton
 
   
Marcel