ঢাকা, শনিবার, ১ পৌষ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

হতশ্রী ব্যাটিংয়ে আড়াল বোলিং পারফরম্যান্স

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৯ ৬:২৭:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-২০ ১১:০৭:৪৮ এএম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আশা দেখিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে উড়াল দিয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে সালমা খাতুনের দলকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও মেয়েরা নিজেদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা ছড়াতে পারেনি। তাইতো বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। বোলিং পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও আশা দেখিয়েছিল। কিন্তু হতশ্রী ব্যাটিংয়ে আড়াল বোলিং পারফরম্যান্স। ফিল্ডিং বরাবরের মতো ফিফটি-ফিফটি। তাইতো বিশ্বমঞ্চে প্রাপ্তির ঝুলিতে নেই কোনো অর্জন।

ছেলেরা যা করে দেখাতে পারেনি, মেয়েরা তা করে দেখিয়েছে। ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব ভুলিয়ে চলতি বছর বাংলাদেশ জিতেছিল এশিয়া কাপ। তাদের পারফর‌ম্যান্স এতটাই আশা জাগিয়েছিল যে, ধরে নেওয়া হয়েছিল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের চারটিতেই হার বাংলাদেশের। অথচ প্রতিটিতেই জয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারেনি একটি ম্যাচেও। যে হাসি নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাত্রা হয়েছিল, সেই হাসি হয়েছে মলিন। প্রতি ম্যাচ শেষে সালমাদের বিষন্ন আর বিমর্ষ মুখগুলো যেন বলে দিচ্ছিল পরাজয়ের আর্তনাদ।



রোববার নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচেও করুণ পরাজয়। পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র ফুটে ওঠে এ ম্যাচেও। বোলারদের নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থামে ১০৯ রানে। অথচ ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র ৭৯। ৩০ রানের পরাজয়।

প্রথম ম্যাচ থেকেই ব্যাটিংয়ের এ চিত্র। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০৬ আটকে দেয় বোলাররা। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব ছিল দেখেশুনে রান তোলার। কিন্তু ব্যাটিংয়ে সবকিছু ওলটপালট। সাধারণ ব্যাটিংটাও ভুলে অলআউট মাত্র ৪৬ রানে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা দলীয় সর্বনিম্ন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ২০ ওভারে বাংলাদেশের রান মাত্র ৭৬। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পায় ৩৯ বল হাতে রেখে। ব্যাটসম্যানদের দৈন্যদশা কাটেনি দ্বিতীয় ম্যাচে। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। এশিয়ার দুই জায়ান্টের লড়াই। বোলাররা দিয়েছিল জয়ের ভিত। শ্রীলঙ্কাকে আটকে রাখে শতরানের নিচে, ৯৭। অথচ ব্যাটিং ভুলে যাওয়া বাংলাদেশ অলআউট ৭২ রানে।



চার ম্যাচের কোনোটিতেই শতরান পেরুতে পারেনি বাংলাদেশ। এমন হতশ্রী ব্যাটিংয়ের দোষটা টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার ব্যাটারদের। দ্রুত রান তোলার জন্য জাহানারা আলমকে ওপরে ব্যাটিংয়ে পাঠায় টিম ম্যানেজমেন্ট। বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা জাহানারার ব্যাট হাসেনি কোনো ম্যাচে।

স্কোয়াডে সলিড ব্যাটসম্যান ছিলেন পাঁচজন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৯ রান ওপেনার আয়েশা রহমানের। সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৪। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ রান রুমানা আহমেদের। মিডল অর্ডারে ব্যাট করা রুমানার ভূমিকা আবার অলরাউন্ডার। ওই ওতটুকুই পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটারদের সাফল্য। এ ছাড়া উইকেট রক্ষক শামীমা (২১), সানজিদা (৪), ফারজানা (২৭) ও নিগার সুলতানার (২৬) পারফরম্যান্স তো যাচ্ছেতাই।

ব্যাটিংয়ে সেই পুরনো সমস্যা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সমস্যার নাম ডট বল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৬ (১৪.৪ ওভারে), ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮১, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৫ ও সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডট বল ৬৮টি। সব মিলিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে ডট বলই খেলেছে ২৮০টি। আর বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারির সংখ্যা না বললেই নয়। মোট ছয় ৪টি, ৩টি আয়েশার ব্যাট থেকে। অন্যটি জাহানারার ব্যাট থেকে। আর চার এসেছে মাত্র ১৫টি।



অথচ বোলিংয়ে কী দারুণ সাফল্য। দলটির মূলশক্তি আসলে স্পিন। স্পিনাররা যদি প্রতিপক্ষকে ধরে রাখতে পারে, সম্ভাবনা থাকে ম্যাচ জেতার। এমনটাই বিশ্বাস ছিল মেন্টর নাজমুল আবেদীন ফাহিমের। স্পিনাররা নিজেদের কাজটা ভালোমতোই করেছে। সাথে পেসার জাহানারাও। কিন্তু ফল আসেনি নিজেদের পক্ষে। জাহানারা ও সালমা পেয়েছেন ৬টি করে উইকেট। খাদিজা তুল কুবরা ৫টি, রুমানা পেয়েছেন ৪ উইকেট।

একটা সময় অংশগ্রহণই ছিল বড় সাফল্য। বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে কতটুকু পারছে, তা নিয়ে ছিল না মাথাব্যথা। কিন্তু সময়ের প্রবাহে এখন বেড়েছে প্রত্যাশা। এশিয়ার রাণী বাংলাদেশের মেয়েরা। তাদের মাথায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স যেন বলে দিচ্ছে আবার আড়াল হচ্ছেন নারীরা। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ ছিল বড় বার্তা। এরপর অনেক অনুশীলন, অনেক প্রস্তুতি, অনেক পরিকল্পনা হয়েছে। কিন্তু মূল মঞ্চে সব ওলটপালট।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ নভেম্বর ২০১৮/ইয়াসিন/আমিনুল/পরাগ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC