ঢাকা, রবিবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ঈদের ছুটিতে দেশসেরা স্থানের খোঁজে

আহসান রনি : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৭ ২:২৮:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-০৩ ৪:৪৭:৪৭ পিএম

আহসান রনি : পাহাড়, নদী, সমুদ্র, বন; প্রকৃতি যেন এদেশকে সৌন্দর্যের রানী বানিয়েছে। যারা ঘুরতে ভালোবাসেন, প্রকৃতির কাছে থাকতে চান তাদের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই রয়েছে দারুণ সব দর্শনীয় স্থান।

ঈদের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। ঈদের সময় এদেশের কিছু দর্শনীয় স্থান জমজমাট হয়ে ওঠে। আপনিও আপনার পরিবার নিয়ে এই ঈদে ঘুরে আসতে পারেন এসব দর্শনীয় স্থানগুলোর যেকোনো একটিতে।

 



বান্দরবান

বান্দরবান জেলা নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের জন্য বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং (১০০৩ মিটার) বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। এখানকার অন্য দুটি দর্শনীয় স্থান হলো চিম্বুক পাহাড় ও বগা লেক। বান্দরবান শহরের সবচেয়ে কাছের দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল ও মেঘলা। তবে বর্তমানে পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শহর থেকে প্রায় অর্ধশত কিলোমিটার দূরের নীলগিরি পাহাড়। এই জেলার অন্যতম নদী সাঙ্গু, যা সাংপো বা শঙ্খ নামেও পরিচিত। শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বালাঘাটায় রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধমন্দির। এছাড়া শহরের মধ্যেই রয়েছে জাদিপাড়ার রাজবিহার এবং উজানীপাড়ার বিহার। শহর থেকে চিম্বুকের পথে যেতে পড়বে বম ও ম্রো উপজাতীয়দের গ্রাম। প্রান্তিক হ্রদ, জীবননগর এবং কিয়াচলং হ্রদ আরো কয়েকটি উল্লেখ্য পর্যটন স্থান। রয়েছে মেঘলা সাফারী পার্ক, যেখানে রয়েছে দুটি সম্পূর্ণ ঝুলন্ত সেতু। সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণ, আপনার পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের জন্য হতে পারে একটি মনোহর অভিজ্ঞতা। ঢাকা থেকে সরাসরি বাস পাওয়া যাবে বান্দরবানের।

রাঙামাটি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই লেকের বুকে ভেসে থাকা ছোট্ট এই জেলা শহর আর আশপাশে সর্বত্রই রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় স্থান। রাঙামাটিতে ভ্রমণ করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, সাজেক, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝরনা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ঢাকা থেকে ইচ্ছে করলে সরাসরি রাঙামাটি আসতে পারেন। অথবা চট্টগ্রাম হয়েও আসা যায়। চট্টগ্রাম থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাঙামাটি প্রায় সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটার। ঢাকার কমলাপুর থেকে এস আলম, শ্যামলী ও ইউনিকসহ বিভিন্ন পরিবহনে যাওয়া যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন থেকে এক ঘণ্টা পরপর পাহাড়িকা বাস এবং প্রতি আধা ঘণ্টা পর বিরতিহীন বাস ছেড়ে যায় রাঙামাটির উদ্দেশে।

 



খাগড়াছড়ি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আর রহস্যময়তায় ঘেরা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা প্রকৃতিপ্রেমী, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় বা ভ্রমণবিলাসীদের জন্য আদর্শ স্থান। প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে এ জেলার আনাচে-কানাচে। জেলার বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য সবাইকে বিমোহিত করে। ঈদের ছুটিতে যদি একটু অ্যাডভেঞ্চার করে আসতে চান বা প্রকৃতির মাঝে ঘুরে আসতে চান তাহলে খাগড়াছড়ির বিকল্প নেই। এই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে তৈদুছড়া, আলুটিলা, আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ, দেবতার পুকুর, মহালছড়ি হ্রদ, শতায়ুবর্ষী বটগাছ, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, রিছাং ঝরনা, ভগবান টিলা, দুই টিলা ও তিন টিলা, মানিকছড়ি মং রাজবাড়ি, বনভান্তের প্রথম সাধনাস্থল, রামগড় লেক ও চা বাগান। রাজধানী ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আরামদায়ক বাস ছাড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১৫টি। সায়েদাবাদ, কমলাপুর, গাবতলী, ফকিরাপুল, কলাবাগান ও টিটি পাড়া থেকে টিকেট সংগ্রহ করে এস আলম, স্টার লাইন, শ্যামলী, সৌদিয়া ও খাগড়াছড়ি এক্সপ্রেসযোগে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে ট্রেনে ফেনী এসেও হিলকিং অথবা হিল বার্ড বাসে চড়ে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়।

সিলেট
বাংলাদেশের যে কয়েকটি অঞ্চলে চা-বাগান পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে সিলেট অন্যতম। সিলেটের চায়ের রঙ, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। রূপকন্যা হিসেবে সারা দেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। সিলেটে দর্শনীয় স্থান আগনিত। একবারে যা দেখে শেষ করা প্রায় অসম্ভব। এই ঈদে কয়েকটি দেখে আসতে পারেন। সিলেটে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে জিরো পয়েন্ট, মারি নদী, চা বাগান, খাসীয়া পল্লী, হযরত শাহজালাল (রাঃ) ও হযরত শাহ পরাণ (রাঃ) এর মাজার শরীফ, জৈন্তাপূর (পুরোনো রাজবাড়ী), মাধব কুন্ড ও পরীকুন্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গল চা বাগান, লাওয়াছরা বন, মাধব পুর লেক, লালাখাল, তামাবিল, হাকালুকি হাওড়, ক্বীন ব্রীজ, মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেবের বাড়ি, হাছন রাজা যাদুঘর, মালনী ছড়া চা বাগান, ড্রিমল্যান্ড পার্ক, আলী আমজাদের ঘড়ি, জিতু মিয়ার বাড়ি, মণিপুরী রাজবাড়ি, মণিপুরী মিউজিয়াম, ওসমানী শিশু পার্ক, হামহাম জলপ্রপাত, সাতছড়ি অভয়ারাণ্য বা রেমা উদ্যান; নাম যেন শেষই হতে চায় না। ঢাকা থেকে সরাসরি সিলেটের বাস পাবেন, ট্রেনেও যেতে পারেন। বলে রাখা ভালো উল্লেখিত বেশ কিছু পর্যটন স্পট সিলেটের পাশের জেলাগুলোতে পরেছে।

 



কক্সবাজার

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বসেরা সমুদ্রসৈকত। ১২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এ সমুদ্র সৈকতের বৈশিষ্ট্য হলো সৈকতটি বালুকাময়, কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বালিয়াড়ি সৈকতসংলগ্ন শামুক ঝিনুক নানা প্রজাতির প্রবালসমৃদ্ধ বিপণি বিতান, অত্যাধুনিক হোটেল মোটেল কটেজ, নিত্য নব সাজে সজ্জিত বার্মিজ মার্কেটসমূহে ঈদের সময় পর্যটকদের বিচরণে কক্সবাজার শহরে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এই ঈদে এই জেলার আরো কয়েকটি জায়গা ঘুরতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে- হিমছড়ি, অগ্মমেধা কেয়াং বা মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির, রামু বৌদ্ধ বিহার, বৃহত্তম রাবার বাগান, ইনানী বীচ, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, ছেঁড়াদ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ ইত্যাদি। ঢাকা থেকে বাসে, ট্রেনে বা বিমানে; যেকোনো ভাবেই যেতে পারেন কক্সবাজার। ট্রেনে গেলে চট্টগ্রাম থেকে আবার বাসে যেতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো ঈদের এই সময়ে পর্যটকদের প্রচুর ভিড় থাকে তাই আগে থেকেই হোটেল বুকিং করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সুন্দরবন
ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন বাংলাদেশের গর্ব সুন্দরবনে। সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের পাশে সাগরের মাঝে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। সুন্দরবনে রয়েছে বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর জায়গা। এর মধ্যে রয়েছে হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, শরণখোলা, ছালকাটা, টাইগার পয়েন্ট টাওয়ার, টাইগার পয়েন্ট সি বিচ, জামতলা সি বিচ, সাত নদীর মুখ, কালীরচর উল্লেখযোগ্য। হিরনপয়েন্ট যার প্রকৃত নাম নীলকমল। এখানে রয়েছে বন বিভাগের সুন্দর অফিস, মিঠাপানির পুকুর ও পুকুরপাড়ের পাশেই ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়াও ঘুরে আসতে পারেন দুবলার চরে। বঙ্গোপসাগরের এ দ্বীপটি পরিচিত শুঁটকিপল্লী হিসেবে। প্রতি বছরই বিভিন্ন স্থান থেকে জেলেরা মাছ ধরার মৌসুমে এ দ্বীপে অস্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করে সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে এবং তা থেকে শুঁটকি বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে। সুন্দরবন যেতে হলে ঢাকা থেকে সরাসরি চেয়ার কোচে মংলা বন্দরের পর্যটন ঘাটে পৌঁছে যেতে পারেন। সেখান থেকে চেয়ার কোচ বা ট্রেনে খুলনা গিয়ে কোনো আবাসিক হোটেলে রাত কাটাতে পারেন। পর দিন খুলনা জেলখানাঘাট থেকে লঞ্চে চলে যেতে পারেন সুন্দরবন। সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে প্রবেশ করতে চাইলে খুলনা কিংবা মংলা থেকে নৌপথে যেতে হবে। মংলার কাছাকাছি ঢাইনমারীতে রয়েছে বনবিভাগের কার্যালয়। সেখানেই সুন্দরবনে প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা বা বিধিমালা শেষ করতে হবে। সুন্দরবনে এখন ক্রুজেরও আয়োজন করা হয়, চাইলে এরকম একটি ক্রুজেও অংশ নিতে পারেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ জুন ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Walton