ঢাকা, সোমবার, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ভাইকে ফ্রিজ দিয়ে নিজেই পেলেন লাখ টাকার ভাউচার

অদিত্য রাসেল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৫ ৭:৪৫:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-২৫ ৯:৫২:৫৬ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : বাবা ছোট ভাইকে ফ্রিজ কিনে দিয়ে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ভাইকে ফ্রিজ কিনে দেওয়ার আগেই গত ১৫ ডিসেম্বর বাবা মারা যান। বাবার অসমাপ্ত কাজটা করতে রাজশাহী থেকে ছুটিতে আসেন বড় ভাই আল-আমিন। বাড়িতে এসে ছোট ভাইয়ের বউকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে এসে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটনের ফ্রিজ কেনেন। তাতেই পেয়ে গেলেন লাখ টাকা ক্যাশ ভাউচার।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসারটিয়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে আল-আমিন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনিই বড়। বিয়ে করে রাজশাহীর সারদা উপজেলার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

আল-আমিন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমাকে মা-বাবা সবার চাইতে একটু বেশি ভালোবাসতেন। আমি এখন বড় হয়েছি। চাকরিও করছি। ঋণ শোধের পালা এসেছে। সিদ্ধান্ত নিলাম বাবার কথা রাখতে ছোট ভাইকে একটি ফ্রিজ কিনে দেব।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাসায় ওয়ালটনের ফ্রিজ ও ২৮ ইঞ্চির একটি ওয়ালটন এলইডি টিভি আছে। পিকচার কোয়ালিটি ভালো। সাউন্ডও বেশি। সব মিলে ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। তাই ভাবলাম ছোট ভাইকেও একটি ফ্রিজ কিনে দিই। এ কথা সে জানতে পেরে খুব খুশি হয়েছিল। একইসঙ্গে সে আমাকে বিদেশি কোনো কোম্পানির ফ্রিজ কেনার ব্যাপারে মত দেয়। কিন্তু আমি দেশকে ভালোবাসি। তাই দেশীয় পণ্য ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে দিই।’

আল-আমিন বলেন, ‘আগে থেকেই আমার সিদ্ধান্ত ঠিক করা ছিল। শুধু কেনার পালা। আমার কর্মস্থল রাজশাহী। সেখান থেকে ওয়ালটনের কয়েকটি শো-রুমে গিয়ে ফ্রিজ দেখেছি, কিন্তু কিনিনি। সোমবার সকালে ছুটিতে আসি আমার জন্মভূমি সিরাজগঞ্জে। ছোট ভাইয়ের বউকে সঙ্গে নিয়ে শহরের এস এস রোডের ওয়ালটন প্লাজা-১ এর শো-রুম থেকে ফ্রিজটি কিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমিই প্রথম কাস্টমার। অনেক যাচাই-বাছাই করে ২২ হাজার ৯৯০ টাকা দিয়ে ১১ সিফটি একটি ফ্রিজ কিনি। এরপর নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করি। কী ভাগ্য আমার। ভাইয়ের জন্য মাত্র ২২ হাজার ৯৯০ টাকায় ফ্রিজ কিনে নিজেই পেলাম ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। ওয়ালটনের এই উপহার আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। বাবার কাজটা করার জন্যই আল্লাহ আমার ভাগ্যে এমন উপহার রেখেছিলেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আমার সকল আত্মীয়-স্বজনও খুশি। তবে বেশি খুশি আমার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী।’

ক্যাশ ভাউচারের টাকা দিয়ে কী কী পণ্য নিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল মা-বাবার কথা রাখার। তাই দ্বিতীয় চিন্তা না করেই লাখ টাকার এ পুরস্কার দিয়ে মায়ের জন্য একটি ২৮ ইঞ্চির এলইডি টিভি, মোবাইল, স্টান্ড ফ্যান, মামার জন্য মোবাইল, ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর জন্য ব্লেন্ডার, আয়রন মেশিন, ছোট ভাইয়ের জন্য একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার নিয়েছি। এর জন্য আল্লাহর দরবারে হাজার হাজার শুকরিয়া। ওয়ালটনকেও ধন্যবাদ।’

ওয়ালটন ফ্রিজ কেনার বিষয়ে আল-আমিন বলেন, ‘এক সময় আমরা যেসব পণ্য বিদেশ থেকে কিনতাম, এখন সেসব পণ্য বিদেশিদের কাছেই বিক্রি করছে ওয়ালটন। টিভি, ফ্রিজ, এসি, মোবাইলফোন সেট ও মোটরসাইকেলের মতো ভারী ও দামি পণ্য আমাদের দেশেই তৈরি হচ্ছে। তাই আর বিদেশি নয়, দেশে উৎপাদিত পণ্যই ব্যবহার করব বলে সিদ্ধান্ত নিই। তা ছাড়া আমি দেশকে ভালোবাসি। দেশের উন্নতি মানে তো আমারও উন্নতি।’

সিরাজগঞ্জ ওয়ালটন প্লাজা-১ এর ম্যানেজার রাশেদুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘ক্রেতাদের দোরগোড়ায় অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করেছে ওয়ালটন। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। ওয়ালটন প্লাজা এবং পরিবেশক শোরুম থেকে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার এই সুযোগ থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।’

ক্যাশ ভাউচার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাইজিংবিডির সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক কলম সৈনিকের বিশেষ প্রতিনিধ অদিত্য রাসেল, দৈনিক যুগের কথার সাংবাদিক হুমায়ুন কবির সুমন, যমুনা প্রবাহের সুজন সরকার, আজকের সিরাজগঞ্জের আশরাফুল ইসলাম এবং ওয়ালটনের সেলসম্যান নজরুল ইসলাম, পলাশ, শাহিন, হাফিজুর রহমান, ইয়াকুব আলী প্রমুখ।




রাইজিংবিডি/সিরাজগঞ্জ/২৫ ডিসেম্বর ২০১৭/অদিত্য রাসেল/সাইফুল

Walton Laptop
 
     
Walton