ঢাকা, বুধবার, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘মা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন’

জাকির হুসাইন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৮ ৪:৫৬:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-০৮ ৫:৩৭:১৭ পিএম
ওয়ালটনের লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পেয়ে দারুণ খুশি মো. ডালিম মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘টিভি, ফ্রিজের মতো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের সাধ ছিল মায়ের। কিন্তু অভাবের কারণে এবং কারেন্ট না থাকায় মায়ের সাধ পূরণ করতে পারিনি। আজ যখন ভাগ্যের জোরে সেই সব পণ্যে আমাদের ঘর ভরেছে। তখন মা আর আমাদের মাঝে নাই। আজ মা যদি দুনিয়াতে থাকতেন, তাহলে তিনিই মনে হয় সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।’

কথাগুলো মো. ডালিম মিয়ার। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থানার ঘুবদিঘী ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের বাসিন্দা তিনি। স্থানীয় বাজারে তার একটি চায়ের দোকান আছে। সেই দোকানের জন্য গত ২ জানুয়ারি ওয়ালটন টেলিভিশন কিনে লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পান ডালিম।

চা বিক্রেতা মো. ডালিম মিয়া বলেন, ‘বাড়িতে টিভি-ফ্রিজ দূরের কথা, ইলেক্ট্রনিক্স কোনো পণ্যই ছিল না। এতদিন কেনার চেষ্টাও করি নাই। কারণ গ্রামে কারেন্টই যে ছিল না। গত ডিসেম্বরে গ্রামে কারেন্ট আসে। তাই প্রথমে দোকানের জন্য একটি টিভি কিনতে চাই। কারণ টিভি থাকলে বেশি কাস্টমার আসে। বেচা-বিক্রিও বাড়ে।

ডালিম বলেন, ‘আমার দোকানে প্রতিদিন অনেক ক্রেতা আসে। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কোন কোম্পানির টিভি কিনবো। সবাই বলেছে ওয়ালটন টেলিভিশন ভালো। তাছাড়া শুনতে পাই এই কোম্পানির জিনিস কিনলে উপহার রয়েছে। যদি লেগে যায়! এই চিন্তা থেকে নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনেই টাকা নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের ওয়ালটন প্লাজাতে যাই। সেখান থেকে দেখে শুনে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ২৪ ইঞ্চি সাইজের একটি এলইডি টিভি পছন্দ করে কিনি।’

তিনি বলেন, ‘টিভি কেনার পর আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে শোরুমের কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রেশন করে দেন। কি উপহার পাবো জানতে চাইলে তারা বলেন, আমার মোবাইলে ম্যাসেজ যাবে। তাতে জানা যাবে। আমি ধরে নিয়েছিলাম কিছুই পাবো না।’

ডালিম বলেন, ‘উপহার না পাই তাতে কি। নতুন টিভি কিনেছি। দোকানে শত শত লোক দেখবে এটা ভেবেই আনন্দ লাগছিল। তাই কেনা টিভিটি নিয়ে বাড়ি যাই। বাড়িতে যাওয়ার পর আর বেশি দেরি করি নাই। টিভি নিয়ে সোজা দোকানে যাই। সবকিছু ঠিক ঠাক করে চালুও করি। সাথে সাথে এটা দেখতে অনেক মানুষ আসেন দোকানে। আমিসহ সবার মধ্যে ব্যাপক আনন্দ।’

তিনি বলেন, ‘আমার এই আনন্দের মাত্রা আরো শত শত গুণ বাড়িয়ে দেয় ওয়ালটনের একটি ফোনে। ওই সময় শোরুম থেকে ফোন করে জানানো হয়, আমি নাকি এক লাখ টাকার উপহার পেয়েছি। তাদের কথায় আমার বিশ্বাস হয়নি। তখন শোরুম থেকে বলা হয় আমার মোবাইলে ম্যাসেজ এসেছে সেটা চেক করতে।’

ডালিম বলেন, ‘আমি ম্যাসেজ পড়তে না পারলেও সেই সময় পড়ার লোকের অভাব ছিল না। তাদের মধ্যে একজন ম্যাসেজ পড়ে জানায় কথা সত্য। এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার লেখা আছে। তারপরও আমার বিশ্বাস আসে না। মাত্র সাড়ে ১৪ হাজার টাকার টিভি কিনে এক লাখ টাকা উপহার! আমার মতো গরিব মানুষের তা বিশ্বাস করতেই তো কষ্ট হয়।’

মো. ডালিম মিয়ার হাতে ওয়ালটনের লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার ও অন্যান্য পণ্য তুলে দেওয়া হচ্ছে


তিনি জানান, ‘ওয়ালটন কর্মকর্তাদের কথা মতো এর দুই দিন পরে ওই শোরুমে যাই। গিয়েই চমকে যাই। আমাকে বরণ করার জন্য সুন্দরভাবে শোরুম সাজিয়েছে। শোরুম লোকে ভর্তি। এটা দেখে আমি ভয় পাই। কি হচ্ছে ভেবে ভয়ে কাঁপতে থাকি। আর যখন পুরস্কার তুলে দিচ্ছিল তখন শরীরের কাঁপন আরো বেড়ে যায়। আমি মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলি। আনন্দে কোনো কথাই আমি বলতে পারছিলাম না।’

ক্যাশ ভাউচারের টাকা দিয়ে নতুন করে কি কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এক লাখ টাকা অনেক টাকা। তাই এই টাকা দিয়ে ঘর ভর্তি পণ্য নিয়েছি। এর মধ্যে আছে ২টা ফ্রিজ। একটা বাড়ির জন্য। আরেকটা দোকানের জন্য। আরো ২টা এলইডি টিভি। একটা উপহার দেবো। একটা বাড়ি রাখবো। এছাড়া রাইস কুকার, পেসার কুকারসহ মোট ৯টি আইটেমের পণ্য নিয়েছি।’

ডালিম বলেন, ‘মা অনেক কষ্টে আমাদের ৬ ভাইকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। আমি সবার বড় হওয়ার কারণে মায়ের প্রায় সব অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে জানতাম। গত সাত বছর আগে আমাদের এতিম করে মা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। টিভি-ফ্রিজের অনেক শখ ছিল তার। কিন্তু বাড়ির জন্য টিভি-ফ্রিজের কথা কল্পনাও করি নাই। দোকানে বেচা-বিক্রি ভালো হবে তাই কষ্ট করে টিভিটা কিনি। কিন্তু কপাল জোরে মিলেছে এক লাখ টাকার পুরস্কার। তাতেই আমাদের খালি ঘর এখন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যে ভরে গেছে। কিন্তু এদিনটি আমার মা দেখতে পারলেন না। তিনি বেঁচে থাকলে আজ অনেক খুশি হতেন।’

তিনি বলেন, ‘যে ওয়ালটন আমার জন্য এতকিছু করলো তার জন্য আমি মন খুলে দোয়া করছি। আমার মতো গরিব মানুষ মাত্র ১৪ হাজার ৫০০ টাকার টিভি কিনে ঘর ভর্তি পণ্য পেলাম। এতে আমি, আমার বাবা, স্ত্রী, ভাইয়েরাসহ এলাকাবাসী ব্যাপক খুশি। আমার এ ঘটনায় সবাই এখন ওয়ালটন পণ্য কিনতে আগ্রহী। কিভাবে পুরস্কার পাওয়া যাবে তা জানতে আমার দোকানে সবাই ভিড় করছেন।’

উল্লেখ্য, ক্রেতাদের দোরগোড়ায় অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করেছে ওয়ালটন। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। ওয়ালটন প্লাজা এবং পরিবেশক শোরুম থেকে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার এই সুযোগ থাকবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ জানুয়ারি ২০১৮/অগাস্টিন সুজন/সাইফ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC