ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ ফাল্গুন ১৪২৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

‘বিশ্বাস করে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনেই লাখ টাকা পেলাম’

জাকির হুসাইন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৩ ১২:১২:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-২৩ ৫:২৪:৪৩ পিএম
আবেদা বেগম এবং তার মামাতো ভাইয়ের হাতে ওয়ালটনের লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার ও অন্যান্য পণ্য তুলে দেওয়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘কেনার আগে অনেকের কাছে জিজ্ঞাসা করেছি কোন কোম্পানির ফ্রিজ ভালো হবে। সবাই একবাক্যে বলেছে ওয়ালটনের কথা। সবার কথায় বিশ্বাস করেই ওয়ালটন ফ্রিজ কিনি। কী ভাগ্য আমার! শুরুতেই চমক! প্রথম বার ওয়ালটনের একটি ফ্রিজ কিনেই পেয়েছি এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। সত্যি কি যে আনন্দ লাগছে তা ভালোভাবে বলে বুঝাতে পারছি না।’

ওপরের কথাগুলো বলতে বলতে আনন্দে কেঁদে ফেলেন আবেদা বেগম। ফরিদপুর সদর থানার কৈজুরি ইউনিয়নের ঘোড়াদা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। কানাইপুর ওয়ালটন প্লাজা থেকে গত ১৫ জানুয়ারি ফ্রিজ কিনে লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পান আবেদা।

ওয়ালটনের এই ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার স্বামী ৬ বছর ধরে ওমানে কাজ করছেন। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ফরিদপুর সদরে ভাড়া বাসায় থাকেন। স্থানীয় স্কুলে ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। নিজেও পাশের একটি হাসপাতালে নার্সের চাকরি করেন।

তিনি জানান, নার্সের কাজ এবং ছেলে-মেয়ের দেখাশোনা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। ঘরে ফ্রিজও নেই। এই ভাবেই কষ্ট করে দিন পার করছেন। তবে আর সম্ভব হচ্ছিল না। তিনি সিদ্ধান্ত নেন একটি ফ্রিজ কেনার। কিন্তু কি ফ্রিজ বা কোন কোম্পানির ফ্রিজ কিনবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। কারণ তিনি চান একটি ভালো ফ্রিজ। আবার সেটি হবে দামেও কম। থাকবে কিস্তির সুবিধাও। কারণ একসঙ্গে পুরো টাকা দিয়ে ফ্রিজ কেনা তার পক্ষে সম্ভব না।

তাই বিভিন্ন জনের কাছে খোঁজ নেওয়া শুরু করেন আবেদা। তিনি জানান, যত জনের কাছে শুনেছেন, তাদের বেশিরভাগই ওয়ালটন ফ্রিজ কেনার কথা বলেছেন। কারণ ওয়ালটনই সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের ফ্রিজ দেয়। তাদের কিস্তি সুবিধাও আছে।

আবেদা বলেন, ‘সবার কথা শুনে ঠিক করি ওয়ালটন ফ্রিজ কিনবো। স্বামী বিদেশে থাকায় গত ১৫ জানুয়ারি মামাতো ভাই মো. ওয়াহিদ শেখ ও আমার ছোট মেয়েকে সাথে নিয়ে কানাইপুরের ওয়ালটন প্লাজাতে যাই। সেখান থেকে দেখে শুনে ১১ সিএফটি সাইজের একটি ফ্রিজ পছন্দ হয়। দাম পড়ে ২৫ হাজার ৫৬ টাকা। এর মধ্যে ৮ হাজার টাকা নগদ দিয়ে ফ্রিজটি কিনি। বাকি টাকা ৬ মাসের কিস্তিতে পরিশোধ করবো।’

তিনি বলেন, ‘ফ্রিজ কেনার আগে প্লাজার কর্মকর্তারা আমাদের জানান, ওয়ালটন ফ্রিজ বা যে কোনো পণ্য কিনলে ২০০ টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত উপহার পাওয়ার সুযোগ আছে। তবে পণ্যের দাম ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে হবে। ফ্রিজ কেনার পর এই অফারে অংশ নেওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া প্লাজার কর্মকর্তারাই করে দেন। আমার সাথে থাকা মামাতো ভাইয়ের মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানা ব্যবহার করে মেমো ও রেজিস্ট্রেশন করি।’

আবেদা বলেন, ‘এর কিছুক্ষণ পরই ঘটলো আশ্চর্য ঘটনা। যা বিশ্বাস করা কঠিনই। আমার ভাই ওয়াহিদ শেখের মোবাইলে এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার মেসেজ আসে। লাখ টাকা উপহারের খবর ওই প্লাজাসহ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। সবাই আনন্দ উল্লাস করতে থাকেন। তাদের সাথে সাথে আমিও আনন্দ উল্লাস করেছি। ফোনে মা-বাবা, স্বামী ও আমার ভাইদের জানাই। এরপর সব আত্মীয় স্বজন জানতে পারে। সবাই মহাখুশি।’

ক্যাশ ভাউচারের এ টাকা দিয়ে কি কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাসায় টিভিসহ কিছু জিনিস আছে ঠিকই, কিন্তু তার কোনোটি ওয়ালটনের ছিল না। তাই লাখ টাকা ভাউচার দিয়ে বেশি দরকারি এমন পণ্যের মধ্যে থেকে ১৫টি আইটেমের পণ্য নিয়েছি। এর মধ্যে আছে ১টা ফ্রিজ, ১টা টিভি, ৫টা মোবাইল, ২টা ব্লেন্ডার, রাইস কুকার ও প্রেসার কুকার। এর মধ্যে ২টা মোবাইল সাথে থাকা ভাইটিকে উপহার দিয়েছি। এছাড়া আমার মা, ছোট ভাই ও বোনকে একটা করে মোবাইল দিয়েছি। ফ্রিজটি গ্রামের বাড়িতে মার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

ওয়ালটন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো ওয়ালটন পণ্য ব্যবহার শুরু করেছি। তবে বিভিন্ন মানুষের মুখে এই কোম্পানি নিয়ে ভালো কথা শুনেছি। ওয়ালটন পণ্যের কথা এখন সবার মুখে মুখে। আমার এই উপহার পাওয়ার পর থেকে অনেকেই ওয়ালটনের জিনিস কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। এমনকি আমার ছোট বোনসহ আরো ২ জন ফ্রিজ কেনার জন্য আমার কাছে এসেছেন। আগামী সপ্তাহে তাদের নিয়ে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে দিতে যাব।’

আবেদা বেগম আরো বলেন, ‘সবাই যেটা ভালো বলে আসলেই তা ভালো হয়। ওয়ালটন দেশবাসী সবার আস্থার কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক, আমি এটা মনে প্রাণে চাই। ওয়ালটনের নতুন এই অফার খুবই সময় উপযোগী। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় কর্তৃপক্ষকে আমি অনেক ধন্যবাদ জানাই।’

উল্লেখ্য, ক্রেতাদের দোরগোড়ায় অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করেছে ওয়ালটন। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। ওয়ালটন প্লাজা এবং পরিবেশক শোরুম থেকে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার এই সুযোগ থাকবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ জানুয়ারি ২০১৮/অগাস্টিন সুজন/সাইফ

Walton
 
   
Marcel