ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

অনুদান নয় ইইউ চায় বাণিজ্য সম্পর্ক, বসছে যৌথ সভা

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২০ ১০:১৬:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২১ ৮:২০:৪৫ এএম

কয়েক বছর আগেও উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে বাংলাদেশ বৈঠক করত অনুদান এবং উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তার ফিরিস্তি নিয়ে। বাংলাদেশ এখন মধ্যম-আয়ের দেশের পথে। তাই পারষ্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাকে প্রাধান্য দেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথ কমিশনের অনুষ্ঠিতব্য নবম সভাতেও বিদ্যমান সহযোগিতার সম্পর্ক বিস্তৃত ও জোরদারকরণের লক্ষ্যে আলোচনা হবে।

ইইউয়ের বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন আর অনুদান নির্ভরশীল দেশ নয়। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা যৌথ কমিশনের চুক্তিতে বড় পরিবর্তন চায় ইইউ। তারা চায় অনুদান থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্বের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যেতে। আসন্ন এই যৌথ সভায় তাই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচ্য সূচি  নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সরকারের ঊচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, যৌথ কমিশনের এই সভাকে সামনে রেখে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে নতুন চুক্তির কথা বলছে ইইউ। এতে ইইউ ফোকাল মন্ত্রণালয় হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চাইছে। এতদিন বিষয়টি দেখভাল করতো সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। আসন্ন এই সভাও ইআরডি’র তত্ত্বাবধায়নেই হতে যাচ্ছে। তবে সভায় ফোকাল মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ধারণের বিষয়টি ছাড়াও ইইউ’র কাছ থেকে নতুন যৌথ কমিশনে নিরাপত্তা, মানবাধিকার, সুশাসন, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ অন্যান্য বিষয় যোগ করার প্রস্তাব আসে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ৮টি এজেন্ডা সম্পর্কে জানা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যু।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে তার একটি খতিয়ান তৈরি করেছে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়। বিষয়টি সমন্বয় করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোর পাবে প্রত্যাবাসন বিষয়টি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ যেন অব্যাহত রাখা হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সভায় ইইউকে অনুরোধ জানানো হবে।

পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গা ইস্যুতে কীভাবে সহায়তা করতে পারে তা জানতে চাইতে পারে বাংলাদেশ। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগীরা কীভাবে মানবিক বিষয়টি উপলব্ধি করছে তাও জানতে চাওয়া হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে।

যৌথ কমিশন সভায় এরপরেই গুরুত্ব পাবে- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সরকারের করণীয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ইস্যুটি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে গেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ-ইউরোপীয় কমিশনের যৌথ সভায় স্থান পাবে এমন অন্য ইস্যুগুলোর মধ্যে থাকবে- বিনিয়োগ, টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, নারী ও শিশু নির্যাতন, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা, অভিবাসন, আঞ্চলিক সহযোগিতা, বিমান পরিবহনে নিরাপত্তা। এছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি-২ সভাকক্ষে সোমবার সকাল ৯টায় এই যৌথ কমিশন সভা শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ এ যৌথ কমিশন সভায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং ইইউ’র পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পামপালোনি।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় গত বুধবার ইইউ ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার সম্পর্ক বিস্তৃত ও জোরদারকরণের লক্ষ্যে সুশাসন ও মানবাধিকার বিষয়ক সাব-গ্রুপের নবম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায়, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন ইইউ প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। এছাড়া সু-শাসন ও মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সাধিত অগ্রগতি স্থায়ী রূপদান করার ব্যাপারে ইইউ প্রতিনিধিরা সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে ইইউকে জানোনো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতার প্রশ্নে মিয়ানমার হতে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছেন। বাংলাদেশে অবস্থিত মিয়ানমারের নাগরিকরা পরিবেশ, প্রতিবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ যে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে তা দীর্ঘায়িত হলে এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিঘ্নিত হবে।

সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক রাইজিংবিডিকে বলেন, ইইউ ও বাংলাদেশের মধ্যে সুশাসন ও মানবাধিকার বিষয়ক সাব-গ্রুপের নবম সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিল একটি ফলপ্রসূ বৈঠক।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বমানবতার জন্য  লজ্জাজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। সভায় মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দ্রুত ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ইইউ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহসহ সবার সমর্থন চাওয়া হয়। যৌথ কমিশন সভার আলোচ্য বিষয় এরই মধ্যে নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। আশা করছি যৌথ কমিশন সভাও ফলপ্রসূ হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে সই করা ‘কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন পার্টনারশিপ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ চুক্তির আওতায় প্রতি বছর বাংলাদেশ ও ইইউ যৌথ কমিশনের বৈঠকে অংশ নেয়। বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে সর্বশেষ অর্থাৎ ৮ম যৌথ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 


ঢাকা/হাসান/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন