ঢাকা, সোমবার, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

অসম্ভবকে সম্ভব করার চ্যালেঞ্জ

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৭ ৬:১৯:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-০৭ ৮:৩৯:৫০ পিএম

চট্টগ্রাম থেকে ইয়াসিন হাসান : হুট করে জহুর আহমেদ ডুবে গেল অন্ধকারে। আকাশে কালো মেঘ।  সাথে বিদ্যুৎ বিভ্রাট।  খানিকবাদে এক পাশলা বৃষ্টি।  এমন সুন্দর পড়ন্ত বিকেল যে কারোরই মন নরম করে দেবে।  হৃদয়ে ভালোবাসা জাগাবে।  তীর্থে এমন সুখ আর কোথায় আছে! কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টের স্কোরবোর্ড দেখলে বাংলাদেশিদের হৃদয়ে হবে রক্তক্ষরণ। কেন-ই বা হবে না? দল তো ডুবে আছে অন্ধকারেই। 

একশরও বেশি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আফগানিস্তানের মতো পুচকে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশ এমন নাকানিচুবানি খাবে তা কল্পনাতেও আনতে পারেননি কেউ। মূল কথা টেস্টের তিনদিন আফগানিস্তান টেস্ট শেখাল বাংলাদেশকে। সাদা পোশাকে কিভাবে পারফর্ম করতে হবে তা বুঝিয়ে দিয়েছে রশিদ খান, আসগর আফগানরা।

প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের ৩৪২ রানের জবাবে বাংলাদেশ অলআউট ২০৫ রানে। ১৩৭ রানে এগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সফরকারীরা দিনের শেষ পর্যন্ত তুলেছে ৮ উইকেটে ২৩৭ রান। টোটাল লিড ৩৭৪ রান। শেষ দুই উইকেটে আফগানিস্তান স্কোরবোর্ডে আরও যত রান যোগ করবে বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও বড় হবে। প্রশ্ন একটাই, টেস্টের ভবিষ্যৎ কী?

ইতিহাস বলছে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের রেকর্ড তলানিতে।  মাত্র তিনটি টেস্ট জিতেছে চতুর্থ ইনিংসে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২১৫ রান তাড়া করে জিতেছিল সাকিবের দল। ২০১৭ সালে কলম্বোতে শততম টেস্টে মুশফিকের সেঞ্চুরিতে জিতেছিল ১৯১ রান তাড়া করে।  আর ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের ১০১ রানের টার্গেট টপকে গিয়েছিল বাংলাদেশ।  এ ফরম্যাটে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ৪১৩। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকায় ওই রান করেছিল।  কিন্তু ম্যাচটা জেতেনি বাংলাদেশ।  আরও দুইবার তিনশর বেশি রান করেছিল বাংলাদেশ।  ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩১ এবং একই বছর ভারতের বিপক্ষে করেছিল ৩০১ রান।  দুটোই চট্টগ্রামের মাটিতে।

আফগানস্তিানের লিড এরই মধ্যে ৩৭৪ হয়ে গেছে। চারশ হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বাংলাদেশকে এ টেস্ট বাঁচাতে হলে অভাবনীয় কিছু করতে হবে।  নয়তো আফগানিস্তান নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবথেকে বড় সাফল্য পেয়ে যাবে বন্দরনগরীতে।

দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে ছিলেন মোসাদ্দেক ও তাইজুল। আগের রাতে বাংলাদেশকে বড় কিছুর সম্ভাবনা দেখানো এ জুটি বেশিক্ষণ টেকেনি। কোনো রান যোগ না করে তাইজুল বোল্ড হন নবীর বলে। এরপর নাঈমকে এলবিডব্লিউ করে রশীদ খান তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট।  আগের দিনের ১৯৪ এর সঙ্গে বাংলাদেশ আজ যোগ করে ১১ রান।  দারুণ ব্যাটিং করা মোসাদ্দেক অপরাজিত থাকেন ৪৮ রানে।

গতকালই সাকিব বলেছিলেন প্রয়োজন ম্যাজিকাল কিছু।  নতুন বলে প্রথম ওভারে সাকিবের পকেটে দুই উইকেট। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রহমত শাহর আগে সাকিবের শিকার এহসানউল্লাহ। শুরুতেই দুই উইকেট তুলে বাংলাদেশকে মনে হচ্ছিল উজ্জ্বীবিত।  আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের পাশাপাশি দারুণ ফিল্ডিং সেট আপে আফগানদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। কিন্তু দারুণ ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান সেই দেয়াল ভাঙেন।  উইকেটের আশায় সাকিব ১৩তম ওভারে বোলিংয়ে আনেন নাঈমকে। ডানহাতি অফস্পিনার নিজের দ্বিতীয় ওভারে তুলে নেন হাসমতউল্লাহ শাহিদির উইকেট।  বল মিডল স্ট্যাম্পে পিচ করিয়ে শার্প টার্ন পায়।  ব্যাটের আলতো চুমু পেয়ে বল যায় সৌম্যর হাতে।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে তিন উইকেট তুলে বাংলাদেশ কিছুটা লড়াইয়ে ছিল। কিন্তু পরের দুই সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশা বাড়ান আসগর আফগান, ইব্রাহিম জারদান। দুজন চতুর্থ উইকেটে ১০৮ রানের জুটি গড়ে লিড তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যান। হাফ সেঞ্চুরির পর আসগর আফগানকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন তাইজুল।  প্রথম ইনিংসে ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হওয়া আসগর এবার থামেন ৫০ রানে।

ওপেনার ইব্রাহিম জারদান সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নিজের ভুলে ১৩ রানের আক্ষেপে পুড়েন। নাঈমকে তুলে মারতে গিয়ে ৮৭ রানে ক্যাচ দেন মুমিনুলের হাতে লং অফে। এরপর মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খানকে ফেরান মিরাজ ও তাইজুল।  ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ইনিংস খেলতে নেমে নবী করেন ৮ রান। আর রশিদ খান ছয় চারে ২৪ রান তুলে তাইজুলের বলে বোল্ড হন।  নতুন বল নিয়ে সাকিব আক্রমণে ফিরে কায়েস আহমেদকে এলবিডব্লিউ করেন।

এরপর অন্ধকারে ডেকে যায় জহুর আহমেদ।  বৃষ্টির বাধায় ১৭ মিনিট আগে শেষ হয় দিনের খেলা।  এমন বাজে দিন কাটানোর পর খেলোয়াড়দের পা গুলোও যেন থমকে গিয়েছিল।  চোখেমুখে বিষন্নতা প্রত্যেকের।  হয়তো ভয় পাচ্ছে, ‘পশ্চিমের ডুবন্ত সূর্য সঙ্গে ম্যাচটাও হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে।’ ফিরে আসার অনেক নজির আছে নিকট অতীতে। কুশল পেরেরা অভাবনীয় এক ইনিংস খেলে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। বেন স্টোকসের ইনিংসটি তো এখনও তরতাজা।  কে হবে বাংলাদেশ ‘পেরেরা, স্টোকস’।  দায়িত্বটা মুমিনুল, সাকিব, মুশফিকদের কাউকে নিতেই হবে।  নয়তো সাদা পোশাখের ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে উঠবে প্রশ্ন।


রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ইয়াসিন/আমিনুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন