ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১০ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

অ্যালিয়েনের খোঁজে সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপ

মোখলেছুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-০৩ ১১:৪৮:২৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৫-০৩ ১১:৫৪:৪২ এএম

মোখলেছুর রহমান : মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সম্প্রতি এমন এক টেলিস্কোপ উন্মোচন করেছে, যা কিনা দেখতে অনেকটা বসন্তের একটি উজ্জ্বল হলুদ সূর্যমুখী ফুলের মতোই।

‘জেমস ওয়েব’ নামক এই টেলিস্কোপটি খুব শিগগির আমাদের মহাকাশের অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা এবং এই মহাকাশে মানুষ ব্যতীত অন্য গ্রহের কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে কিনা তা, অনুসন্ধান করতে ব্যবহৃত হবে।

নাসা সম্প্রতি এই স্পেস টেলিস্কোপের অত্যাশ্চর্য স্বর্ণ মিরর এর একটি ছবি শেয়ার করেছে। ছবিতে এটিকে দেখতে অনেকটা ফুটন্ত ফুলের মতোই। টেলিস্কোপটি বর্তমানে মেরিল্যান্ডের গ্রীনবেট্ট এর গডডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই টেলিস্কোপটি ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ‘সুপার হাবল’ টেলিস্কোপটিতে ১৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে গঠিত প্রথম গ্যালাক্সি থেকে ইনফ্রারেড আলো ক্যাপচারের জন্য ১৮-সেগমেন্টেড সোনার আয়না ব্যবহার করা হয়েছে।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি তার পূর্বসূরি ‘হাবল টেলিস্কোপ’ এর তুলনায় ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী এবং তিন গুণ বড়। তাই এটি ইতিমধ্যে ‘সুপার হাবল’ ডাক নামও অর্জন করেছে।

২০১৬ সালে টেলিস্কোপটির নির্মাণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পর নাসার গডডার্ডের ইউটিউব চ্যানেলে একটি নতুন ভিডিও বলা হয় যে, ‘প্রায় দুই দশক ধরে কয়েক হাজার লোকের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই বিশ্বের এ যাবৎ কালের সর্ববৃহৎ এই টেলিস্কোপটির নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।’

টেলিস্কোপটির প্রধান উপাদান হল প্রাথমিক স্তরের সোনার আয়না, যাতে রয়েছে ১৮টি হেক্সাগোনাল আয়না এবং এটিকেই মূলত দৈত্যাকৃতির একটি অদ্ভুত টুকরার মতো দেখাচ্ছে। বৃহদাকার এই আয়নাটি ১৮টি উপাদান দ্বারা গঠিত যা একটি কাঠামো হিসাবে একসঙ্গে কাজ করবে। ইনফ্রারেড আলো প্রতিফলনের জন্য অপ্টিমাইজেশান অংশগুলো একটি সূক্ষ্ম ফিল্মের সঙ্গে এটে দেয়া হয়েছে।

টেলিস্কোপটিকে নাসা ‘টাইম মেশিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

২০১৮ সালে স্পেসফ্লাইটে নৈপুণ্যের সঙ্গে যাত্রা শুরু করার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে গত মাসে নাসার গোদারড স্পেস ফ্লাইট কেন্দ্রে এই বৃহৎ টেলিস্কোপটির গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও কম্পন পরীক্ষা করা হয়েছে।

নাসার মতে, সাম্প্রতিক এই পরীক্ষায় অনেকগুলো মূল্যায়নের মাত্র দুটি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় প্রতি সেকেন্ডে ৫ থেকে ১০০ বারের মতো এটি স্পন্দিত হয়।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি খুব শিগগির হাউসটোনে জনসন স্পেস সেন্টারের ভ্যাকুয়ামে অত্যন্ত ঠান্ডা তাপমাত্রায় আরো পরীক্ষার সম্মুখীন হবে।

আর এতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণ একটাই আর তা হলো, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই টেলিস্কোপটি ২০১৮ সালেই মহাকাশে যাত্রা শুরু করবে।

 

 

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ মে ২০১৭/ফিরোজ