ঢাকা, বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

আগাম কর জটিলতা অবসানে ৫ নির্দেশনা

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৫ ৮:৪৬:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-২৬ ১২:৪৯:৪১ পিএম

চলতি অর্থবছরে নতুন অগ্রিম ভ্যাটের বদলে পাঁচ শতাংশ হারে আগাম কর বা অ্যাডভান্স ট্যাক্স (এটি) আরোপ করার বিধান যোগ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এবং ২০১৬ সালের মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালার আওতায় আদায়কৃত ওই কর ফেরত পাওয়া নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতায় পড়তে হয়েছে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এমন অভিযোগ করে আসছিলেন তারা। এবার ওই জটিলতা পরিহারে এনবিআর নতুন বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এনবিআরের দাবি ওই নির্দেশনা অনুসরণ করলে জটিলতা থাকবে না।

তাই জটিলতা অবসানে পাঁচটি নির্দেশনা দিয়ে গত ২২ ডিসেম্বর আদেশ জারি করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সচিব (মূসক নীতি) হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার সই করা বিশেষ আদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ওই আদেশ চলতি বছরের ১ জুলাই হতে কার্যকর ধরা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো- ভ্যাট আইন ও বিধিমালার আওতায় প্রতি মাসে আমদানিকৃত পণ্যের বিপরীতে আদায়কৃত আগাম করে তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশন উক্ত পণ্যের আমদানিকারক যেই মূসক কমিশনারেটে নিবন্ধিত সেই মূসক কমিশনারেটে পরবর্তী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে প্রেরণ করবে।

বৃহৎ করদাতা ইউনিট (মূসক) নিবন্ধন প্রদান করে না এবং এর অধিক্ষেত্র সারা দেশব্যাপী। এ কারণে মূসকভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নম্বর সম্বলিত তালিকা সংরক্ষণ করে। তাই এই সকল নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে আদায় করা আগাম কর সংক্রান্ত তথ্য কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশন পরবর্তী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে প্রেরণ করবে। এজন্য বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (মূসক) অধিক্ষেত্রভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, নিবন্ধন নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সকল কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশনে প্রেরণ করবে।

প্রত্যেক মূসক কমিশনারেট কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশন হতে উহার অধিক্ষেত্রে নিবন্ধিত এমন আমদানিকারক হতে আদায়কৃত আগাম করের তথ্য সংগ্রহ করে নিজ নিজ রাজস্ব বিবরণীতে প্রদর্শণ করবে।

সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেট উক্ত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ পদ্ধতি ও আইনি বিধি-বিধান অনুসরণ করে করদাতাদের অনুকূলে আগাম কর ফেরত প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশন চলতি অর্থবছরের জুলাই হতে মাসভিত্তিক আগাম কর সংক্রান্ত রাজস্ব বিবরণী মূসক কমিশনারেটভিত্তিক আলাদা করে সকল মূসক কমিশনারেটে রাজস্ব পরিসংখ্যান পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে প্রেরণ করবে।

মূসক কমিশনাররা কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশন হতে প্রাপ্ত আগাম করের তথ্য রাজস্ব বিবরণীতে প্রদর্শণ করে তা এনবিআরের গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করবেন।

গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগ প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে রাজস্ব বিবরণী সংশোধন করে সংশোধিত রাজস্ব বিবরণী অর্থ মন্ত্রণালয়ে তা প্রেরণ করবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমদানি পর্যায়ে আগাম কর (এটি) আদায় ও রাজস্ব বিবরণীতে প্রদর্শণের ক্ষেত্রে জটিলতা পরীলক্ষিত হচ্ছে বলে এনবিআর অবহিত ছিল। উক্ত জটিলতা পরিহার করতেই এনবিআর এসব নির্দেশনা প্রদান করেছে। ’

তিনি বলেন, ‘আগাম কর সংক্রান্ত এ সমস্যার কারণে ভ্যাট অফিসগুলোও জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। অনেক সময় ভ্যাট অফিসগুলো আদায়কৃত অর্থ নিজস্ব রাজস্ব হিসেবে দেখাতে পারে না। অন্যদিকে যারা প্রকৃত অর্থে ফেরত পাওয়ার যোগ্য, তাদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। আশা করছি এ নির্দেশনার ফলে জটিলতা কমে আসবে।’

সরকার চলতি অর্থবছরে নতুন অগ্রিম ভ্যাটের বদলে পাঁচ শতাংশ হারে আগাম কর বা অ্যাডভান্স ট্যাক্স (এটি) আরোপ করে। আমদানিকারকের পরবর্তীতে যথাযথ হিসাব ও কাগজপত্র দাখিল করে ঐ কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগ ছিল, এনবিআরের পদ্ধতিগত জটিলতায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অগ্রিম পরিশোধ করা ওই অর্থ ফেরত পাচ্ছে না। আমদানি পর্যায়ে কাস্টম হাউজ বা শুল্ক স্টেশনে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ফেরতের জন্য আবেদন করতে হয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে।

ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে এ অর্থ জমা না হওয়ায় আমদানিকারককে অর্থ পরিশোধ করতে পারছিল না। ফলে অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে জটিলতায় পড়ছেন আমদানিকারক। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানের চলতি মূলধন আটকে থাকছে যা ব্যবসায়ের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল।

এনবিআর সূত্র বলছে, ইস্যুটি সমাধানের লক্ষ্যে এনবিআর সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করে। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।


ঢাকা/এম এ রহমান/সনি