ঢাকা, শুক্রবার, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আত্মত্যাগের ঈদুল আজহা

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১২ ১২:১৫:৪৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-১২ ১২:২০:৩২ পিএম

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন: পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। সারাদেশে ভাবগম্ভীর ধর্মীয় পরিবেশে আত্মত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা।

মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর অনুপম ত্যাগের স্মরণে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি করে আসছেন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, কোরবানির পূর্বশর্ত ও অন্যতম উদ্দেশ হচ্ছে আল্লাহভীতি ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

ইসলামী শরিয়তে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। ইসলামে কোরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো একদিন গরু, মহিষ, উট, ভেড়া, ছাগল, দুম্বা বা যে কোনো হালাল পশু কোরবানি দেয়া যায়।

কোরবানির কথা উল্লেখ করে পবিত্র কোরআনে সুরা কাওসারে বলা হয়েছে, ‘অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’

প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) বলেছেন, ‘ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আর কোনো কাজ আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় নয়।

সূরা হজে বলা হয়েছে, এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে। (মুসনাদে আহমদ)

কোরবানীর সেই ঐতিহাসিক ঘটনা: পবিত্র ঈদুল আজহা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) এর সঙ্গে সম্পর্কিত। মহান আল্লাহ পাক হযরত ইব্রাহিমকে (আ.) স্বপ্নে আদেশ করেন তাঁর প্রিয়পুত্র হযরত ইসমাইলকে রবের সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করতে হবে। কোনপ্রকার বিচলিত না হয়ে মহান আল্লাহর আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে উদ্যত হন হযরত ইব্রাহিম (আ.)। তিনি প্রিয়পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। যা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি যখন পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার জন্য প্রস্তুত। ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহর হুকুমে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। মহান আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন হযরত ইব্রাহিম (আ.)।

আল কোরআনে এই মহিমান্বিত ত্যাগের ঘটনার চমৎকার বর্ণনা করে মহান আল্লাহ পাক বলেন, অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম (আ.) তাকে বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি আল্লাহর আদেশে আমি তোমাকে জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে বললো, হে পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।

যখন পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম (আ.) তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন তখন আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে অহী নাজিল হলো- হে ইব্রাহীম তুমি তো স্বপ্নকে সত্যি পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সৎকর্মকারিদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে জবাই করার জন্য দিলাম এক মহান জন্তু।

ঈদুল আজহার নামাজ :
সকালে মুসল্লিরা নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে ছয় তকবিরের সাথে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। খতিব নামাজের খুতবায় তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবাই একত্রে নামাজ আদায় ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। ধনী গরিব সব ভেদাভেদ ভুলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন সকলেই। ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রোববার থেকে তিনদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতিকবৃন্দ। সাবেক বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদের দিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

পবিত্র এ দিনটিতে উৎসবের আমেজ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা দিয়ে সুশোভিত করা হয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বালাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ আগস্ট ২০১৯/নঈমুদ্দীন/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন