ঢাকা, শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আপটা মিনিস্টিরিয়াল কাউন্সিলের সভা শুক্রবার

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১২ ৬:৪৮:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১২ ৭:৩০:০০ পিএম

সচিবালয় প্রতিবেদক : থাইল্যান্ডের ব্যংককে ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্টের (আপটা) ৪র্থ মিনিস্টিরিয়াল কাউন্সিলের সভা। এতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে বৃহস্পতিবার থ্যাইল্যান্ডে গেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আগামী ১৫ জানুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আপটার বর্তমান সদস্য বাংলাদেশ, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলংকা এবং লাওস। ৬টি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীগণ এ কাউন্সিলে অংশ নেবেন। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ কাউন্সিল সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

১৯৭৫ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সর্বপ্রথম প্রাধিকারযোগ্য (preferential) বাণিজ্য চুক্তি ব্যাংকক এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে ১ম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যাংকক এগ্রিমেন্ট পুনর্গঠন করে 'Asia-Pacific Trade Agreement (APTA)' স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক বাণিজ্য উদারীকরণের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এর সদরদপ্তর ব্যাংককে। বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

APTA-এর সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য মন্ত্রীদের নিয়ে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ মিনিস্টিরিয়াল কাউন্সিল (Ministerial Council) গঠিত। সদস্য দেশসমূহের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষে এ পর্যন্ত তিন দফা আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ তৃতীয় দফা আলোচনা ২০০৬ সালে সম্পন্ন হয়, যার আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশ অন্যান্য সদস্য দেশের কাছ থেকে ৪,৬৪৮টি পণ্যে ৫-১০০% শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে এবং ২০৯টি পণ্যে অন্য সদস্য দেশকে ১০-৬০% শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। মিনিস্টিরিয়াল কাউন্সিল-এ আনুষ্ঠানিকভাবে ৪র্থ রাউন্ড নেগোসিয়েশন গৃহীত হবে। ৪র্থ রাউন্ড বাস্তবায়ন হলে শুল্ক সুবিধাপ্রাপ্ত এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১১,৫০২ তে উন্নীত হবে, যার বিপরীতে বাংলাদেশ মোট ৬০২টি পণ্যে (৫৯৮ সকল সদস্যদের এবং অতিরিক্ত ৪টি পণ্য স্বল্পোন্নত সদস্য দেশের জন্য) ১০-৭০% শুল্ক সুবিধা প্রদান করবে। এ ছাড়াও APTA- চুক্তির Rule of Origin-এর বাস্তবায়ন অধিকতর সহজ, গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষে এর ফুটনোট সংশোধন করা হবে। বিষয়টি গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়।

মিনিস্টিরিয়াল কাউন্সিল-এর মাধ্যমে শুল্ক সুবিধাসহ ৪র্থ রাউন্ড নেগোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্য তারিখ ০১ জুলাই ২০১৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪র্থ রাউন্ড নেগোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য অধিকতর শুল্ক সুবিধা এবং বাজার সুবিধা পাবে যার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা যায়।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ জানুয়ারি ২০১৭/নঈমুদ্দীন/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন