ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আমরা কাউকেই ভয় পাই না, ওদের একটু সাহস দেন’

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১১ ৮:১৪:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-১২ ১০:২৫:৩৯ এএম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সুদিন ফেরাতে চট্টগ্রাম টেস্ট জিততে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু ফল পেলেন উল্টো।

নিজেদের সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়ে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। স্বপ্নের ডানা মেলে যেখানে উড়ার কথা, সেখানে পুরো দল ব্যর্থ। ব্যর্থতা ঝেরে ফেলার সুযোগ এসেছিল শ্রীলঙ্কা সফরে। সেখানেও মেলেনি কোনো সুখস্মৃতি। দুঃস্মৃতি তাড়িয়ে বেড়িয়েছে সিংহের দেশে।  একটা জয়ের জন্য ছটফট করছিল পুরো দল।  ঘরের মাঠ প্রস্তুতও ছিল। কিন্তু আফগানিস্তানের রাজকীয় জয়ে আরেকটি লজ্জা পেতে হয় বাংলাদেশকে।  দলের এমন পারফরম্যান্সে কষ্ট পাচ্ছেন সবাই।  বোর্ড সভাপতিও টাইগারদের হারে কষ্ট পাচ্ছেন। তবে হতাশ হওয়ার কিছু দেখছেন না ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পর দলের সিনিয়র ক্রিকেটাদের নিয়ে বসেছিলেন তিনি। কথা বলেছেন প্রায় প্রত্যেকের সঙ্গে।  অভয় দিয়েছেন।  ব্যর্থতা ঝেরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন।  বুধবার সেই কথা শুনিয়েছেন মিরপুরে,‘টেস্ট ম্যাচটা আমরা হেরে গেছি তাই সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসেছি, আজ আরো অনেকের সাথে কথা হল। আপনারা অনেকে ভাবছেন শেষ হয়ে গেছে, আমি বিশ্বাস করি না।’

‘এটি আমাদের আসল চিত্র না। আমাদের দলে এখন তামিম নেই।  সাকিব, মুশফিক, রিয়াদের মতো খেলোয়াড় আছে। এই মুশফিক বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান। তামিম সেরা ওপেনার বাংলাদেশের। সাকিব বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এই বিশ্বকাপে ও ছিল সেরা খেলোয়াড় বলে আমি মনে করি। রিয়াদ একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। বহু ম্যাচ সে আমাদের জিতিয়েছে। এরা কেউ শেষ হয়ে যায়নি। অফ ফর্ম তো থাকতেই পারে। এদেরকে এখন বাদ দিয়ে নতুন খেলোয়াড় আনতে হবে এমন কোনো চিন্তাই আমার মাথায় আসেনা। হয়তো অনেকেই ভাবছেন যে তারা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু না, আমি এখনও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ এরা যেকোনো দলের বিরুদ্ধে, যেকোনো বোলারের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করতে পারে।’

‘এদের সঙ্গে সৌম্য, লিটন, সাব্বিরদের মতো খেলোয়াড়.......মুস্তাফিজের কথা তো না বললে পারি না। তারা অসাধারণ খেলোয়াড়। টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো দলের সঙ্গে, যেকোনো বোলারকে ওরা তুলোধুনো করতে পারে। কিন্তু আমাদের মূল শক্তি এবং ম্যাচ উইনার এখনও ধরব তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদকে।’ - যোগ করেন নাজমুল হাসান।

ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ বোর্ড সভাপতির। পাশাপাশি প্রত্যেককে সমালোচনা না করে পাশে থেকে সাহস জোগানোর আহ্বান নাজমুল হাসানের,‘আমাদের ছেলেদের এতো ছোট করে দেইখেন না, ওদেরকে সাহস দেন। আমরা ভয় পাই না। আমরা কাউকেই ভয় পাই না। আমাদের সামনে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আমরা সেটা জিতব। আমি ওদের বলেছি, হারো বা জিতো- সাহস নিয়ে খেলবা। বিশেষ করে ভারতের সাথে বিশ্বকাপের ম্যাচটি হারার পরে ওদের মোরালটা মনে হয় একটু দুর্বল হয়ে গেছে। ওদের শরীরি ভাষা রক্ষণাত্মক।’

‘আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি বাংলাদেশ দল এখনও যেকোনো দলকে, যেকোনো সময় হারাতে পারে এবং আমার এই বিশ্বাসটি রয়েছে। আমরা যখন ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারিয়েছি, অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারিয়েছি আপনারা জানেন যে ঐ সময়ে আমরা ছিলাম টেস্টের তলানিতে। এরপর ওপর সারির দলগুলো যখন আমাদের কাছে হেরে গেছে, ওরা শেষ হয়ে যায়নি। ইংল্যান্ড এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এত হতাশ হওয়ার কিছু দেখছি না আমি। পারফর্ম করতে হবে এবং আমি বিশ্বাস করি আমাদের ছেলেদের সেই প্রতিভা আছে।’


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ইয়াসিন/আমিনুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন