ঢাকা, শুক্রবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আমরা টাকা দিয়ে রোগ কিনছি’

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-০১ ৭:১৯:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-০১ ৭:১৯:২৪ পিএম
‘আমরা টাকা দিয়ে রোগ কিনছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুস্থ জীবনের নিয়ামক স্বাস্থ্যকর খাবার। স্বাস্থ্যকর খাবারের সীমিত যোগান এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের লোভনীয় বিজ্ঞাপনের কারণে মানুষ এসব খাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে অসংক্রামক রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এতে একদিকে আমরা টাকা দিয়ে রোগ কিনছি, অন্যদিকে চিকিৎসাব্যয়ও বাড়ছে।

সোমবার সকালে রাজধানীর রায়েরবাজারে ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট মিলনায়তনে বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে ‘সুস্থ্য খাবার, সুস্থ্য জীবন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারটি আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্সেস স্টাডিজ, ড্রিম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িংয়ের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক দবেরা ইফরইমসন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, সুখী ও স্বাস্থ্যবান জীবন উপভোগ এবং অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব হতে রক্ষা পেতে হলে অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করে স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত ব্যায়াম করতে হবে। পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দবেরা ইফরইমসন বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার ও বন্ধুদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে পারি। তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন যেভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল, ঠিক তেমনি মানুষকে সচেতন করে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপনও বন্ধ করা সম্ভব হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আগ্রাসী ও বিভ্রান্তিমূলক বিজ্ঞাপনের প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে আকৃষ্ট করে থাকে।

তিনি আরো বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার বর্জন করে তাজা শাক-সবজি, ফল-মূল উৎপাদন ও খাওয়ার মাধ্যমে আমরা স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি করতে পারি। সরকারের উচিৎ বহুজাতিক কোম্পানিকে সুবিধা না দিয়ে কৃষি খাতে পণ্য উৎপাদনের জন্য সহায়তা প্রদান করা। এর ফলে অংসক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনসাধারণ সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা পাবেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

সিএনআরএসের কমিউনিকেশন ম্যানেজার নূর-ই-মাহবুবা বলেন, এসডিজি অর্জন করতে হলে জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আর স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে প্রত্যেকেই সমাজ ও জাতীয় উন্নয়নে কাজ করে যেতে পারব। তাই আমাদের নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যকর খাবারের যোগান নিশ্চিত করতে হবে।

ড্রিম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রাখিল খন্দকার বলেন, আমাদের নিজেদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তরুণদরে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণসমাজ একসাথে কাজ করলে সমাজ ও দেশের উন্নতি ও পরিবর্তন সম্ভব হবে। এরকম অনেক উদাহরণ তৈরি করেছেন বাংলাদেশের তরুণরা।

উন্মুক্ত আলোচনায় ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকতা আতিকুর রহমান বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের ফলে মানুষের অসুস্থতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পথে অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসচেতনার কারণে মানুষ অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। সরকারের উচিৎ স্বাস্থ্যকর খাবারের পর্যাপ্ত যোগান নিশ্চিত এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন বন্ধের পাশাপাশি এসকল খাবারের উপর স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর আরোপ করা।

সভাপতির বক্তব্যে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, স্বাস্থ্যকর খাবারের যোগান যেমন বাড়াতে হবে, পাশাপাশি নগরে ব্যায়াম বা শিশুদের খেলার জন্য মাঠ এবং উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করতে হবে।

ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকতা শারমীন আক্তার রিনির সঞ্চালনায় সেমিনারে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, পিপল ইউনিভার্সিটি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ অক্টোবর ২০১৮/মাছুম/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন