ঢাকা, শুক্রবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আম্পায়ারিং বিতর্কের বাইরে থাকুক

রিয়াজুল হক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-২৫ ৩:৩৭:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-২৫ ৩:৩৭:৪৩ পিএম
আম্পায়ারিং বিতর্কের বাইরে থাকুক

ক্রিকেটকে বলা হয় ‘ভদ্র লোকের খেলা’। ধরে নেয়া হয়, শুধুমাত্র ভদ্র লোকেরাই এই খেলা খেলেন, কিংবা শুধুমাত্র ভদ্র লোকেরাই এই খেলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। কিছু কারণে আজ ‘ভদ্র লোকের খেলা’খ্যাত ক্রিকেট বিতর্কিত খেলা হয়ে যাচ্ছে। এখানে খেলাকে দোষ দেয়া আদৌ যুক্তিযুক্ত হবে না বরং এই খেলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত গুটিকয়েক দেশের অতি উৎসাহী কিছু মানুষ এই খেলাকে বিতর্কিত করে ফেলেছেন। যারা খেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন, তারাই যদি একপেশে কিংবা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন, সেটা ক্রিকেটকেই কলঙ্কিত করে।

বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে বাংলাদেশকে জিততেই হবে। বাংলাদেশ তাদের ব্যাটিং ইনিংস শুরুও করেছিল দারণভাবে! তামিম কিছুটা ধীরে শুরু করলেই লিটন দাস বলের সাথে পাল্লা দিয়ে স্কোর শুরু করেছিলেন। ১৭ বলে ১৬ রান। বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে লেগ স্পিনার মুজিব-উর-রহমানের বলে ক্যাচ উঠিয়ে দেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ফিল্ডার হাসমতউল্লাহ শহিদি বলটি লুফে নেন। তবে তিনি সঠিকভাবে ক্যাচটি নিতে পেরেছেন কিনা তা নিয়ে মাঠের আম্পায়ার মাইকেল গফ ও রিচার্ড কেটেলবরো দ্বিধায় পড়েন। তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। যে কারণে প্রাথমিকভাবে আউটের সংকেত দিয়েও থার্ড আম্পায়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মাঠের আম্পায়ার অপেক্ষা করতে থাকেন। এই অপেক্ষা শুধু মাঠের আম্পায়ারদের ছিল না, গ্যালারী ভর্তি দর্শকদেরও অপেক্ষা ছিল, টিভি স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী মানুষেরও অপেক্ষা ছিল। টিভি স্ক্রিনে দেখা যায়, বল ফিল্ডারের তালুবন্দি হওয়ার আগেই মাটি স্পর্শ করেছে বলেই মনে হচ্ছিল। এমনটা সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন ধারাভাষ্যকাররাও। যে টিভি রিপ্লে থার্ড আম্পায়ার আলিম দার দেখছিলেন, কোটি কোটি মানুষও সেই স্ক্রিন দেখছিলেন। কিন্তু তারপরও তিনি লিটন দাসকে আউট ঘোষণা করলেন। যে ক্যাচটি নিয়ে এত সন্দেহ, সেই ক্যাচটির বেনিফিট অব ডাউট তো ব্যাটসম্যানের পাবার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা হলো না। এটা ক্রিকেটের জন্য সুখকর কিছু না। একই ম্যাচে সৌম্য সরকারের আউট নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মুজিব-উর-রহমানের বত্রিশ ওভারের শেষ বলটি সৌম্য সরকারের প্যাডে লাগে। তাতেই জোর আবেদন জানায় আফগানিস্তান। ফিল্ড আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। রিভিউ নেন সৌম্য সরকার। রিভিউ দেখলেন থার্ড আম্পায়ার। কিন্তু সেখানে দেখা হলো না আলট্রা এজ! অথচ মনেই হচ্ছে ব্যাট স্পর্শ করে বলটি প্যাডে লেগেছে। আলট্রা এজ দেখার ধারে কাছে গেলেন না থার্ড আম্পায়ার আলিম দার। তিনি দেখলেন বলের লাইন। আর সেটা দেখেই রিভিউতে আফগানিস্তানের পক্ষে রায় দিলেন। সাধারণত লাইন দেখার পাশাপাশি আলট্রা এজও থার্ড আম্পায়ার দেখেন, যা দর্শকও দেখেন। কিন্তু সৌম্য সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার বেলায় আলট্রা এজের ধারে-কাছেও গেলেন না থার্ড আম্পায়ার। এত তাড়া কেন ছিল, ক্রিকেট বোদ্ধাদের কাছে সেটাই বড় প্রশ্ন?

২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটির কথা এখনো সবার মানে আছে। মাত্র ৪ বছর আগের কথা। প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছিল বাংলাদেশ। বিভিন্ন চাপের মধ্যেও দারণ খেলছিল! অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচের আম্পায়ার ছিলেন আলিম দার ও ইয়ান গোল্ড। রুবেল হোসেনের একটি ফুলটস বল রোহিত শর্মার কোমরের নিচে থাকলেও, লেগ আম্পায়ার আলিম দারের পরামর্শে ‘নো বোল’ ডাকেন ইয়ান গোল্ড। ফিল্ড আম্পায়ার ইয়ান গোল্ডও ঘোষণা করলেন, এটা নো বল, রোহিত আউট হননি! বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছে আম্পায়ারের এই অবাক করা কর্মকাণ্ড! বলটি নো বল হবার মতো উঁচু ছিল না। এমনকি আম্পায়ারকে বিভ্রান্ত করতে পারে এমন উঁচুতেও ছিল না। খোদ ভারতের ক্রিকেটাররাও এর প্রতিবাদ জানান। ক্রিকেট বিশ্বে বাজে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়। এখানেই শেষ হয়নি। সেই কোয়ার্টার ফাইনালেই ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৭৩ রানে মোহাম্মদ শামির করা শর্ট বলে ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দেন মাহমুদুল্লাহ। ধাওয়ান বাউন্ডারি লাইনের একদম কাছে ছিলেন বলে আম্পায়ার থার্ড আম্পায়ারের কাছে যান সিদ্ধান্তের জন্য। যেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, ধাওয়ানের পা বাউন্ডারি লাইনে লেগে থাকা অবস্থায় ক্যাচ ধরেছেন। সকলেই ভেবেছিলেন, টিভি আম্পায়ার স্টিভ ডেভিস বিগ স্ক্রিনে ‘নট আউট’ লোড করবেন, কিন্তু লোড হলো ‘আউট’! আইসিসিও অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কের বাইরে থাকছে না। কোনো আম্পায়ার যদি একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দেয়, তাদের খেলা থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়। সেটা তো আইসিসি করছে না। চলতি বিশ্বকাপে কয়েকটা দেশের যখন ২/৩টা ম্যাচ শেষ, তখন কেউ হয়তো খেলাই শুরু করেনি। টুর্নামেন্টে যদি কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথা চিন্তু করা হয়, তবে প্রতিযোগী অন্য দেশগুলো প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে যাবে। এটা কাম্য নয়।  

একটা কথা শোনা যায়, কোনো কোনো আম্পায়ার বড় বড় টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং করার সুযোগ পাবার জন্য কিংবা কোনো কোনো দেশের সুনজরে থাকার জন্য বিশেষ বিশেষ দলের পক্ষপাতিত্ব করেন। আবার অনেক সময় কোনো কোনো দেশের প্রতি কোনো কোনো আম্পায়ারদের বিশেষ নজর থাকে। এটা ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর। ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা। যারা সেই ভদ্রলোকের খেলা পরিচালনা করবেন তাদের বিতর্কের বাইরে না থাকলে চলবে কেন?

লেখক: উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জুন ২০১৯/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন