ঢাকা, রবিবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আরো ১ বছর সময় চায় পিডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২১ ১০:৫৪:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২১ ১০:৫৪:৪৯ পিএম

রাজশাহী জোনে দুই লাখ গ্রাহককে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)। কিন্তু জমি ও চাহিদা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক পোল (খুঁটি) না পাওয়ায় পিডিবির পক্ষ থেকে আরো এক বছর সময় বাড়াতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৯১৫ কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির ৫০ কোটি টাকাসহ দেড় বছর সময় বাড়ানো হয়। মূল প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১৪ তারিখে এ প্রকল্পের শুধু এক বছর সময় বাড়াতে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘প্রকল্পের বিতরণ লাইন নির্মাণের জন্য ৫০ হাজার ৯৫০টি পোলের সংস্থান রয়েছে। কিন্তু সারাদেশে অনেকগুলো প্রকল্প একসঙ্গে চলতে থাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব পোল ফ্যাক্টরি থেকে চাহিদা অনুযায়ী পোল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৮৯০টি পোল সরবরাহ পাওয়া গেছে। এখনো আরো ১২ হাজার ৬০টি পোল অবশিষ্ট রয়েছে। এ কারণে তিন হাজার কিলোমিটার লাইনের মধ্যে এক হাজার ৭৫৪ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো প্রায় এক হাজার ২৪৬ কিলোমিটার অবশিষ্ট রয়েছে। ’

প্রস্তাবিত নথি থেকে আরো জানা গেছে, প্রকল্পে ৪৪টি উপকেন্দ্র স্থাপনের সংস্থান রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ লাইন গ্রীষ্মকালে যথাসময়ে সাটডাউনের অনুমতি না পাওয়ায় এবং জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে উপকেন্দ্রগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়নি। এজন্য আরো এক বছর সময় বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা অনুমোদিত ব্যয়ের ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৭ শতাংশ।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল জুন ২০১৮ পর্যন্ত। সার্বিক দিক বিবেচনায় বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুসারে প্রকল্পটির মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত করা হয়। ভবিষ্যতে প্রকল্পটির আরো সংশোধন ও মেয়াদ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হবে বলে প্রকল্প পরিচালক সভায় অবহিত করেছেন। ’

শিল্প ও শক্তি বিভাগের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঝুঁকি যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা করতে হবে। পরিপত্র অনুসারে প্রস্তাব প্রাপ্তির ২০ কার্যদিবসের মধ্যে আইএমইডির মতামত পরিকল্পনা কমিশন ও বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

আইএমইডির মতামত প্রাপ্তির পর পরিপত্র অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে। ভবিষ্যতে প্রকল্পটির আর সংশোধন ও মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী জোনের রাজশাহীর সদর (রাজশাহী সিটি করপোরেশন), গোমস্তাপুর, গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলা, নাটোরের সদর উপজেলা, পাবনার সদর ও ঈশ্বরদী উপজেলা, সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলা, বগুড়ার সদর, শেরপুর, সান্তহার, দুপচাঁচিয়া ও শিবগঞ্জ উপজেলা, জয়পুরহাটের সদর উপজেলা এবং নওগাঁর সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।


ঢাকা/হাসিবুল/সনি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন