ঢাকা     রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭ ||  ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আর কত বয়স হলে পাওয়া যাবে ভাতা কার্ড

50 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:৪৭, ৩ নভেম্বর ২০১৯  
রুপিয়া খাতুন

রুপিয়া খাতুন

সূর্যের আলো কিংবা রাতের আঁধার। দুইই সমান সাতক্ষীরার রুপিয়া খাতুনের কাছে।

১৮ বছর ধরে চোখে দেখেন না তিনি। ১৫ বছরেরও বেশি সময় তিনি কানে শোনেন না।

স্বামী মারা গেছেন ২৫ বছর আগে। দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন তিনি। ভাগ‌্যের নির্মম পরিহাস। ১২ বছর আগে তারাও মাকে ছেড়ে পরকালে পাড়ি জমিয়েছেন। রেখে গেছেন তাদের স্ত্রী সন্তানদের। স্বামী, দুই ছেলে হারিয়ে এখন নাতিদের সঙ্গেই থাকেন রুপিয়া খাতুন।

নিজেদের জমি না থাকায় অন‌্যের জমিতে চাষাবাদ করে দিন পার করছেন নাতিরা। দাদির মুখে ভাত তুলে দিলেও কিনতে পারেন না ওষুধ।

বয়সের ভারে কাতর রুপিয়া। ঠিক মতো চলাফেরা করতে পারেন না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও অসহায় জীবন-যাপন করছেন তিনি। একটু ভালো থাকার জন‌্য গিয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। একটা ভাতা কার্ডের জন‌্য। কিন্তু তিনি পাননি।

রুপিয়া খাতুনের বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে।

তার নাতি মো. জয়নাল আবেদিন জানান, ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী দাদির বয়স ৭৭ বছর। কিন্ত তার বয়স আসলে আরো অনেক বেশি। সব সময় তিনি নানা রকম রোগে-শোকে ভোগেন। তার জন্য ওষুধ কেনা লাগে। আবার মাঝে মাঝে একটু ভালো কিছু খাওয়ার আবদার করেন। কিন্তু অর্থাভাবে সব সময় কিনে দিতে পারি না। এজন্য খুব খারাপ লাগে। তার যদি একটা ভাতা কার্ড থাকতো তাহলে অন্তত প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে দিতে পারতাম।

রুপিয়া খাতুনের পুত্রবধূ রাহিলা খাতুন বলেন, ‘২৫ বছর হলো আমার শ্বশুর মারা গেছেন। কিন্তু আমার শাশুড়ি একটা বিধবা কিংবা বয়স্ক ভাতা কার্ড পাননি। শাশুড়ি কানে শোনেন না, চোখেও দেখতে পান না। খুব কষ্টে আছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় রাজনীতি, দলাদলির কারণে তিনি কার্ড পাননি। আমরা আগেও যোগাযোগ করেছি। ছবি চেয়েছিল ছবি দিয়েছিলাম কিন্তু মেম্বার-চেয়ারম্যান কার্ড দেননি।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘আসলে এতোদিন রুপিয়া খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র আমরা হাতে পাইনি। তাই ভাতার কার্ড করে দিতে পারিনি। তিনি আইডি কার্ড হারিয়ে ফেলেছিলেন। এজন্য সমস্যা হয়েছিল। তবে নতুন করে সে স্মার্ট কার্ড পেয়েছে। আমি তার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছি।’

কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল বলেন, কয়েকদিন আগে আমি তার আইডি কার্ডের কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়েছি। এবার নতুন কার্ড আসলেই তিনি পাবেন।’

 

সাতক্ষীরা/শাহীন/ইভা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়