ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ৩১ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আল্লাহর উপর ভরসা করেই হাটে আছি’

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৯ ৮:৪৬:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-০৯ ২:১২:৫৯ পিএম

আবু বকর ইয়ামিন : জুলফিকার আলী পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। মেহেরপুর অঞ্চল থেকে এবার গরু নিয়ে এসেছেন রাজধানীর লালবাগ রহমতগঞ্জ গরুর হাটে। প্রতিবছরই তিনি কোরবানির ঈদে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে আসেন। বুধবার (৭ আগস্ট) ঢাকায় এসে সেদিন থেকে হাটেই দিন-রাত কাটছে তার।

মশার কোনো ভয় আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মশাতো আছেই। তবে কী করার আছে। আমাকেতো এখানেই থাকতে হবে। রাতে মশা কামড়ায়। দিনেও কামড়ায়, তবে হাটাচলার কারণে বুঝতে পারি না। এটাতো সবসময়ই কামড়ায়। কী করবো। শুনেছি মশা কামড়ালে নাকি ডেঙ্গু হয়। মানুষ মারা যায়। কিন্তু এখনতো আমার কিছুই করার নেই। আল্লাহ উপর ভরসা করেই গরুর হাটে আছি।’ 

আরেক গরু ব্যবসায়ী হাসান মিয়া। এসেছেন কুষ্টিয়া থেকে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র দুটি গরু নিয়ে এসেছি। একটার কেনা দামই পড়েছে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। ক্রেতারা মূল্য বলে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে আমার খরচতো আছেই। দেখি শেষদিন পর্যন্ত কী পরিস্থিতি দাড়ায়।’

রাতে কোথায় থাকেন, মশা কেমন এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান মিয়া বলেন, ‘গরু রেখে কোথায় যাবো? এখানেই থাকি। দিন-রাত প্রচুর মশা কামড়ায়। খবরে দেখেছি মশা থেকে সাবধান থাকতে। কিন্তু গরুর হাটে মশা থেকে বেঁচে থাকারতো কোনো সুযোগ নেই।’

তাদের মতো নোয়াখালী, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু ব্যবসায়ীরা রহমতগঞ্জ পশুর হাটে এসেছেন। সবার মাঝেই মশার ভয়, ডেঙ্গু আতঙ্ক কাজ করছে।
পঞ্চগড় থেকে আসা কামরুল জানান, আমি ১৫টি গরু নিয়ে এসেছি। এগুলো রেখেতো আমি কোথাও জেতে পারি না। কিন্তু এখানে থাকলে আবার মশার আতঙ্ক রয়েছে। তবে কিছুই করার নেই। ঝুঁকি নিয়ে এখানেই থাকতে হচ্ছে।

লালবাগ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ। পেশায় ব্যবসায়ী। হাটে এসেছেন গরু দেখতে। তিনি বলেন, ‘হাটগুলোতে মশার প্রচুর ময়লা জমে। শুরু থেকে যদি কর্তৃপক্ষ কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়, তাহলে হয়তো তেমন ভয় থাকবে না। কিন্তু সিটি করপোরেশন বা হাট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানি না। তবে নিলে ভালো হয়।’ 

রহমতগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক ব্যবসায়ী এসেছেন। তারা প্রত্যেকেই হাটেই থাকছেন। যেখানে থাকছেন পুরো এলাকা জুড়েই কর্দমাক্ত অবস্থা ও জমে থাকা পানি। এর পাশেই লুঙ্গি বিছিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকছেন গরু ব্যবসায়ীরা।   

মফস্বল থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীদের দায়িত্বে রয়েছেন নাজিব হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার চোখে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ জাতীয় উদ্যোগ আছে কি না সেটিও আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে কথা জানতে চাইলে হাটের কমিউনিকেশন এক্সিকিউটিভ আলমগীর হোসাইন জানান, মশার ঝুঁকি আছে এটা সত্য কথা। এটাতো সিটি করপোরেশন দেখবে। আমরা কী করতে পারি। তবে, আমরা সবাইকে সতর্কভাবে অবস্থানের বিষয়ে সতর্ক করেছি।’ 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ আগস্ট ২০১৯/ইয়ামিন/হাকিম মাহি