ঢাকা, বুধবার, ৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

আড়ালে টুপি তৈরির শিল্পীরা

জুনাইদ আল হাবিব : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২৫ ৭:৪১:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৪-২৫ ৯:১৮:৫৭ পিএম

জুনাইদ আল হাবিব : সুঁই-সুতার বন্ধন। তাতে নিপুণ হাতের চমৎকার জাদু দিয়ে টুপির নকশা বুনেন তারা। বাড়ির আঙিনা, ঘরের মেঝে, উঠোনের এক কোণে বসে টুপি বুনেন অনন্য এক শিল্পের কারিগররা। বলছি, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মাতাব্বরনগর গ্রামের নারীদের কথা।

গ্রামের এ নারীদের কাছে সাধারণ টুপি পাঠানো হয়। চুক্তিভিত্তিতে এসব টুপিতে বিভিন্ন নকশা অঙ্কন করে টুপিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেন তারা। নারীরা মনে করেন— এটি তাদের নিজের কাজ। তাই এর শৈল্পিক সৌন্দর্যে আরেক মাত্রা যোগ হয়। সময়ের সঙ্গে কাজটি অনন্য এক শিল্পে রূপ নিচ্ছে। গ্রামীণ এ শিল্পের ছোঁয়া এখন পৌঁছে গেছে মধ্যপ্রাচ্যেও।

আড়ালে থাকা এ শিল্পের পেছনের মানুষগুলোর গল্পও আড়ালে রয়ে গেছে। এ শিল্পের মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের কারণে টুপি তৈরির নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ নারীরা। সচেতনতার অভাবে নারীদের বোকা বানিয়ে অধিক লাভবান হচ্ছে মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো। একটি টুপি বুনলে পারিশ্রমিক হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৬ শ টাকা পান একজন নারী। যা বানাতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লেগে যায়। কিন্তু এই টুপি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এত কম টাকায় বিক্রি হয় না। রপ্তানি খরচ বাদ দিলেও হাজার টাকার উপরে পাওয়ার কথা। এতেও পুরো শ্রমের মূল্য পরিশোধ হবে না বলে জানান টুপির কারিগররা।

কিন্তু আড়ালের এমন গল্পের গভীরে নজর নেই কারো। যার কারণে দিনের পর দিন প্রাপ্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামের এই নারীরা। যদি এ শিল্পকে ঢেলে সাজানো যায়, তবে এটি হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম এক সম্ভাবনাময় খাত।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনার পাড় দিয়ে হাঁটছি নদীভাঙা মানুষের তথ্য সংগ্রহের জন্য। একটি বাড়িতে ঢুকতেই দেখা যায়— ৬-৭জন মহিলা একত্রে বসে টুপি বুনছেন। কথা বলেন আর টুপি বুনেন তারা। একপর্যায়ে আমিও তাদের গল্পে জড়িয়ে পড়ি। গল্প করতে করতে উঠে আসে তাদের জীবনের নানা গল্প।

মইফুল নামে পয়তাল্লিশ বছর বয়সি এক মহিলা বলেন, ‘নিজেরা অনেক সময় আজাইর (অবসর) থাকি। সেই টাইমে টুপি বানাই। এইখান থেকে যদি পাঁচ টাকা পাই, তাইলে আমাদের পান খাওয়ার কিছু পয়সা-টিয়া হয়।’

পাশ থেকে তার কথায় সায় দিয়ে কুলছুম (৪৮) নামের আরেক নারী বলেন, ‘যেই টিয়া হাই, এটা আঙ্গো পান খাওয়ার টিয়াও ঠিকমতো অয় না। দ্যাহেন এতদিন ধইরা একটা টুপি বানাইয়া ৫-৬ শ টিয়া দিয়া কি অয়?’

বিলকিছ (৩৫) নামে একজন অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা আমাগোরে এই টুপিগুলা বানাতে এনে দেয়, তাদের কাছ থেকেই আমরা ঠিক দাম পাই না। আমাদের সন্দেহ তাদের উপরেই। যদি সরকার আমাদের দিকে একটু তাকাইতো, তাইলে আমাগো জন্য অনেক ভালো হইতো।’

শুধু বয়স্ক নারীরাই নন, গ্রামের কিশোরীদেরকেও টুপি তৈরিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এ শিল্পের প্রতি বিশেষ নজর রাখলে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি আরো সমৃদ্ধ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন সচেতনমহল।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ এপ্রিল ২০১৯/ফিরোজ/শান্ত