ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ইন্টারনেটে নজরদারি থেকে বাঁচার উপায়

মোখলেছুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৪ ৩:০৩:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-১৪ ৫:৫২:২৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

মোখলেছুর রহমান : ইন্টারনেটে আমার প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে ট্র্যাকিং এর শিকার হচ্ছি। বিভিন্ন অদৃশ্য সত্ত্বা প্রতিনিয়ত আমাদের ওপর নজর রাখছে।

উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, গুগল এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর কথা, যারা কিনা ইন্টারনেটে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই ট্র্যাকিং করে থাকে। তবে এ সমস্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সমূহের এই ধরনের ট্র্যাকিং মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই করা হয়ে থাকে যেন তারা আপনার প্রয়োজনীয় পণ্যের বিজ্ঞাপনগুলোই আপনার সামনে উপস্থাপন করতে পারে।

কিন্তু একই সঙ্গে আপনি সাইবার অপরাধীদের দ্বারাও ট্র্যাক এর শিকার হতে পারেন, যাদের মূল উদ্দেশ্যে থাকে আপনার গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে আপনার ক্ষতি করা।

ক্ষতিকারক ট্র্যাকিং
আপনার অনলাইন কার্যক্রমের ওপর গুগল এর ট্র্যাকিং কখনই বিপজ্জনক নয়। কিন্তু সাইবার অপরাধীদের করা ট্র্যাকিং আপনার জন্য মারাত্মক বিপদ বয়ে আনতে পারে।

আপনার কম্পিউটার, আপনার স্মার্ট টিভি বা এমনকি ওয়েবক্যামে আপনার অজ্ঞাতসারে ঢুকে পড়া ম্যালওয়ারের মাধ্যমে আপনি ক্ষতিকর ট্র্যাকিং এর শিকার হতে পারেন। সুতরাং আপনার ওয়েবকাম সর্বদা ঢেকে রাখুন।

ম্যালওয়ার যেকোনো সময় আপনার কম্পিউটার বা স্মার্ট ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে এবং আপনার ক্যামেরা এবং অন্যান্য রেকর্ডারগুলোতে সুইচ অন করার সময়ও আপনার ব্যক্তিগত তথ্যাবলীতে ম্যালওয়ার প্রবেশ করতে পারে এবং আপনি ট্র্যাকিং এর শিকার হয়ে যেতে পারেন।

যদিও ১০০% কার্যকারিতার সঙ্গে ইন্টারনেটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা কঠিন, তবে কিছু সহজ ধাপ রয়েছে যা আপনার অনলাইন পদচারণাকে অনেকটাই নিরাপদ করবে। ক্যাসপারস্কি ল্যাবের মতে, এগুলো এমন কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি যেখানে আপনি আপনার গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারবেন এবং এটি নিশ্চিত করবে যে, ইন্টারনেটে আপনার ওপর কেউ নজর রাখছে কিনা। একনজরে দেখে নেয়া যাক সেই সহজ পদক্ষেপগুলো কি কি।

আপনার বহির্মুখী ট্র্যাফিক নিরীক্ষণ করুন
১. উইন্ডোজ স্টার্ট বাটনে ক্লিক করুন এবং কমান্ড উইন্ডোটি চালু করতে ‘cmd’ টাইপ করুন, যা সাদা টেক্সট পাঠে ‘C:\Users\Your UserName’ নামে একটি কালো বাক্স হিসেবে প্রদর্শিত হবে।

২. প্রম্পটে পরবর্তীতে ‘নেটস্ট্যাট’ টাইপ করুন এবং সমস্ত বহির্গামী তথ্য ট্রান্সমিশন একটি তালিকা তৈরি করতে ‘এন্টার’ চাপুন। আপনাটি যত কম অ্যাপ্লিকেশন খুলবেন (সম্ভব হলে শুধুমাত্র একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার) নেটস্ট্যাট কম্যান্ডটি তত ভালো কাজ করবে।

 

নেটস্ট্যাট মূলত ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) ঠিকানাগুলোর তালিকা তৈরি করে যার মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারে তথ্য প্রেরণ করা হয়। এই আইপি ঠিকানাগুলোর মধ্যে কয়েকটি বৈধ এবং আপনি ব্যবহার করছেন এমন ওয়েবসাইট বা পরিষেবাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

৩. নথিপত্রে নেটস্ট্যাট দ্বারা রিপোর্টকৃত প্রতিটি আইপি ঠিকানা লিপিবদ্ধ করুন এবং একটি ওয়েব ব্রাউজার এর মাধ্যমে তা ব্রাউজ করুন। আপনার ব্রাউজারের ঠিকানা বারে প্রতিটি আইপি ঠিকানা লিখুন এবং আপনার কম্পিউটার থেকে কি কি তথ্য পাঠানো হচ্ছে, তা শণাক্ত করার চেষ্টা করার জন্য ‘এন্টার’ চাপুন।

চটপট অ্যাপ্লিকেশন শণাক্তকরণ
১. আপনার টাস্কবারের ডান ক্লিক করুন এবং আপনার টাস্ক ম্যানেজার চালু করার জন্য ‘টাস্ক ম্যানেজার শুরু’ নির্বাচন করুন, আপনার কম্পিউটারে চলমান সমস্ত প্রসেসগুলোর তালিকা দেখতে পাবেন।

২. একটি ওয়েব ব্রাউজার ছাড়া সব প্রোগ্রাম বন্ধ করুন।

৩. ‘প্রসেস’ ট্যাব নির্বাচন করুন। তারপর ‘ইউজার নেম’ নির্বাচন করুন এবং আপনার কম্পিউটারে চলমান সকল প্রক্রিয়া দেখতে তালিকাটি ব্রাউজ করুন। আপনার ইউজার নেম অন্তর্ভুক্ত না থাকা প্রসেসগুলো আপনার কম্পিউটারে চলমান ক্ষতিকারক সফটওয়্যারের একটি ইঙ্গিত হতে পারে।

গুগল বিজ্ঞাপন সেটিংস পারসনালাইজ করবেন না
ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট পছন্দের ওপর ভিত্তি করে গুগল তার প্রতিটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল তৈরি করে। এটি প্রোফাইলের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন আপনার সামনে ইন্টারনেটে উপস্থাপন করে। অতএব, আপনার ‘অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগতকরণ’ খুবই  গুরুত্বপূর্ণ যা কিনা আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে অনির্বাচিতই থেকে যায়। এই ধরনের সমস্যাগুলো হয় বিশেষ করে যখন আপনি গুগল ক্রোমে একটি নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট থেকে সাইন ইন করেন।

ব্যক্তিগত ব্রাউজ এক্ষেত্রে সহায়ক নয়
একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে আপনি যদি ব্রাউজারে ছদ্মবেশী/ব্যক্তিগত মোডে ব্রাউজ করেন তাহলে এই সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারে না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্রাউজার অ্যাড-অন সহ আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যা আপনাকে অ্যাড ব্লক করার মতো কাস্টমাইজ সেবা সমূহ দিতে পারবে।

হট স্পট শিল্ড এর মাধ্যমে আইপি অ্যাড্রেস লুকিয়ে রাখুন
আইপি অ্যাড্রেস সাধারণত ডেটা এবং অন্যান্য তথ্য যা একটি ওয়েবসাইট আপনার সম্পর্কে জানেন, সেগুলোর সংযোগ লিংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, সাইটে আপনার নিবন্ধন বিবরণ এর ওপর ভিত্তি করে ওয়েবসাইটে আপনার দেশ বা শহর জানতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন তদন্তের সময় ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারীদের আইপি অ্যাড্রেসগুলো জিজ্ঞাসা করে।

লগ আউট করুন
সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে সব সময় লগ-ইন থাকবেন না। আপনি যদি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সর্বদা লগ-ইন থাকেন তাহলে আপনি সহজেই ট্র্যাকিং এর শিকার হতে পারেন কারণ আপনি সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে ইন্টারনেটে যা কিছু করছেন তা জানাচ্ছেন। একবার আপনি লগ আউট হয়ে গেলে, আপনার সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি আপনার সার্ফিংটি ট্র্যাক করতে পারবে না।

ইমেইল এর জন্য আপনি ট্র্যাকিং ব্লক বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন।

অবশেষে বলা যায়, সাইবার স্পেসে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ কেউ বা অন্য কেউ ট্র্যাক করছে। এটি আপনার ওপর নির্ভর করে যে আপনার সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো কেমন হবে। অন্যথায়, আপনার ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের দ্বারা সহজেই অপব্যবহার হয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: গেজেটসনাউ।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ