ঢাকা, শনিবার, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

একাত্তরে শেলের আঘাতে পা হারানো ফারিজা ভাল নেই

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-০৩ ৩:৩০:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-০৫ ৪:৫১:৩৯ পিএম
পঙ্গু নারী মুক্তিযোদ্ধা ফারিজা খাতুন

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ : পঙ্গু নারী মুক্তিযোদ্ধা ফারিজা খাতুনের ভাতা বন্ধ হয়ে আছে ৭ মাস।এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধকালে শেলের আঘাতে পা হারানো এই নারী।

২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের যে ৬ নারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, ফারিজা খাতুন তাদেরই একজন।স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অন্য ৫ নারী হলেন- চুনারুঘাট উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জের উবাহাটা গ্রামের সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণকারী বীরাঙ্গনা রাজিয়া খাতুন, চুনারুঘাটের চান্দপুর চা বাগানের বীরাঙ্গনা হীরামনি সাঁওতাল, বীরাঙ্গনা সাবিত্রী  নায়েক, একই উপজেলার গোছাপাড়া গ্রামের বীরাঙ্গনা পুষ্পরানী শুক্লবৈদ্য ও মালতি রানী শুক্লবৈদ্য। এদের হীরামনি সাঁওতাল মারা গেছেন। বাকি ৫ জন জীবিত আছেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জের পঙ্গু, বীরাঙ্গনা ও সম্মুখ সমরে অংশ নেয়াসহ ৬ নারীকে ৪২ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ‘চেতনায়-৭১ হবিগঞ্জ’ নামে সংগঠনের সদস্য সচিব এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হবিগঞ্জের এই নারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পঙ্গু ফারিজা খাতুন বানিয়াচং উপজেলার হলদারপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের কন্যা।১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এম এ রবের বাড়ি মনে করে বানিয়াচং উপজেলার হলদারপুর গ্রামে বিমান থেকে নিক্ষেপ করা শেলে ১০ জন নিহত হয়, আহত হয় অসংখ্য নারী-পুরুষ । সেদিন শেলের আঘাতে ফারিজা খাতুনও একটি পা হারায় । পঙ্গু হওয়ার কারণে আজ অবধি বিয়েও হয়নি তার।

 


ফারিজা খাতুনের সঙ্গে প্রতিবেদক

 

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৬ বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবিত ৫ জনের ভাতা চালু থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে হঠাৎ করেই ফারিজা খাতুনের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।৭ মাস ধরে ভাতা বন্ধ থাকায় তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ফারিজা খাতুন বলেন, ‘গেজেটভূক্ত হওয়ার পর প্রথমে ৩ হাজার, পরে ৫ হাজার, এরপর ৮ হাজার, সর্বশেষ ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পেয়েছি।  এ ভাতার টাকায় মোটামুটি ভালই চলছিল আমার। হঠাৎ ভাতা বন্ধ হওয়ায় খুব কষ্টে দিন অতিবাহিত করছি। ভাতা চালুর জন্য বিভিন্নস্থানে ধর্ণা দিয়েও ফল পাইনি।’

এ ব্যাপারে এমপি কেয়া চৌধুরী বলেন, ‘ফারিজা খাতুনের  ভাতা চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি চালু হয়ে যাবে।’



রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/৩ আগস্ট ২০১৭/মামুন চৌধুরী/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন