ঢাকা, রবিবার, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ০৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘এবারের ঈদসেলামি অসহায়দের দেবো’

মুতাছিম বিল্লাহ রিয়াদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২০ ৬:০০:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২১ ১:২৩:২৯ পিএম

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। প্রতি বছরের ন্যায় মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ নিয়ে আসে খুশির বার্তা। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদের আনন্দ। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।

প্রতি বছর দিনটিকে ঘিরে মনের ভেতরে একটা ছটফটানি শুরু হয়ে যায় সবার মাঝে। কেনাকাটা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন, নানা পরিকল্পনা দেখা যায় শিক্ষার্থীদের মাঝে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মহামারি করোনায় সব আমেজ নিস্তব্ধ হয়ে আছে। এবারের ঈদ উদযাপন নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুতাছিম বিল্লাহ রিয়াদ।

আখতার হোসেন আজাদ, লোক-প্রশাসন বিভাগ

যদিও ইদের প্রকৃত আনন্দ থাকে ছোটবেলায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে ফিকে হতে থাকে সব আনন্দ। তবুও অন্যবারের তুলনায় এবারের ইদ আরও ভিন্ন হবে ভেবেই হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছে। ছুটির দিনগুলো বাড়িতে থেকেই জনসচেতনতা সৃষ্টিতে অনলাইনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। এবার যেহেতু মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে, তাই পরিকল্পনা করেছি গ্রামের বন্ধুদের নিয়ে সংগঠিতভাবে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করবো।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং মুসল্লিদের মাঝে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি বাড়ি থেকে অজু করে আসতে সবাইকে উৎসাহিত করবো। ইদের নামাজ শেষ হলে দ্রুত মুসল্লিদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানাবো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা অন্য কোনো ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার করে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করতে পরামর্শ দেবো। সেই সাথে আরেকটি পরিকল্পনা করেছি, ঈদের প্রাপ্ত সেলামি সম্পূর্ণই করোনায় কর্মহীন অসহায় ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ব্যয় করবো।

আসমা খাতুন, ইংরেজি বিভাগ

ঈদ মানেই আনন্দ-খুশির আমেজ । দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালন শেষে আসে মহা আনন্দের ঈদ। এই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে কত পরিকল্পনা! মায়ের হাতের নানা রকমের রান্না, বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে ঈদ মেলায় ঘুরতে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া সবই এখন স্মৃতিপটে নাড়া দিয়ে উঠেছে। করোনায় সব পরিকল্পনা এবার থমকে আছে। সবাইকে করে রেখেছে গৃহবন্দি। হয়তো আমার একটু অসাবধানতায় আক্রান্ত হতে পারে একটি পুরো পরিবার। তাই এবার ঈদ কাটাতে চাই পরম ভালোবাসায়, অতি আপন মা-বাবার সাথে। ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করতে শপিংয়ের টাকা দিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে চাই। সময়ের বিবর্তনে ঈদ বার বার আসবে। বিশ্বের এই ক্রান্তিলগ্ন কেটে গেলে না হয় আগামী বছর থেকে আবার ধুমধাম করে ঈদ পালন করবো। এবার নিজের, পরিবারের এবং দেশের স্বার্থে ঘরে থাকব, সুস্থ থাকব।

আবু সোহান, ব্যবস্থাপনা বিভাগ

ঈদ মানেই আনন্দ। তবে এবারের ঈদটা একটু অন্যরকম। কিছুটা অস্বাভাবিকতার ছোঁয়ায় সব এলোমেলো মনে হচ্ছে। প্রতি বছর এ আনন্দের দিনটিকে ঘিরে আবেগের বশবর্তী হয়ে নানা আমেজ আর কল্পনা দিয়ে বাস্তবতা সাজাই। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে একসাথে ঈদগাহে নামাজ আদায় করা, পুলকিত হৃদয়ে কারোর সাথে কোলাকুলি করাও এবার হবে না। এমনকি বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে আমরা রসের গল্প করে ভাব জমিয়ে ঈদের সেমাইও খেতে পারবো না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার।

পরিকল্পনা করেছি, সারাদিন ছোটো ভাই, মা-বাবার সাথে মিষ্টি মধুর গল্প করে সময় কাটাবো। বাড়িতে বসেই আত্মার সাথে সম্পর্ক যাদের তাদের ফোন কল দিয়ে খোঁজ নেবো। দেশের এমন পরিস্থিতিতে বাড়িতে থেকেই ঈদ উদযাপন করুন, সুস্থ থাকুন। অগ্রিম ঈদ মোবারক।

মাসুদ রানা, ইংরেজি বিভাগ

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনার রাজত্ব। কোটি কোটি মানুষের আর্তনাদে প্রকম্পিত বিশ্বের প্রতিটি জনপদ। এরই মাঝে উপস্থিত মুসলিম জগতের সবচেয়ে আনন্দের দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই রঙ-বেরঙের নতুন পোশাক, আত্মীয় স্বজনের মিলন, হৈ-হুল্লোড়ে সেমাই পায়েশ খাওয়া ইত্যাদি। প্রতি বছর ঈদের দিন সকাল সকাল গোসল শেষে ঈদগাহে সালাত আদায় ও পড়ন্ত বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কেটে যেতো। তবে এবার সেরকম কিছুই হবে না।

করোনা প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে প্রতি দিনের মতো গৃহবন্দি থাকতে হবে। দেশের এ ক্রান্তিকালে নতুন জামা নয়, উচ্চ মানের খাবার নয়, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেই উদযাপন করব এই বারের ঈদ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে দিয়ে ঘরোয়া পরিবেশেই পালন করব এই মহা উৎসব।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

ইবি/হাকিম মাহি