ঢাকা, শনিবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২৮ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনাভাইরাস: বাণিজ্য পর্যটন ফুটপাত ব্যবসায় ধাক্কা

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-০৭ ১০:২৬:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-০৮ ৬:০১:৪৬ পিএম

করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে চীন। একে মন্দার অর্থনীতি, তার ওপর করোনা আতঙ্ক সব মিলিয়ে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। এর ঢেউ বয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশেও। তবে দেশে এখনই এর প্রভাব না পড়লেও অর্থনীতি‌বিদরা বলছেন, চীনা পণ্য আমদানি বন্ধের ধাক্কা লাগবে বাংলাদেশের ফুটপাতের দোকানগুলোতে। আশঙ্কা রয়েছে আমদানি-রপ্তানি ও পর্যটন খাতেও।

এর‌ই মধ্যে আমদানির ক্ষেত্রে চীনের বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। তাদের আশঙ্কা, করোনার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে কাঁচামাল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। এছাড়া স্বল্প সময়ে বিকল্প উৎস-দেশের (সোর্স কান্ট্রি) সাথে আলোচনাও সম্ভব নয়।

দেশের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ শিল্প পণ্য আমদানির সবচেয়ে বড় বাজার হলো চীন। দেশটি থেকে অনেক খাদ্যপণ্যও আসে দেশের বাজারে। পরিস্থিতির আরো সঙ্কটাপন্ন হলে বাংলাদেশের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা বড় অংশ চীনের সঙ্গে সম্পর্কিত। করোনার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হবে আমদানির পরিসরে। পোশাক, চামড়া ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতেও প্রভাব পড়বে বলে জানান তারা। দেশের অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্য‌ক্তিগত পর্যায়ে চীনা পণ্যের ব্যবসা করে। ই-কমার্স, ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা এবং ফুটপাতের দোকানগুলোর ব্যবসা অন্যতম। কিন্তু হঠাৎ করে চীন থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করতে হওয়ায় এ ধরনের ব্যবসায়িদের জন্য একটি ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে এটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষুদ্র পর্যায়ের এসব ব্যবসার ক্ষেত্রে করোনার প্রভাব দৃশ্যমান হবে বেশি। যদিও এটি দেশের অর্থনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না বলে মনে করেন অনেকে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এ ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোগের ভালো অবদান রয়েছে দেশের অর্থনীতিতে।

উৎপাদন খাতেও করোনার প্রভাবের আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিজাত বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামালের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে চীন থেকে। বর্তমানে এসব কাঁচামাল আমদানি বন্ধ। পূর্বের আমদানি করা মজুত থেকে এখন চলছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আপাতত চীন থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ র‌য়েছে। ফলে নতুন করে এসব কাঁচামাল আর আসছে না। মজুত ফুরিয়ে যেতে যেতে করোনা ভাইরাসের সমাধান না হলে এর প্রভাব প্রকট হতে পারে।  

খেলনা, প্লাস্টিক পণ্য, খাদ্য থেকে শুরু করে ভারী শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি হয় চীন থেকে। আবার রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের মেশিনারিজ, কাঁচামাল, প্রাথমিক পণ্যও আমদানি হয় দেশটি থেকে।

দেশের বড় অবকাঠামোতে উন্নয়ন কাজের অনেক যন্ত্রপাতি আমদানি হয় চীন থেকে। এসব প্রকল্পের কাজও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করা চীনা নাগরিকদের যারা তাদের দেশে রয়েছেন, তাদের কাজে যোগ দিতেও দেরি হবে। এতে প্রকল্পের কাজে সমস্যা না হলেও কিছুটা প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর প্রয়োজনীয় উপকরণসহ সব ধরনের শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি হয় চীন থেকে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে অনেক খাতের পণ্য, কাঁচামাল সময়মতো আমদানি করা যাবে না। ফলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ কমে যেতে পারে। আবার রপ্তানিও ব্যাহত হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত দশ বছরে একক দেশ হিসেবে চীন সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশে। এই বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার। যা ওই অর্থবছরের মোট আমদানির ২৬.১ শতাংশ।

অন্যদিকে চীনে পাট ও পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর বাংলাদেশ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

এদিকে, করোনা ভাইরাস আতঙ্কের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পর্যটন খাতেও। চীনের অনেক পর্যটক বাংলাদেশে আসেন। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই চীনে বিভিন্ন কারণে যাতায়াত করেন। বাংলাদেশের অনেকে অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক কারণ ছাড়াও চীনে ভ্রমণ করেন। বিশেষ করে শীতকাল বা তার কাছাকাছি সময়ে। কিন্তু করোনার কারণে বিমান যোগাযোগ অনেকটাই অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ইতিমধ্যে চীন ভ্রমণ বাতিল করেছেন অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটক। ফ্লাইটের বুকিং বাতিল করা ছাড়াও টিকিট কনফার্ম থাকার পরও যাত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত না হওয়ায় যাত্রা বাতিল হচ্ছে।


ঢাকা/হাসান/সাইফ