ঢাকা, রবিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কারাবন্দিদের আইনি সহায়তা দিতে প্রকল্প

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২৩ ৯:৪৫:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৪ ৮:৪৯:৫৮ এএম

বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন, কারাবন্দিদের আইনি সহায়তা এবং জেলাখানায় বন্দিদের চাপ কমাতে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা কমিশনে ‘অ‌্যাকসেস টু জাস্টিস থ্রু প্রিজন অ‌্যান্ড জাস্টিস রিফর্মস’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ।

এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ‌্যমে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে জেলখানায় বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা কমানো হবে। কারাবন্দিদের আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিতদের দ্রুত মুক্ত করার ব‌্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কারা অধিদপ্তরের সেবা ও কার্যক্রম যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আরো গতিশীল করা হবে।

এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের পর চলতি বছরেরর জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ‌্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে কারা অধিদপ্তর। এটি বাস্তবায়নে ১০৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেবে জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (জিআইজেড)।

পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাবিত ডিপিপি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অসহায় কারাবন্দিসহ বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ‌্যে টেকসই অংশীদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় কারাগারকে সংশোধন করা হবে।

প্রকল্পের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হচ্ছে- আইনি সহায়তা, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও কারা সংস্কারের লক্ষ‌্যে টেকসই অংশীদারিত্ব স্থাপন, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সংস্কারের সমন্বয়ের মাধ্যমে মামলার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কারাবন্দিদের সংশোধন, পুনর্বাসন ও সমাজে পুনর্বহাল এবং কারাগারে বন্দির সংখ্যাধিক্য ও মামলার জটবদ্ধতা হ্রাসে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে আইনি সংস্কারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, মামলার জটবদ্ধতা নিরসন ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ‌্যে গঠিত ‘কেস কো-অর্ডিনেশন কমিটির’ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি মামলা ব্যবস্থাপনায় প্রকল্প ‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স’ এ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কারাবন্দিদের পুনর্বাসনের লক্ষ‌্যে সাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কারা অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সাথে কারাবন্দিদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনর্বহাল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

কারাবন্দিদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ‌্যে আধুনিক ও যুপোযোগী কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং মুক্তি পরবর্তী সময়ে সমাজে পুনর্বহালের জন্য বৃত্তি প্রদানের বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে।

অসহায় কারাবন্দিদের পরিবারকেও বৃত্তি প্রদানের বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে। জেল আপিলের বিষয়ে ডিজিটাল সলিউশন তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিষ্পত্তিকৃত আপিলগুলোর বর্তমান অবস্থা ও শুনানি ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষ ও বিচার বিভাগের মাঝে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- প্যারালিগ্যাল কার্যক্রম ৩৩টি জেলায় অব্যাহত রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিকরণ, কেস কো-অর্ডিনেশন কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও প্রাতিষ্ঠিনিকীকরণ, কারাবন্দিদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনর্বহালের লক্ষ‌্যে সাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, কারাবন্দিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, কারাবন্দিদের সমাজে পুনর্বহাল, মাদকাসক্ত বন্দিদের চিকিৎসা, কারাবন্দিদের পরিবারকে সহায়তা বৃদ্ধি করা।

এছাড়া, জেল আপিল প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ‌্যে ডিজিটাল সলিউশন তৈরি, কারা আইন ও কারা বিধি প্রণয়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান, বিভিন্ন কার্যক্রমকে সাধারণ জনগণের মাঝে প্রচারের লক্ষ‌্যে যোগাযোগ কৌশলপত্র প্রণয়ন এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাসফর করা এ প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ‌্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান সেলিনা আক্তার পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলেছেন, ডিপিপিতে সংযোজনীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু টিএপিপিতে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ পুনঃনির্ধারণ করা যেতে পারে। ডিপিপির অনেক জায়গায় অস্পষ্টতা এবং অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, এগুলো ঠিক করতে হবে।


ঢাকা/হাসিবুল/রফিক