ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কারিগরি বোর্ডে সর্ষের মধ‌্যেই ভূত

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-৩১ ৮:৩৩:১৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-৩১ ৫:৪৩:১৩ পিএম

অসদুপায় অবলম্বন করে অন‌্যের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে চলতি বছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ বিষয়ে তথ‌্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে রাইজিংবিডি ডটকম। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এবার সেই তদন্ত কমিটিই অভিযুক্তদের রক্ষা করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

গত ১৪ অক্টোবর রাইজিংবিডিতে ‘টাকায় মেলে এসএসসি’র রোল-রেজিস্ট্রেশন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এক মাস অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়, তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বোর্ডে ডেকে এনে প্রভাবিত করেন।

পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বোর্ডের সচিব মো. মাহাবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে রাইজিংবিডির প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত করতে বলা হয়। এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ১৯ ডিসেম্বর একটি নির্দেশনা (স্মারক নং ৫৭.১৭.০০০০.১০২.১২.২৬৯.১৮-২১২৪) জারি করে।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তদন্তে অভিযুক্তদের নির্দোষ প্রমাণ করতে চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে একটি প্রশ্নমালা তৈরি করে এতে বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতামত নিয়ে বিষয়টিকে মিথ‌্যা প্রমাণ করার অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রশ্নমালাটি তৈরি করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. মাহাবুবুর রহমান। এতে শুরুতেই মতামত দেয়া ব‌্যক্তিদের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোর্ডের সচিব যেখানে প্রকাশ‌্যে কাগজে মতামত চান, কোনো অধীনস্ত কর্মকর্তা কি কখনো বিপরীত মত প্রকাশ করতে পারেন?

 

 

সচিবের তৈরি করা প্রশ্নমালায় ‘২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার নাম পরিবর্তন করে এবং ফলাফল টেম্পারিংয়ের মাধ‌্যমে পরীক্ষায় পাস করানো’ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিপ্লোমাতেও যে অনিয়ম হয়েছে এবং অন‌্যান‌্য যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেসব বিষয়ে কৌশলে পাশ কাটানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বোর্ডের সচিব এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. মাহাবুবুর রহমান সাক্ষাৎ দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি কয়েক বার কেটে দেন। পরে কমিটির সদস‌্য এবং বোর্ডের উপ-পরিচালক আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব‌্য করেননি।

পরীক্ষার ফল টেম্পারিং এবং টাকার বিনিময়ে রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বর বিক্রির অভিযোগ ওঠে বোর্ডের কম্পিউটার সেলের সিস্টেম অ‌্যানালিস্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামশুল আলমের বিরুদ্ধে। তদন্ত কমিটির চিঠিতেও তার নাম উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

এসব বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে- তদন্ত কমিটি যেহেতু হয়েছে, কমিটিই দেখবে, এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না। এর বাইরে কোনো মতামত তিনি দেবেন না।

প্রসঙ্গত, এসএসসিতে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া এমন কিছু রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায় যেগুলোর নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন হয়েছিল এক নামে আর পাবলিক পরীক্ষা দিয়েছে ভিন্ন নামে। এদের ‘ফরম ফিলাপ ইনফরমেশন’ এবং ‘রেজাল্ট ইনফরমেশন’ এর মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। এদের নাম দশম শ্রেণিতে এসে পরীক্ষার আগে চূড়ান্ত ফরম ফিলাপের সময় রিপ্লেস হয়। ২০১৮ সালের ডিপ্লোমাতেও একই ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে এমন চিত্র পাওয়া গেছে- ষষ্ঠ সেমিস্টারে ভর্তি দেখিয়ে অনেককে মাত্র এক বছরে এই কোর্সে পাশ করানো হয়েছে। এসব অনিয়মের অভিযোগ ওঠে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের বিরুদ্ধে। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। আগামী সপ্তাহে কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা।

** টাকায় মেলে এসএসসি’র রোল-রেজিস্ট্রেশন!


ঢাকা/হাসান/রফিক

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও