ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘কিছুতেই মায়ের শাড়িটি ধরতে পারি না’

আমিনুল ইসলাম শান্ত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০১ ৮:১৬:৩৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০১ ৪:১৫:৪৬ পিএম
স্বল্পদৈর্ঘ্য ‘আকাশে’ চলচ্চিত্রের দৃশ্য

‘ঘুমের মধ্যে দেখতে পাই, সবুজ কচুরি পানার ওপর মায়ের শাড়ি। তার চারপাশ থেকে ধোঁয়া উড়ছে। অনেকটা কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ। মায়ের শাড়িটি ধরতে যতই কাছে যাই, কেউ যেন আমাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। কিছুতেই মায়ের শাড়িটি ধরতে পারি না। শাড়িটি আমার কাছে মায়েরই প্রতিমূর্তি হয়ে ওঠে। একই ঘটনা বারবার দেখতে পাই। দৃশ্যটির কথা মনে পড়লেই চোখে জল চলে আসে। এই দৃশ্যটি আমাকে ভীষণভাবে স্পর্শ করে। কারণ আমি যেন মাকে-ই স্পর্শ করতে পারি না।’ রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলেন তরুণ অভিনেতা সুজয় রাজ।

তরুণ পরিচালক আহসান স্মরণ নির্মাণ করেছেন ‘আকাশে’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুজয় রাজ। চলচ্চিত্রটির একটি দৃশ্য প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন এই অভিনেতা।

গল্প প্রসঙ্গে পরিচালক আহসান স্মরণ বলেন, ‘একুশ বাইশ বছর বয়েসি তরুণ নুরুদ্দীন। সাদাসিধে স্বভাবের এই তরুণ অন্যের জমিতে কাজ করে। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছে। মায়ের মুখ ঠিক করে মনে করতে পারে না। মায়ের সঙ্গে দেখা করার বাঁধভাঙা ইচ্ছে তার। সে ছোটবেলা থেকে শুনে আসছে— মানুষ মরে গিয়ে আকাশে থাকে। তার মাও মরে গিয়ে নিশ্চয় আকাশেই আছেন। মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার আকাশে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে। আর এই ইচ্ছেকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাহিনি।’

সুজয় রাজ বলেন, ‘কাজটির প্রস্তাব পাওয়ার পর পরিচালক অর্থাৎ ফিল্মের টিমের সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করি। যদিও সময় স্বল্পতার কারণে চরিত্রটির জন্য খুব বেশি সময় পাইনি। যতটুকু পেয়েছি তার পুরোটাই পরিচালকের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করি। এতে করে চরিত্রটি ভেতরে ধারণ করতে থাকি। যখন মনে হয়েছে এখন আমি পারব ঠিক তখন শট শুরু করেছি।’

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘গল্পটিতে একটি ছাগল ও পাখি রয়েছে। যদিও পাখির দৃশ্যটি রাখা হয়নি। যাইহোক, এই ছাগলটির সঙ্গে থাকতে থাকতে এতটা কাছের করে নিয়েছিলাম যে, যখনই ছাগলটিকে ডাকতাম তখনই আমার কাছে চলে আসতো। শুধু তাই নয়, যা বলতাম তা চুপচাপ দাঁড়িয়ে বা বসে বসে শুনত। গল্পে যখন আমি মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা হবো, তখন দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মনে হয় ওকে আমি কার কাছে রেখে যাব! তারপর ছাগলটি সঙ্গে নিয়ে রওনা হই।’

চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রের নাম নুরুদ্দীন। আর এই চরিত্রে দেখা যাবে সুজয়কে। চলচ্চিত্রটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সুজয় বলেন, ‘ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছি। তাই মায়ের প্রতি আমার দূর্বলতা একটু বেশি-ই। মা শব্দটি শোনলেই চোখে জল চলে আসে। এ বিষয়টি আমার চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে অনেক বেশি সহায়তা করেছে। তাছাড়া নির্মাণ কাজ অসাধারণ হয়েছে। কারণ আমরা একটি দৃশ্যেও ফাঁকি দেইনি।’

চলচ্চিত্রটির অন্যতম চরিত্র হাকিম। এটি রূপায়ন করেছেন ইবনুল কাইয়ুম সনি। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘আমার চরিত্রটি গ্রামের স্বল্পবিদ্যা ভয়ংকর টাইপ মানুষজনের প্রতিনিধিত্ব করে। মাকে খুঁজতে আকাশে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নুরুদ্দীন আমার কাছে পরামর্শ চাইতে এলে, নুরুদ্দীনকে বাঁশের মাচা বানিয়ে তার ওপর বসে আকাশ গবেষণা করার পরামর্শ দিই। আর বাঁশের দূরবীণ বানিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে বলি। আকাশের সীমা খুঁজে না পেয়ে নুরুদ্দীন আবার আমার কাছে পরামর্শের জন্য ছুটে আসে। এ সময় বিরক্ত হয়ে বলি, ‘আল্লার দুনিয়া যে গোল, সেডা বার বার প্রমাণ কত্তিছে, বারবার তোর সঙ্গে আমার দেখা করায় দেচ্ছে।’ আল্লার দুনিয়া গোল শুনে নুরুদ্দীনের মাথায় নতুন গবেষণার ভূত ঢোকে। সে নতুন করে গবেষণায় মেতে ওঠে এবং নিজের মতো করে আকাশের শেষ সীমানার ঠিকানা পেয়ে যায়। পরে চরিত্রটি নিজেকে বেশ জ্ঞানী ভাবতে শুরু করে এবং আত্মতৃপ্তিতে মগ্ন হয়।’’

এছাড়াও চলচ্চিত্রটির অন্য একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন— ইরাজ মাহমুদি। যশোরের বিভিন্ন স্থানে এর দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে। চিত্রগ্রহণে ছিলেন সমর ঢালি।

কিছুদিন আগে ময়মনসিংহে বসেছিল ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল বাংলাদেশ-২০১৯’। এতে প্রদর্শিত হয়েছে এটি। সেখানেও ঢের প্রশংসা কুড়ায় চলচ্চিত্রটি। আরো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।


ঢাকা/শান্ত

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন