ঢাকা, বুধবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কিশোর অপরাধী চক্রের ভুল টার্গেটে খুন রিকশাচালক

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৬ ৪:১০:১৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১৬ ৯:৫২:৪৬ পিএম
কিশোর অপরাধী চক্রের ভুল টার্গেটে খুন রিকশাচালক
Walton E-plaza

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকায় রিকশাচালক রাজু খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে জনৈক মফিজুর রহমানকে হত্যা করতে গিয়ে ভুল করে রিকশাচালক রাজুকে হত্যা করেছে একটি কিশোর অপরাধী চক্র।

বৃহস্পতিবার নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা এবং পরিকল্পনাকারী ছগির নামের একজন মাদক ব্যবসায়ী। ছগির হাজীপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মাদকসেবী কিশোরদের গ্যাংয়ের মাধ্যমে ছগির এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রভাব বিস্তার করতেন। গত ২৭ এপ্রিল নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন হাজীপাড়ার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ছগির। ছগিরের গ্রেপ্তারের পেছনে তার সহযোগী মফিজের যোগসাজশ রয়েছে, এই ধারণা থেকে জেলখানা থেকে তার কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে মফিজকে হত্যার নির্দেশ দেন ছগির।

জেলখানা থেকে নির্দেশ পেয়ে গত ১৩ মে সন্ধ্যায় ছগিরের বাসায় মফিজকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। সেখানে ছগিরের স্ত্রী সেলিনা আক্তার শেলী (৩০) ও ছেলে কিরণ, হত্যায় অংশ নেওয়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে মা ও ছেলে মিলে মফিজকে মেরে ফেলার জন্য শুক্কুরকে ১ হাজার টাকাসহ কিরিজ, চাইনিজ কুড়াল, ছুরি দেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মফিজকে হত্যা করতে ১৪ মে ফজরের নামাজের পর তার ভাড়া ঘরে যায় শিমুল, শুক্কুর, রাকিব, সিফাত ও সুজন। এই সময় বাইরে থেকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পরে নূর নবী ও রুবেলের ওপর। হত্যার সময় যাতে আশপাশের ঘরগুলোর কেউ বাধা দিতে না পারে এজন্য পাশের সব ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় তারা। কিন্তু এ সময় তারা হত্যার মূল টার্গেট মফিজের ঘরে প্রবেশ করার পরিবর্তে ভুল করে তার পাশের বাসা রিকশাচারক রাজুর ঘরে প্রবেশ করে। এই সময় অন্ধাকারের মধ্যেই ঘুমন্ত রাজুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এসে রাজুকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু ঘটে। তবে হত্যার আগে রাজু এই হামলায় ছগিরের ছেলেদের সম্পৃক্ততার কথা বলে যায়। রাজুর বক্তব্যের সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিশোর অপরাধীচক্রের ১০ জনের মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, কিরিচ ও চাইনিজ কুড়াল।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা খুনের দায় স্বীকার করেছে। পরিকল্পিতভাবে মফিজ নামে একজনকে হত্যা করতে গিয়ে ভুলে রাজুকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা পুলিশকে জানিয়েছে।





রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/১৬ মে ২০১৯/রেজাউল/সাইফুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন