ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কী আছে জিপি-রবির ভাগ্যে?

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-০৫ ৭:৫২:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-০৫ ১০:৩৭:২৪ পিএম

দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বিটিআরসি বলছে, এ দুই অপারেটরের কাছে যে অর্থ পাওয়া রয়েছে, তা জনগণের টাকা। তারা ব্যবসা করবে, কিন্তু বকেয়া টাকা পরিশোধ করবে না, তা হতে পারে না। উচ্চ আদালত তাদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে যে রায় দিয়েছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এক্ষেত্রে দুই অপারেটরের লাইসেন্স বাতিলসহ যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাখে সংস্থাটি।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেছেন, উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, সে অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার এখতিয়ার রাখি। আদালত গ্রামীণফোনকে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। এর মধ্যে তারা যদি বকেয়া পরিশোধ করে, তাহলে তো ভালো। যদি পরিশোধ না করে, তাহলে আইনে যেসব ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে, সেগুলোই নেয়া হবে। লাইসেন্সের নিয়ম যদি কেউ না মানে, তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিলের এখতিয়ার বিটিআরসি রাখে।

তিনি বলেন, আমরা মামলা করিনি। মামলা করেছে গ্রামীণফোন ও রবি নিজেরাই। আদালত যেভাবে বলেছেন, আমরা এর বাইরে যাব না।

এদিকে, গ্রামীণফোনের সর্বশেষ অবস্থান জানতে চাইলে আদালতের রায়ের বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চায়নি প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলছে, এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ অডিট। এটিকে ঘিরে গ্রামীণফোনের ওপর যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে বিটিআরসির ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে। তাই আমরা আশা করি, বিটিআরসি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও গ্রাহকদের সেবা দেয়ার বিষয়ে যেকোনো প্রকার বাধা দেয়া থেকে বিরত থাকবে।

এদিকে, রোববার পৃথক এক রায়ে আদালত বিটিআরসির পাওনা বাবদ ১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ টাকা আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, বিটিআরসি রবির বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এ বিষয়ে রবির অবস্থান জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, নিরীক্ষা দাবির বিষয়ে অন্য একটি অপারেটরের ক্ষেত্রে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে আদেশ দিয়েছেন, তার আলোকে আজ আমাদের আপিলের বিষয়ে একটি আদেশ দিয়েছেন। একটি ভিত্তিহীন ও বিরোধপূর্ণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যে দাবি আমাদের কাছে করা হচ্ছে, তার ওপর উচ্চ আদালত যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন সেজন্য রবি কৃতজ্ঞ। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের শর্ত অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের যে নির্দেশনা আছে সেটি নজিরবিহীন এবং হতাশাজনক।

বিটিআরসি যদি কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয় সেটি গ্রাহকদের জন্য ভোগান্তি হতে পারে বলে মনে করে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ‌্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, যদি অপারেটররা বিটিআরসিকে এ টাকাটা দেয়ও সেটি গ্রাহক থেকে আদায় করে নেবে অপাটেরগুলো। সেটি যেকোনোভাবেই তারা করতে পারে। এটা ভাবার সুযোগ নেই যে, তারা এর জন্য নতুনভাবে ইনভেস্ট করবে।

তিনি বলেন, বিটিআরসি যদি আগের মতো ব্যান্ডউইথ কমানোসহ এ জাতীয় কোনো পদক্ষেপ নেয়, সেক্ষেত্রে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিটিআরসির উচিত হবে, যারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট আছেন তাদের সবার সঙ্গে বসা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত না হন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এতে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা টেকসই করার ক্ষেত্রে বিটিআরসি সব সময় সোচ্চার। তবে কেউ যদি বিধি না মেনে বা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে ব্যবসা করতে চায়, সেক্ষেত্রে আমরা একবিন্দুও ছাড় দেব না।

তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী রবি ও গ্রামীণফোনকে তাদের দেনা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি। তবে এক্ষেত্রে গ্রাহকের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেটি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসি ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনা দাবি করছে। আর দ্বিতীয় বড় অপারেটর রবি আজিয়াটার কাছে দাবি করা হচ্ছে ৮৬৭ কোটি টাকা। এ পাওনার উৎস প্রতিষ্ঠান দুটিতে বিটিআরসির চালানো নিরীক্ষা। গ্রামীণফোনের ওপর নিরীক্ষা করা হয় ১৯৯৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত। আর রবির ওপর নিরীক্ষা করা হয় ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত। বিটিআরসি বলছে, রাজস্ব ভাগাভাগি, করসহ বিভিন্ন খাতে এ টাকা ফাঁকি দিয়েছে অপারেটর দুটি।

অবশ্য শুরু থেকেই গ্রামীণফোন ও রবি নিরীক্ষার দাবির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে আসছে। তারা চায়, সালিশের মাধ্যমে পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হোক। যদিও বিটিআরসি বলে আসছে, তাদের আইনে সালিশের সুযোগ নেই।

পাওনা আদায়ে ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয়া, প্যাকেজ ও সরঞ্জাম আমদানির অনুমোদন বন্ধ করার পরও সাড়া না পেয়ে বিটিআরসি অপারেটর দুটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এ বিষয়ে আদালতে যায় গ্রামীণফোন ও রবি।


ঢাকা/ইয়ামিন/রফিক

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও