ঢাকা, রবিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কী হবে আইএসের ভবিষ্যৎ

শাহেদ হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২৯ ৬:২২:৫৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২৯ ৬:২২:৫৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি মার্কিন অভিযানে নিহত হওয়ার পর দুদিন পেরিয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাদের পরবর্তী নেতার নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে বাগদাদির মৃত্যুতেই কয়েক বছর আগে বিশ্বে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সংগঠনটি নিঃশেষ হয়ে গেছে তেমনটি নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

২০১৪ সালের পর বাগদাদির নেতৃত্বে আইএস হয়ে উঠেছিল আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংসতম সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার প্রচার-প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয় আইএস। এক পর্যায়ে সংগঠনটি ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ন অঞ্চল দখল করে নেয়,আয়তনের দিক থেকে যা ইংল্যান্ডের সমান। এই অঞ্চলে ধর্ষণ, গণহত্যা, শিরশ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটায় তারা। ২০১৬ সাল থেকে আইএসের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। গত বছর ইরাক ও সিরিয়ার বড় একটি অংশ থেকে উচ্ছেদ করা হয় আইএসকে। শেষ পর্যন্ত গত মার্চে সিরিয়ার শেষ অবস্থান থেকে বিতাড়িত হয় আইএস।

লন্ডনের কিংস কলেজের ডিফেন্স স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক আন্দ্রেজ ক্রিয়েগ বলেন, ‘আমি কয়েক বছর ধরেই বলে আসছি, এই সংগঠনটি এক প্রকার ভার্চুয়াল খেলাফতে পরিণত হয়েছে; যেটি একটি ফ্রাঞ্চাইজি, যা অন্য গ্রুপগুলো কিনতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী বিক্রি করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘তথাকথিত স্বঘোষিত খলিফাকে হত্যার মাধ্যমে এর মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কারণ বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং খেলাফতের পতনের পর অন্য গ্রুপগুলো সিরিয়া,ইরাক, আফগানিস্তান ও আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলসহ অন্য কোথাও আন্ডারগ্রাউন্ডে লড়াই চালিয়ে যাবে।’

আইএসের পরবর্তী প্রধানের নিয়োগ প্রসঙ্গে ক্রিয়েগ বলেন, ‘এই মৌলবাদি গোষ্ঠীগুলোর রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইরাকে আল-কায়েদার নেতা আবু মুসাব নিহত হওয়ার পর গোষ্ঠীটি দ্রুত সেখানে তাদের নতুন প্রধানকে নিয়োগ দেয়। ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর একইভাবে গোষ্ঠীটি অন্য কাউকে স্থলাভিসিক্ত করে।  আমার মনে হয়, আমরা তেমন কিছুই আইএসের কাছ থেকে শুনতে পাব।’

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বাগদাদির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি মনোনয়নের তালিকা ছোট হয়ে এসেছে।

আইএসের ইরাক বিশেষজ্ঞ হিশাম আল হাশেমি জানান, এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন আবু ওসমান আল তিউনিসি এবং আবু সালেহ আল জুজরাউই, যিনি হজ আব্দুল্লাহ নামেও পরিচিত।

এদের মধ্যে আবু ওসমান তিউনিসিয়ার নাগরিক এবং আইএসের শুরা কাউন্সিল ও পরামর্শক পরিষদের সদস্য। আর সৌদি নাগরিক আবু সালেহ আইএসের নির্বাহী কমিটি প্রতিনিধি পরিষদের প্রধান।

আল-হাশেমি বলেন, এই সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ এই দুজনের কেউই ইরাকি কিংবা সিরীয় নয়। এই মুহূর্তে আইএসের ভূমিহীন যোদ্ধাদের সংগঠিত করতে এই দুজনের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত ভাঙনের মুখে পড়তে পারে আইএস।

আইএসের আরেক শীর্ষ নেতা আব্দুল্লাহ কারদাশকে নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা কারদাশ যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত ইরাকি কারাগার ক্যাম্প বুকাতে বাগদাদির সঙ্গে আটক ছিলেন।

আল-জাজিরার সাংবাদিক জানিয়েছেন, বাগদাদির স্থলাভিসিক্ত কিংবা তার পরবর্তী নেতা হিসেবে আইএসের পক্ষ থেকে কখনোই কারদাশের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

এছাড়া আইএস বিশেষজ্ঞ আল-হাশেমি ও জাওয়াদ তামিমি জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে কারদাশ নিহত হয়েছেন।

‘কারদাশের মেয়ে বর্তমানে ইরাকি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক। তিনি ও তার অন্যান্য স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন যে, কারদাশ ২০১৭ সালে নিহত হয়েছেন’ বলেন হাশেমি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও সিরিয়ায় পরাজয়ের পর বাগদাদি আইএসের বোঝা হয়ে উঠেছিলেন। এরপরও তার মৃত্যু সংগঠনটির ওপর বড় ধরণের আঘাত। তবে বিশ্বব্যাপী সংগঠনটির ব্যাপ্তি দেখে মনে হচ্ছে, এই আঘাত সাময়িক। হয়তো অচিরেই কেউ বাগদাদির স্থলাভিষিক্ত হয়ে আরো ভয়ঙ্কর আঘাত হানতে পারে মানব সভ্যতার বুকে।


ঢাকা/শাহেদ