ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কেবল দাঁড়িয়ে থাকলেই জিতত যুবারা?

নবীন হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৪ ৯:২৩:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-১৫ ৮:১২:২৬ এএম

নবীন হোসেন : অ‌্যামব্রোস, ওয়ালসদের আমলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটদল একদিনের আন্তর্জাতিক ম‌্যাচে ৩৫ থেকে ৪০ রান দিত শুধু অতিরিক্ত থেকে। হালের ৩০০ বলের ম‌্যাচেগুলোতেও ১৫ থেকে ২০ রান হরহামেশাই আসছে এ খাত থেকে।

যুব এশিয়া কাপের চ‌্যাম্পিয়ন হবার জন‌্য ৩০০ বলে দরকার ছিল মাত্র ১০৭ রান। ১১ যুবা মিলে করতে পারল ১০১ রান। যার মধ‌্যে ‘অতিরিক্ত’ নামের ‘১২তম খেলোয়াড়ে’র অবদান ১৮ রান। একটু দাঁড়িয়ে থাকলেই তো ‘উনি’ আরো কিছু রান দিতে পারতেন? তাতেই প্রথমবার চ‌্যাম্পিয়নের উত্তরীয় গায়ে জড়াতে পারতো ক্রিকেটের আগামী কাণ্ডারীরা।

অনূর্ধ্ব-১৯ দল অলআউট হয়েছে ৩৩ ওভারে। মানে ম‌্যাচের তখনও বাকি ১০৭ বল। দল হারল মাত্র ৫ রানে। ১০৭ বলে ৫ রান, তিনকাঠিকে (স্টাম্প) ব‌্যাট, প‌্যাড আর শরীর দিয়ে কোনো মতে ঢেকে রাখলেই তো তা এসে যাবার কথা। শেষ দিকের ব‌্যাটসম‌্যানরা ব‌্যাটে-বলের সম্পর্ক গড়তে দুর্বল মেনেই সিঙ্গেলকে ডবল করার চেষ্টা করতে পারত। কিন্তু তরুণদের শারিরিক ভাষায় ম‌্যাচ জয়ের কোনো ছাপই দেখা যায়নি। ড্রেসিং রুমের দিকে যতবার টিভি ক‌্যামেরা গেছে, ততবারই যুবাদের অভিভাবকদের দেখা গেছে মুখে হাত দিয়ে বসে আছেন। তাদের মধ‌্যেও কোনো ভাবাবেগ নেই! কেবল টিভি পর্দায় চোখ রেখে এ দেশের কোটি দর্শক আরেকটি অসহায় আত্মসমর্পণের সাক্ষী হলো।

টিম ম‌্যানেজমেন্ট দেশে ফিরে অনেক ‘যদি’ ‘কিন্তু’ ‘তবে’ দিয়ে পাঁচ সাত হয়ত বুঝিয়ে দেবেন। যদি বৃষ্টি না নামতো, আম্পায়ার কিন্তু একটা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তবে আমরা চেষ্টা করেছি। ফাইনালে ওঠার পর জেতা ম‌্যাচ হেরে যাবার পর এ ধরনের যদি, কিন্তুতে কেউ তুষ্ট হবে বলে মনে হয় না।

৭৮ রানে সাত নম্বর ব‌্যাটসম‌্যান হিসেবে আউট হলেন অধিনায়ক আকবর আলী। তখনও রান প্রয়োজন ২৯। অথচ ওভার বাকি ২৯.১। প্রতি ওভারে এক রান হলেও এক বল হাতে রেখে ম‌্যাচ জেতা যেত। আকবর আউট হবার পর ড্রেসিং রুম থেকে খেলোয়াড়দের জন‌্য কোনো বার্তা নিয়ে মাঠে ছুটে যেতে দেখা যায়নি কাউকে! কিন্তু কেন? মৃত‌্যুঞ্জয় আর তানজীব হাসানকে কী  বলা যেত না-শুধু দাঁড়িয়ে থাক। ম‌্যাচ এমনিই বের হয়ে আসবে।

তানজীব ৩৫ বল খেলে ১২ রান করল। শেষের তিন ব‌্যাটসম‌্যান যদি এমন টেস্টের মেজাজে খেলতেন তাহলে ৫ রানের হারের বদলে আজ কলম্বোতে তরুণদের জন‌্য পার্টিত রেডিই ছিল।

শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় দলকে জেতানোর পর আফিফ হোসেনকে ফোন দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যুবাদের মাথায় কি একবারও তাদের অভিভাবকরা ঢুকাতে পারেননি, কাপটি নিয়ে দেশে ফিরলে ক্রিড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী তাদের নিশ্চয়ই সংবর্ধনা দেবেন।

টার্গেট মাত্র ১০৭। তার বিপরীতে বাংলাদেশের স্কোরকার্ডে রানের পরিমাণ যেন কোনো এটিএম কার্ডের পিন নাম্বার ০, ৫, ১, ০, ৩।  ৪০ রানে ৫ উইকেট পড়ার পরও খেলোয়াড়দের কোন শলা পরামর্শ করতে দেখা যায়নি। শরিরিভাষায় মনে হয় হারটা মেনেই খেলছে তারা। জেতা ম‌্যাচ আগেও অনেকবার হেরেছে বাংলাদেশ দল বিভিন্ন সময়ে। শুধু পরিকল্পনা আর নিজেদের আত্মবিশ্বাসের অভাবে। এই বৃত্ত থেকে কবে বের হবে আমাদের খেলোয়াড় আর তাদের অভিভাবকরা।

১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ইনিংস ওপেন করে ৭৮ রান করেছিলেন স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি মজা করে বলেছিলেন- ‘আমিতো ব‌্যাটসম‌্যান না। যা করব তাই লাভ। চিন্তা করে নামলাম যে, দরকার হলে চোখ বন্ধ করে বাড়ি মারব বলে।’

আজ যদি রফিকের কথাও কেউ কানে কানে বলে দিত যুবাদের তাহলেও ফল হয়ত অন‌্যরকম হতো।

ভারতীয় স্পিনার অথর্বা আনকোলেকারের সাধারণ মানের ঘূর্ণিতেই লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশি যুবাদের ব‌্যাটিং। আচ্ছা ওর নাম ‘অথর্ব’ রাখল কে? ২৮ রানে ৫ উইকেট নেয়ার পর মনে হয় না তাকে কেউ অথর্ব বলে আর ডাকবে।

তবে এই ধরনের নামে বাংলাদেশের যুবা খেলোয়াড় আর কোচিং স্টাফদের কেউ ডাকুক সেটাও কিন্তু একদম কাম‌্য নয়।

লেখক : সাংবাদিক


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯/নবীন/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন