ঢাকা, রবিবার, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ক্রিকেট বিশ্বে সেরা ১০ কোচ (শেষ পর্ব)

রুহুল আমিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-২৪ ৫:২৯:০৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-২৪ ৫:৫৪:০৮ পিএম

রুহুল আমিন : সাফল্যের চাবিকাঠি হল দক্ষতা। কিন্তু এটাও ঠিক যে শুধু দক্ষতা থাকলেই সফলতা আসে না। প্রয়োজন দক্ষতার পরিচর্যা। কিভাবে দক্ষতা কাজে লাগানো যায় তার পরিকল্পনা করা।প্রতিভা আর অধ্যবসায় থাকলে মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় প্রতিভাবান হয়েও লক্ষ্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হতে হয়। প্রতিভার সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনার অভাবে ব্যর্থ হতে হয়।

এটা জীবনের সবক্ষেত্রেই মোটামুটি প্রযোজ্য। এমনকি আমরা খেলাধুলার বিষয়, বিশেষ করে ক্রিকেট নিয়ে ভাববো যখন তখনো দেখব একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারছেন না। হয়তো একজন ভাল গাইড পেলে ভাল করা সম্ভব হতো। ক্রিকেটে একজন কোচের ভূমিকা অনেক। যিনি খেলোয়াড়দের প্রতিভাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানোর মন্ত্র শেখাবেন। গাইড করবেন, শিক্ষা দিবেন কি করে সঠিক পথে এগিয়ে গেলে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। কোচ খবুই অপরিহার্য দলের জন্য, খেলোয়াড়দের জন্য।

একজন কোচ ভাল করেই জানেন কিভাবে প্রত্যেকটি খেলোয়াড়কে এককভাবে মনোযোগ দিতে হয়। খেলোয়াড়দের বিশ্বাস ও সামর্থ্য ও দুর্বলতা চিহ্নিত করেন কোচরা। তাদেরকে ভাল করে বুঝেন। তাদের নিয়ে কাজ করেন। কোচ জানেন খেলোয়াড়দের কিভাবে ট্রিট করতে হয় দলীয়ভাবে, এককভাবে এবং কিভাবে সফল হওয়ার মন্ত্র শিখাতে হয়। বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা ১০জন কোচ নিয়ে আমাদের আয়োজনে আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব :

ডানকান ফ্লেচার : জিম্বাবুয়ে দলের প্রাক্তন খেলোয়াড় ডানকান ফ্লেচার। ফ্লেচারের নেতৃত্বে ১৯৮২ সালে আইসিসি ট্রফি জেতে জিম্বাবুয়ে।১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। ২০০৭ সাল পর্যন্ত দলটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময় তিনি ইংল্যান্ড দলে আমূল পরিবর্তন আনেন। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের দুরবস্থাকে দূরে ঠেলে পুণরুজ্জীবন ঘটাতে সমর্থ হন।



ফলশ্রুতিতে ২০০৫ সালে ইংলিশ ক্রিকেট ইতিহাসে ১৮ বছর পর অ্যাশেজ সিরিজ জেতে ইংল্যান্ড। আর তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ তাকে অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ ছাড়া ২০০৭ সালে তার অধীনে ইংল্যান্ড কমনওয়েলথ ব্যাংক সিরিজ জেতে। পরে ২০১১ সালের এপ্রিলে তিনি ভারত দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। তার অধীনে ভারত দল ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন ট্রফিসহ মোট আটটি সিরিজ জেতে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি ভারত দলের কোচ ছিলেন।

অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার : জিম্বাবুয়ে দলের প্রাক্তন খেলোয়াড় অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ক্রিকেট ইতিহাসে উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরাদের একজন বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে তার অবদান হল, তিনিই একমাত্র জিম্বাবুইয়ান খেলোয়াড় যিনি আইসিসির সর্বকালের সেরা ১০০ টেস্ট ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩১তম স্থানে আছেন।



২০০৭ সালের মে মাসে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরে ২০০৯ সালে তিনি দলটির প্রধান কোচ হন। ফ্লাওয়ার দায়িত্ব পালনকালে ইংল্যান্ড দল ২০১০ সালে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং  ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৩ সালে অ্যাশেজ জিতে। ২০১১ সালে ব্রিটেনের রাণীর জন্মদিনের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্রীড়ায় অবদান রাখায় ফ্লাওয়ারকে অফিসার অব দি অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) পদকে ভূষিত করা হয়।

টম মুডি : অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন খেলোয়াড় টম মুডি। মুডি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৮৭ ও ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। ২০০২ সালে ওরচেস্টারশায়ার ক্রিকেট ক্লাবের পরিচালকের দায়িত্ব নেন তিনি। পরে ২০০৫ সালের মে মাসে শ্রীলংকা দলের কোচ নিয়োগের মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয। তার অধীনেই ২০০৭ সালে শ্রীলংকা বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে।



পরে ২০০৭ সালের মে মাসে তিনি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থিত দল ওয়েস্টার্ন ওয়ারিয়রসের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। তার তত্ত্বাবধানে ২০০৮ সালে কেএফসি টি-টোয়েন্টি বিগ ব্যাশে দলটি ফাইনাল খেলে। আর ২০১৩ সালে তিনি আইপিএলের দল সাইরাইজার হায়দরাবাদের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানেও তিনি দলটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কোচিং ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তিনি বিগ ব্যাশ লিগে চ্যানেল নাইন ও চ্যানেল টেনের ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড্যারেন লেহম্যান : অস্টেলিয়ান প্রাক্তন খেলোয়াড় ড্যারেন লেহম্যান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৭ টেস্ট ও ১১৭ টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি।  ২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়া সেন্টার অব এক্সিল্যান্স এর সহকারী কোচ হিসেবে তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরে ২০১০ সালে বিগ ব্যাশের দল কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।



আর ২০১৩ সালে মিকি আর্থারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ারের সূচনা হয়। এখন পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক কোচিংয়ের পাশাপাশি ২০১৩ সালে আইপিএলের দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মাইক হেসন : বর্তমান নিউজিল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাইক হেসন। আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয় মাইক হেসনকে। তিনি সবচেয়ে কম বয়সে কোচিং পেশায় আসেন। ১৯৯৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি নিউজিল্যান্ডের ওটাগো ক্রিকেট ক্লাবে শিক্ষানবিশ কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। সাত বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন।



পরে তিনি ২০১১ সালে কেনিয়া ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু অল্প সময় পর ২০১২ সালের মে মাসে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কেনিয়া দলের কোচের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। কারণ, তিনি কেনিয়ায় সপরিবারে অবস্থান করছিলেন। এরপর ২০১২ সালের ২০ জুলাই তিনি নিউজিল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৫ সালে তার নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে চুক্তির মেয়াদ বর্ধিত করা হয়।

তারও আগে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আট মাস দায়িত্ব পালন করেন।তার দায়িত্বের সময় দক্ষিণআমেরিকার এই দলটি টানা ৩১ ম্যাচে হারার পর তিন ম্যাচে জয় লাভ করেছিল।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ এপ্রিল ২০১৭/রুহুল/আমিনুল