ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নূর হোসেনের ইস্যুতে তোপের মুখে রাঙ্গা

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১২ ১০:৪৫:৩৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১২ ১১:২০:৩৬ এএম

নূর হোসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্মরণীয় একটি নাম। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ হন নূর হোসেন। তাকে ‘ইয়াবাখোর’ মাদকাসক্ত মন্তব্য করে ঘরে বাইরে তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমার রাঙ্গা এমপি।

তোপের মুখে পরে সারাদিন বাসা থেকে বের হননি জাপা মহাসচিব। প্রতিদিন একবার হলেও তিনি বনানী অফিসে যান। সোমবার সারাদিন তিনি বাসায় দুশ্চিন্তায় সময় পার করেছেন বলে জানা গেছে।

জাপা মহাসচিবের বক্তব্য নিয়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদের ঝড় ওঠলেও দলের চেয়ারম্যান হিসেবে এখনো মুখ খুলেননি জিএম কাদের। তার পক্ষে কোনো বিবৃতিও আসেনি। বরং এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ বিব্রত। এ জন্য তিনি দিনভর সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার তাকে মুঠোফোনে ফোন করা হলেও জিএম কাদের ফোন ধরেননি।

শহীদ নূর হোসেনকে স্মরণ করার দিন যখন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচার দিবস পালন করছিল সেদিন রোববার জাতীয় পার্টি গণতন্ত্র দিবস পালনের নামে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ওই সভা থেকে শহীদ নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ আখ্যায়িত করেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। সেই বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় তার ওই বক্তব্য। নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ফেসবুকে  শহীদ নূর হোসেনকে নয় বরং উল্টো জাপা মহাসচিব রাঙ্গাকেই মাদকাসক্ত উল্লেখ করে তার শাস্তি দাবি করা হয়। সময় যতই গড়ায় বিষয়টি নিয়ে ততই উত্তপ্ত হতে থাকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। সরকারি দল, বিএনপি, বাম রাজনৈতিক দল, ধর্মভিত্তিক দলসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা একযোগে জাপা মহাসচিবের এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন। তারা তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

একদিন না যেতেই সোমবার নূর হোসেন ইস্যুতে মাঠে নেমে যায় সরকার সমর্থিত যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা রাঙ্গার কুশপুতুল দাহ করে। খোদ রংপুরে নিজ ঘরে রাঙ্গার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। তার বিচারের দাবিতে মিছিল মিটিং করে রংপুরে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। রাঙ্গার বিচার চেয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ করে শহীদ নূর হোসেনের পরিবার।

রাঙ্গার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু। নূর হোসেন ইস্যুতে সারা দেশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন সংগঠন। সরকারি দলের নেতারাও ক্ষুব্ধ। ইতোমধ্যে  আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এর নিন্দা জানিয়ে তীব্র  প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

শহীদ নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ বলে নিজ দলেও তোপের মুখে পড়েছেন জাপা মহাসচিব রাঙ্গা। ইয়াবা, ফেনসিডিল যখন ছিল না, সেসময় শহীদ নূর হোসেন ইয়াবা সেবন করতেন বলে দলের মহাসচিব বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয়ায় দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এতে খুব ক্ষেপেছেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ সিনিয়র নেতারা।

বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জিএম কাদের সোমবার বনানীতে একটানা অফিস করেন। নেতাকর্মীদের খুব বেশি সময় দেননি। তার চোখে মুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। দলের সিনিয়র নেতা সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি।

এসময় জিএম কাদের উপস্থিত সিনিয়র নেতাদের কাছে নূর হোসেন নিয়ে এ ধরনের বাজে বক্তব্য দেয়ায় দলের মহাসচিবের উপর ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেন। তার এ বক্তব্য সরকার কিভাবে নেয় তা নিয়ে এখন চিন্তিত আছেন দলের চেয়ারম্যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার প্রভাবশালী নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিবহন শ্রমিক নেতা যদি দলের মহাসচিব হয়ে যায় তাহলে তার কাছ থেকে এধরনের বক্তব্যই আসবে। তার লাগামহীন কথাবার্তা নিয়ে যেমন বিক্ষোভ হচ্ছে, তেমনি হাসাহাসিও হচ্ছে। এতে জাতীয় পার্টির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি রাঙ্গাকে জাপা মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, রোববার বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জাপা আয়োজিত  ‘গণতন্ত্র দিবস’ এর আলোচনা সভায় রাঙ্গা তার বক্তব্যে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাকে হত্যা করলেন। নূর হোসেনকে? নূর হোসেন কে? একটা অ্যাডিকটেড ছেলে। একটা ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিলখোর।’

এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রীরও সমালোচনা করেন।

রাঙ্গা বলেন, ‘নূর হোসেনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নাচানাচি করে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখবেন নূর হোসেন দিবস। সেই নূর হোসেন চত্বর এরশাদ করে দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গণতন্ত্রটা হলো এমন, যারা অতি ফেন্সিডিলখোর, ইয়াবাখোর, যারা ক্যাসিনোর ব্যবসা করে, তারাই হলো গণতন্ত্রের সোনার সন্তান।’

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আরেক শহীদ ডা. মিলনকে বিএনপি পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করেছে বলেও দাবি করেন রাঙ্গা।

 

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/জেনিস/এনএ

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও