ঢাকা, শুক্রবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ঘাটতি পূরণে এবারো ১৫০০ কোটি টাকা

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-০২ ৮:০৫:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-০৪ ৬:১২:৩৮ পিএম
ঘাটতি পূরণে এবারো ১৫০০ কোটি টাকা

কেএমএ হাসনাত : আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার চিন্তা করছে সরকার। চলতি অর্থবছরেও এ খাতে একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। নানা দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে ব্যাংকগুলো ব্যাপক মূলধন সংকটে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী অর্থবছরে একই পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হবে বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে টাকার অঙ্কের পরিমাণ এ মাসের প্রথমার্ধে চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাব করার দিন দেওয়া বাজেট সংক্ষিপ্তসার বইয়ে ‘মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ’ শিরোনামে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া থাকত এবং এটি সবার দৃষ্টিগোচর হতো খুব সহজেই। কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই শিরোনামে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এ সংক্রান্ত কোনো শিরোনামেও বাজেট সংক্ষিপ্তসারে উল্লেখ করা হয়নি।

মূলধন ঘাটতি পূরণে রাখা এ বরাদ্দ অন্য একটি শিরোনামে রাখা আছে। যার নামকরণ করা হয়েছে ‘ইক্যুয়িটি রি-ইনভেস্টমেন্ট’ বা ‘সম-মূলধন বিনিয়োগ’।  অনেকটা চাতুরির সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বাজেট বইয়ে এই তথ্যটি স্থান পেয়েছে বলে জানা গেছে। এই বইটি শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়েরই জন্য নির্দিষ্ট থাকে। এবারো ইক্যুয়িটি রি-ইনভেস্টমেন্ট শিরোনামে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বাজেট বইয়ে এই অর্থ বরাদ্দটি স্থান পাবে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতি বছর এই বিনিয়োগ করে আমরা কোনো রিটার্ন পাচ্ছি না।  তাই এ ধরনের বরাদ্দটি শেয়ার হিসেবে বা সম-মূলধন হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।  এ ছাড়া এ বরাদ্দ যখন প্রতিবছরই করতে হচ্ছে, তাই একে আমরা রি-ইনভেস্টমেন্ট বলছি।’

তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রতিবছর এই অর্থ বরাদ্দ দিয়ে ব্যাপক সমালোচনা মুখে পরে অর্থ মন্ত্রণালয়।  তাই বিষয়টি যাতে তেমন কোনো প্রচার না পায় তার জন্য পুরো শিরোনামটি পরিবর্তন করে শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বইয়ে এই বিষয়টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রবল মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকগুলো। এই মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সরকারের কাছে গেল ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। মূলধন ঘাটতি পূরণের সবচেয়ে বেশি অর্থ চেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ঘাটতি পূরণের তাদের প্রয়োজন ৭ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে জনতা ব্যাংক। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে খেলাপি ঋণের শীর্ষে থাকা এই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন ৬ হাজার কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকের দরকার ৪ হাজার কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে ৭৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সরকারি অংশ পূরণেও প্রয়োজন আরো ১ কোটি ১২ লাখ টাকা।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত চার অর্থবছরে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংক বেসিককে। এই ব্যাংককে মোট দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। বরাদ্দের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সোনালী ব্যাংক। তাদের দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। একইভাবে জনতা ব্যাংকে ৮১৪ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকে ৩১০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ৭২৯ কোটি ৮৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

তবে এবার অস্বাভাবিক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে রাষ্ট্রীয় খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক জনতা ব্যাংক। তাদের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, শুধু এক বছরের ব্যবধানে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৩০৪ কোটি ৭৭ লাখ। ফলে এক বছরেই জনতার খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এই ঋণের পুরোটাই আবার দুটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কাছে রয়েছে। যাদেরকে দুর্নীতির ও অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই ঋণ দিয়েছে। ফলে ব্যাংকটি গত বছর নিট লোকসান করেছে ৩ হাজার কোটি টাকা।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ মে ২০১৯/হাসনাত/সাইফুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন