ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

চট্টগ্রাম থেকে ৪ গুণীর একুশে পদক

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৪ ৩:০১:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১৪ ৩:০১:৫৭ পিএম
আবুল মোমেন (বাঁ থেকে), আলমগীর সিরাজুদ্দীন, সুকুমার বড়ুয়া ও আজিজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : এ বছর একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে ১৭ জনকে। এর মধ্যে  চট্টগ্রামের রয়েছেন ৪ গুণী।

এরা হলেন- শিক্ষায় ইমিরেটাস প্রফেসর  ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন, ভাষা ও সাহিত্যে সুকুমার বড়ুয়া, সাংবাদিকতায় আবুল মোমেন ও শুদ্ধ সঙ্গীতে ওস্তাদ ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম।

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন।

চট্টগ্রাম থেকে একুশে পদক প্রাপ্তদের বিস্তারিত :

ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯৩৭ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং প্রেসিডেন্ট পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৬০ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে তিনি ফ্যাকাল্টি অব আর্টসের ডিন নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি এবং ১৯৮৯ সালে সিনেটে ৮১ ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়ে তিনি ভিসি নির্বাচিত হন। বিভিন্ন বিষয়ে তার রচিত অনেকগুলো বই আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি লাভ করেছে।

বিশিষ্ট ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া। সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছড়া রচনা করে যাচ্ছেন। বিষয়-বৈচিত্র, সরস উপস্থাপনা, ছন্দ ও অন্তমিলের অপূর্ব সমন্বয় তার ছড়াকে করেছে স্বতন্ত্র। প্রাঞ্জল ভাষায় আটপৌরে বিষয়কেও তিনি ভিন্নমাত্রা দেন। তার ছড়া একাধারে বুদ্ধিদীপ্ত, শাণিত; আবার কোমলও বটে। তার ছড়ার বইয়ের নামগুলোও অদ্ভুত সুন্দর। যেমন ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘ঠুসঠাস’ ইত্যাদি। তার কয়েকটি ছড়াসমগ্র প্রকাশিত হয়েছে।

স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বহু বছর ধরে তার ছড়া জনপ্রিয় ও সুপাঠ্য। ছড়াকার হিসেবে এর আগে পেয়েছেন ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’, ‘অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার’, ‘শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’, ‘আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা’, ‘নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার’সহ আরও অনেক স্বীকৃতি।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবুল মোমেন। আবুল মোমেনের জন্ম চট্টগ্রাম শহরে। শিক্ষাজীবন শেষে তার সমগ্র কর্মজীবনও চট্টগ্রামে। ১৯৪৮ সনের ১৮ ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহন করেন। পারিবারিকভাবে তিনি সাহিত্যের পরিবেশে বড় হয়েছেন। স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছে চট্টগ্রামে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্ব শেষ করেছেন ঢাকায়। কবিতা, প্রবন্ধ এবং কলাম লিখে চলেছেন নিয়মিত। সাংবাদিকতার বাইরে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষা নিয়ে। এই সূত্রে তিনি শিশু-কিশোরদের জন্যে ছড়া-গল্প-নাটক লেখার পাশাপাশি শিশুশিক্ষা নিয়েও প্রচুর লিখেছেন এবং এখনও লিখছেন। দেশ, সমাজ, শিক্ষা ভাবনার সূত্রে রবীন্দ্রনাথ তার চিন্তা জগতের প্রধান অবলম্বন। তাকে নিয়ে লিখেছেন একাধিক বই। মননশীল প্রাবন্ধিক হিসেবে দেশে ও কলকাতায় তিনি যথেষ্ট সমাদৃত। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কলকাতা থেকে তার দশটির বেশি প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে। দেশে-বিদেশে তিনি বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। বাংলা ও বাঙালির কথা গ্রন্থের জন্য তিনি অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে প্রবন্ধ সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন আবুল মোমেন।

বংশীবাদক ওস্তাদ ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম। ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে তিনি স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে। পেশাগত জীবনে তিনি একজন নাবিক। ধ্রুপদী সঙ্গীতের একনিষ্ঠ অনুরাগী ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম কর্মজীবনের ফাঁকে ফাঁকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শ্রবণ ও তার চর্চা অব্যাহত রাখেন। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সবখানেই তিনি বাঁশি শুনিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। দেশেবিদেশে অজস্র সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এ শিল্পী।



রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/রেজাউল করিম/রুহুল

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিভাগ