ঢাকা, সোমবার, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

জবি ছাত্রলীগে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫

আশরাফুল ইসলাম আকাশ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৩ ৮:৪৪:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-০৩ ৮:৪৪:২৫ পিএম

জবি প্রতিনিধি : ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বের ঘটনার জের ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বাস ভাঙচুর হয় ও ১৫ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়।

সংঘর্ষের চলাকালে ক্যাম্পাসে ককটেল বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক শাহীন মোল্লাসহ প্রক্টরিয়াল বডির কয়েকজন সদস্য আহত হন। হেলমেট পরিহিত ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কর্মীরা লোহার রড, লাঠি, হাতুরী, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারমুখী হয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে ক্যাম্পাসে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। রোববার সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, প্রেম ঘটিত তুচ্ছ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মী আইয়ুব তুহিনের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মুন, ১৩ ব্যাচের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রিফাতসহ কয়েকজন এবং তাকে মারধর করে। এরপর সভাপতি তরিকুল ইসলামের গ্রুপের কর্মী মনোবিজ্ঞান বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান নয়ন ও রিফাত একটি হাসপাতালে তুহিনকে ভর্তি করিয়ে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে এলে তাদের ওপর সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীরা হামলা চালায়।

এর জের ধরে রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পদকের গ্রুপের কর্র্মীরা একত্রিত হয়ে ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারের সামনে ও বিজ্ঞান ভবনের চত্বরে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে দু পক্ষের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়।

দুগ্রুপের কর্মীরা লাঠসোটা, লোহার রড, হাতুরী, চাপতি নিয়ে নামে এবং পরষ্পরকে লক্ষ্য করে  ইটপাটকেল ছোড়ে। সভাপতির গ্রুপের কর্মীরা সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাসের পেছনের গেট দিয়ে বের করে দেয়। সভাপতির গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেয়। সাড়ে ১১টার দিকে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে সভাপতি গ্রপের কর্মীরা তাদের আবার ধাওয়া করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মাঝখানে পড়ে যান। সহকারী প্রক্টর শাহীন মোল্লাসহ কয়েকজন ইটের আঘাতে আহত হন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন ও ক্যান্টিনের সামনে কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ক্যাম্পাসের ভেতরে দাড়িয়ে থাকা চারটি বাস ইটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুপুর ১টার দিকে ক্যাম্পাসের ভেতরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সভাপতির গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে পরিসংখ্যান বিভাগের শ্রেণিকক্ষের দরজা ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের সময় অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী হেলমেট পরিহিত ছিল। তারা ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোটরবাইকে থাকা হেলমেট কেড়ে নেয়। এদিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় রফিক ভবন ও অবকাশ ভবনের বারান্দায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে ছিলো। ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ওপরও ইটপাটকেল ছোড়ে। অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলা থেকে সাংবাদিকরা ছবি তুলতে ভিডিও করতে চাইলে ছাত্রলীগের মেয়ে কর্মীরা সাংবাদিক সমিতির ভেতরে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন সেট কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী খালিদ মাহমুদ সুযন (১৩ তম ব্যাচ), সামসুল হুদা গাজী (১৩তম ব্যাচ), মামুন (১২তম ব্যাচ), মাহফুজ (১২তম ব্যাচ), প্রান্ত (১২তম ব্যাচ), রেজওয়ান, ইশরাক চৌধুরী (১৪তম ব্যাচ), নোমানসহ ১৫ জন আহত হন। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার, সুমনা হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল, মিটফোর্ট হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জবি ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার মেয়েলি একটা বিষয় নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে মারধর করে। রোববার এ ঘটনার সমাধানে আমাদের নিজেদের মধ্যে বসার কথা ছিল। কিন্তু সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা তার আগেই আমার কর্মীদের উপর আক্রমন করছে। আমি অসুস্থ্য থাকার কারণে ক্যাম্পাসে না আসায় পরে আমার ছেলেরাও সাধারণ সম্পাদকের কর্মীদের ধাওয়া করে। পরে ক্যাম্পাসে সিনিয়র নেতাদের পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করি।

জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল বলেন, ‘পূর্বঘটনার জের ধরে মারামারির সুত্রপাত হয়। আমার কর্মীদের ওপর সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা আক্রমণ করেছে। আজকের ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে।’ তবে সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

কোতয়ালী জোনের এসি বদরুল হাসান বলেন, ‘ক্যাম্পসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় আমরা মাঝখানে অবস্থান নেই। এবং দুই পক্ষকে আলাদা রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। এ সময় ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে অতিরিক্ত দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে আগামীকাল জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘আজকের ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডিকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/আশরাফুল/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন