ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

জিএম কাদেরই চেয়ারম্যান, নেই রাঙ্গা

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-০৬ ৯:১১:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-০৭ ৮:১৬:৩১ এএম
জিএম কাদেরই চেয়ারম্যান, নেই রাঙ্গা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরকে মনোনয়ন দিয়ে গেছেন, তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনিই দলের চেয়ারম্যান।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথসভা শে‌ষে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

জাতীয় পা‌র্টির সা‌র্বিক প‌রি‌স্থি‌তি নি‌য়ে আ‌য়ো‌জিত জরু‌রি যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির একাং‌শের চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ত‌বে তার মহাস‌চিব বরাবরের মতো এ সভায় উপ‌স্থিত ছি‌লেন না। তার অনুপ‌স্থি‌তি নি‌য়ে নেতা-কর্মী‌দের ম‌ধ্যে নানা আলোচনা হচ্ছে।

মহাসচিব রাঙ্গাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না কেন- জানতে চাইলে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, চারদিন আগে জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করে স্পিকারের কাছে যে চিঠি গেছে, তার প্রথম স্বাক্ষরটি করেছেন আমাদের মহাসচিব। প্রথম কাদের ভাইকে চেয়ারম্যান করার যে ঘোষণা সেটিও স্বাক্ষর করেছেন তিনি। স্পিকার আমাদের চিঠি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাদের (রওশন) পক্ষে কেউ স্বাক্ষর দিতে পারেননি।

ফিরোজ রশীদ বলেন, বিভিন্ন কুৎসা রটানো হচ্ছে। জাতীয় পার্টি গঠতন্ত্র মোতাবেক চলে, এর বাইরে কারও কিছু করা সম্ভব না। একজন সিনিয়র সদস্য আরেকজনকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন- এটি গঠনতন্ত্র বিরোধী। চেয়ারম্যান (এরশাদ) জীবদ্দশায় যেহেতু বলে গেছেন তাই জিএম কাদেরই দলের চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অপরাধ। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০ উপধারা ১(ক)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যে কোন পদে যে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারবেন, যেকোন ব্যক্তিকে অপপসারণ করতে পারবেন এবং যেকোন ব্যক্তিকে তার নিজস্থলে স্থলাভিষিক্ত করতে পারবেন। তার মানে চেয়ারম্যান তার নিজ অবস্থানে যে কাউকে চেয়ারম্যান করতে পারবেন।

তি‌নি ব‌লেন,  ১৭ আগস্ট প্রেসিডিয়াম হয়েছিল, সেখানে ৩৪ জনের মধ্যে ২৬ জন বক্তব্য রেখেছিলেন। তারা বলেছিলেন, পার্টির যিনি চেয়ারম্যান তিনি হবেন পার্লামেন্টের বিরোধীদলের নেতা। সেই রেজ্যুলেশনের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যদের ডেকেছিলাম, সেখানে ১৫ জন সংসদ সদস্য জিএম কাদেরকে মনোনয়ন দিয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। সে অনুযায়ী আমরা স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলাম।

কাজী ফি‌রোজ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদ পার্লামেন্টারি মিটিং ডাকেননি। পার্লামেন্টারি মিটিং ডাকতে হবে সেটা কোথাও নেই। যারা বলছেন মিটিং ডাকা হয়নি, তারা গঠনতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা এটি বলেছেন। সারা দেশ থেকে সব জেলা থেকে এরশাদ যাকে তার মৃত্যুর পর স্থলাভিষিক্ত করে গেছেন তিনিই হবেন চেয়ারম্যান, তার পক্ষে গোটা জাতীয় পার্টি আছে।

এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউ‌দ্দিন আহ‌মেদ বাবলু, সাহিদুর রহমান ‌টেপা, সুনীল শুভ রায়, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, আজ সব পত্রিকার শিরোনাম জাতীয় পার্টি। এটা আমাদের জন্য সুখবর। তার মানে জাতীয় পার্টি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দল। সেই সাথে সারা দেশের নেতা-কর্মী প্রয়াত চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাত্ম আছেন। সব দলের একজন কর্ণধার থাকেন, যাকে কেন্দ্র করে দল সামনের দিকে যায়। এরশাদ মানেই জাতীয় পার্টি, তাই মৃত্যুর আগে তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন, স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী জিএম কাদের তার অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

যৌথ সভায় উপ‌স্থিত ছি‌লেন প্রে‌সি‌ডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, আলহাজ্ব সাহিদুর রহমান টেপা, অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), হাবিবুর রহমান, সুনীল শুভ রায়, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মনির, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, সৈয়দ দিদার বখ্ত, কাজী মামুনুর রশীদ, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নাজমা আখতার এমপি, আব্দুস সাত্তার মিয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল রানা এমপি, সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান, নুরুল ইসলাম তালুকদার।

আ‌নিস, ফখরুল‌দের ব‌হিষ্কার দা‌বি:

জাতীয় পা‌র্টির নতুন চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ঘ‌নিষ্ঠ প্রে‌সি‌ডিয়াম সদস্য ব্যা‌রিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও ফখরুল ইমাম‌দের ব‌হিষ্কার দা‌বি ক‌রে‌ছেন জিএম কা‌দের অনুসা‌রি দ‌লের প্রেসি‌ডিয়াম  সদস্যর ও বেশকিছু সংসদ সদস্য। তারা দ‌লে বিশৃঙ্খলা সৃ‌ষ্টির জন্য এসব নেতাকে দায়ী ক‌রেছেন।

 

রাই‌জিং‌বি‌ডি/ঢাকা/৬ সে‌প্টেম্বর ২০১৯/নঈমুদ্দীন/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন