ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ঢাকা অ্যাটাক, আশা জাগানিয়া সিনেমা

রুহুল আমিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২২ ১:২২:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-২২ ৩:২০:০৩ পিএম

রুহুল আমিন: ৬ অক্টোবর দেশের ১২৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ঢাকা অ্যাটাক’। প্রথম সপ্তাহে বক্স অফিসের সফলতার পর দ্বিতীয় সপ্তাহে আরো সাতটি প্রেক্ষাগৃহ মুক্তির তালিকায় যোগ হয়েছিল। তবে তৃতীয় সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা নেমে আসে ৫০-এ। সিনেমাটির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান অভি কথাচিত্র সূত্রে জানা যায়, প্রথম দুই সপ্তাহ শেষে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দাপটের সঙ্গে চলা এই সিনেমাটি থেকে ছয় কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে।

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া অমিতাভ রেজা চৌধুরী নির্মিত ‘আয়নাবাজি’র পর ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সবচেয়ে ব্যবসা সফল সিনেমা বলা যায়। বাংলা সিনেমার দর্শক বহুদিন পর সপিরবারে লাইন দিয়ে হলে ঢুকে সিনেমাটি দেখে তৃপ্তি নিয়ে হল থেকে বের হয়েছেন। ছবির গল্প, নির্মাণ, অভিনয় শিল্পীদের অভিনয়, মিউজিক- এসব নিয়ে কথা বলার সুযোগ আছে। কথা বলা যাবে কিছু অসঙ্গতি নিয়েও। কিন্তু দীপংকর দীপন নির্মাতা হিসেবে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দিয়ে সফল হয়েছেনে একথা নিঃসন্দেহে এখন বলা যায়। পরিপূর্ণ বিনোদন নির্ভর সিনেমা ‘ঢাকা অ্যাটাক’। পুরো ছবিতে দর্শক টান টান উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করেছেন পরের দৃশ্যে কী ঘটছে দেখার জন্য। সিনেমা দেখে হল থেকে বের হওয়ার সময় মনে মনে ভাবছিলাম, বহুদিন পর হলভর্তি দর্শকদের সঙ্গে বসে দেশের সিনেমা দেখলাম। সমকালীন সময়ে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো দেখার চেষ্টা করি। প্রায়ই দেখি হলের অর্ধেকের বেশি সিট খালি থাকে। তা স্টার সিনেপ্লেক্সই হোক আর বলাকা, অভিসার সিনেমা হলই হোক।

সব ছবি যে দর্শক হুমড়ি খেয়ে দেখবে তেমনটা আশাও করি না। কিন্তু আমাদের ডুবু ডুবু চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য বছরে অন্তত দু-চারটা সুপার হিট সিনেমা না হলে, আগামীতে ইন্ডাস্ট্রি বলে কিছু থাকবে বলে মনে হয় না। সে হিসেবে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ খুবই আশাবাদী করে, অন্তত আমি আশাবাদী। একটা নতুন হাওয়ার ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে হাওয়া বদলের আভাস দেয়। ক্রমাগত কমতে থাকা হলগুলো বাঁচানোর জন্য ঢাকা অ্যাটাকের মতো সিনেমা খুবই প্রয়োজন আমাদের। হল বাঁচাও আন্দোলন রাস্তায় নেমে বা আলোচনা, মিটিং মিছিল করে যতটা কার্যকর করা যাবে, তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি কার্যকর হবে যদি ভালো সিনেমা উপহার দেওয়া যায় দর্শকদের। এতে দর্শকরা ফিরবে হলে, লগ্নিকারীরা পাবে তাদের অর্থ বিনিয়োগে রির্টানের নিশ্চয়তা, হল মালিকরাও আগ্রহী হবে। অন্য ব্যবসায় না গিয়ে হল বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করবে।

আমাদের মূল ধারার নির্মাতাদের দায় অনেক ছিল। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছরে তারা তাদের জায়গা থেকে ভালো কিছু করেছেন বলে মনে হয় না। বিগত কয়েকমাস ধরে তাদের ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শেষ সম্ভাবনাও যেন ডুবতে থাকার অপেক্ষায়। যৌথ প্রযোজনা ও ভারত বাংলাদেশে ছবি মুক্তি, সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতীয় সিনেমার মুক্তি, ইন্ডাস্ট্রির শিল্পীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সব মিলিয়ে একটা বৈরী সময় পার করছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র। এই বৈরী সময় থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকা অ্যাটাকের মতো ছবি সত্যি আশাবাদী করে তোলে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ আরো একটি বিষয় পুনরায় প্রমাণ করলো, দর্শক ভালো সিনেমা পেলে হলে গিয়ে দেখতে আগ্রহী। বরং বছরের পর বছর দর্শকদের বঞ্চিত করা হয়েছে সুস্থ বিনোদন থেকে।

আমি সিনেমাটি দেখেছি মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে সাভারের সেনা অডিটরিয়ামে। দুপুর ৩টার শো দেখে যখন বের হচ্ছি তখন দেখলাম ৬টার শো দেখতে দর্শক লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। আয়নাবাজির পর এই দৃশ্য দেখে সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ছবি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু কোনোটিরই শো শেষে এমন লাইন দেখে বাড়ি ফিরিনি। এখন কেবল আমাদের মূল ধারার পরিচালকদের অনুভব করার বিষয়। বস্তাপঁচা গল্প, দুর্বল নির্মাণ, সম্পাদনার অদক্ষতা এসব বিষয় উতড়ে তাদের নতুন করে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে এ কারণে, এই দেশে সুস্থ সিনেমার দর্শক এখনো অনেক। অন্তত চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আকারে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট। ভাবতে হবে এই কারণে যে পরিচ্ছন্ন সিনেমা দেখার জন্য আমাদের দর্শকরা মুখিয়ে থাকে। নির্মাতাদের কেবল এই দায়টা বোধ করতে হবে। তবেই আমাদের সিনেমার সুদিন ফিরবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ অক্টোবর ২০১৭/রুহুল/তারা