ঢাকা, শুক্রবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

তনু হত্যার ৩ বছর : এখনো শনাক্ত হয়নি অপরাধী

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২০ ১:০৯:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২০ ৫:২১:৪২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা : দেশের বহুল আলোচিত তনু হত্যার তিন বছর আজ। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় খুন হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্য, নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু।

তার হত্যার পর দীর্ঘ তিন বছর সময়েও হত্যাকারী শনাক্ত হয়নি, এমনকি তার পিতার দায়ের করা হত্যা মামলারও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। জিজ্ঞাসাবাদেই দীর্ঘ তিন বছর কেটে গেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থার।

তনু হত্যাকারীদের এখনও চিহ্নিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুর মা আনোয়ারা বেগমে জানান, প্রায় এক বছর ধরে সিআইডির সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। অফিসে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

তনুর মা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এবিষয়ে কথা বলতে চান। তিনি এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও তনু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে না পারার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, মামলাটির তদন্তে সিআইডি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

এদিকে তনু হত্যার বিচার দাবিতে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে তনুর সহপাঠীরা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী তনু হত্যার বিচার দাবিতে সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে ‘শোক বিয়োগান্তে ৩ বছর’ লেখা ব্যানার নিয়ে শোক র‌্যালি ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা তনু হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচার দাবি করেন।

তনু হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে আজ বিকেলে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব গণজাগরণমঞ্চ।

হত্যা মামলার তদন্ত কাজে কোনো স্থবিরতা নেই উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ম্যাচিংয়ের কাজ চলছে, এটি সময় সাপেক্ষ। মামলার প্রয়োজনে এখনও বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরে একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে দীর্ঘ সময় পরেও তনু বাসায় না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পারবারের সদস্যরা।



গভীর রাতে তাদের বাসার কিছু দূরে সেনানিবাসের ভিতর একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

এঘটনার পর দিন তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামী করা হয় অজ্ঞাতনামাদের।

মামলাটি প্রথমে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানা পুলিশ, পরে এটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত করে। এরপর ২০১৬ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব¡ দেয়া হয় সিআইডির ওপর।



রাইজিংবিডি/কুমিল্লা/২০ মার্চ ২০১৯/জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল/এনএ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন