ঢাকা, রবিবার, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

তপন মাহমুদের ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ সাড়া ফেলেছে

তানভীর হাসান তানু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২২ ২:৫৯:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২২ ২:৫৯:৫৫ পিএম

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা : চাকরির বাইরের সময়টুকু কাজে লাগিয়ে ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ সার উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন মাহমুদ।

গোবর, কলাগাছ ও কচুরিপানা মিশ্রণ করে তাতে কেঁচোর সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি তৈরি করেন ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ সার। ছোট পলাশবাড়ী গ্রামের নিজ বাড়ীতে এই সার উৎপাদন করে এখন বাড়তি রোজগারও করছেন তিনি।

তপন মাহমুদ উৎপাদিত ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে এলাকায়। তার উৎপাদিত এ সারের বেশ চাহিদা এখন। দিন দিন তার সারের চাহিদা বেড়েই চলেছে বলে জানালেন তিনি।

অবসর সময়ে মেধাকে কাজে লাগিয়ে গত বছরে নিজ বাড়িতে শুরু করেন ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ সার উৎপাদন। ইতিমধ্যে এলাকার দেড়শতাধিক কৃষক ও বাড়ির ছাদ বাগানের সৌখিন চাষিরা এ সার ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন।

তপন মাহমুদ জানান, বাড়ির খামারের গরুর গোবর একত্রিত করে বায়োগ্যাস প্লান্টে দিয়ে সেই গ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। গ্যাস ব্যবহার শেষে প্লান্টের গোবরের সাথে কলাগাছ ও কচুরিপানা কেটে মিশ্রিত করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে কয়েকদিন রাখার পর তাতে কেঁচো ছেড়ে দেন। তিন সপ্তাহ পর নেটে চেলে ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ তৈরি করেন। 

জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ টন ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ বা কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। যার বাজার মূল্য প্রতিটন ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া কেঁচো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করায় সেই কেঁচো বিক্রি করেও বাড়তি আয় করেন তিনি।

এই সার ব্যবহার করে সবজি ফলানো আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবতামই না যে, আমাদের এলাকায় সারাবছরই মৌসুমি সবজি চাষাবাদ সম্ভব। বর্তমানে আমাদের গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক সারাবছর সবজি চাষ করছেন। এ সার ব্যবহারে সবজির রং ভালোর পাশাপাশি সবজিতে পোকামাকড় ও রোগবালাইও কম। রসায়নিক সারের চেয়ে ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ ব্যবহারে সবজিতে খরচ কম।’

অনলাইনে তপন মাহমুদের ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ সংগ্রহকারী রাজধানীর ছাদ বাগানের এক সৌখিন চাষি রাশেদুজ্জামান। তারসঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এই সার ব্যবহারের পর পানি ৪-৫ দিন পরপর দিলেই হয়। তাছাড়া গাছগুলোতে সতেজভাব ফিরেছে, দেখতেও বেশ ভাল। ফল গাছে ফল আসছে, ফুল গাছে নিয়ম মতো ফুলও হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাফীয়ার রহমান বলেন, ‘আমি যখন বালিয়াডাঙ্গীতে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে প্রথম পদক্ষেপ নেই, তখন তপন মাহমুদ আগ্রহ প্রকাশ করে সে নিজেও উৎপাদন করবে। আমি তাকে সব রকম সহায়তা করি। সে আজ সফল। এই উপজেলার সব যুবকরাই বাড়তি আয়ের জন্য ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করতে পারে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার্বিক সহায়তা দিবে।’

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাওম এই ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

তপন মাহমুদ জানান, রাসায়নিক সার ব্যবহারে দিন দিন মাটি উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। উর্বরা শক্তি ফিরিয়ে আনতে ভার্মি কম্পোস্টের গুরুত্ব ব্যাপক। এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি বিনামূল্যে কেঁচো সরবরাহ করবেন তিনি।




রাইজিংবিডি/ঠাকুরগাঁও/২২ এপ্রিল ২০১৮/তানভীর হাসান তানু/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন