ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭ ||  ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

তামাক ছেড়ে টমেটোতে ঝুঁকছেন নাগরপুরের কৃষকরা

100 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:১১, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  
তামাক ছেড়ে টমেটোতে ঝুঁকছেন নাগরপুরের কৃষকরা

টাঙ্গাইলের সবচেয়ে অবহেলিত চরাঞ্চল নাগরপুর। দুই বছর আগেও এই বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস ছিল তামাক চাষ। তাতে নিজেদের পাশাপাশি পরিবেশের জন‌্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছিলেন এখানকার কৃষকরা। কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় তামাক ছেড়ে ঝুঁকছেন টমেটো চাষের দিকে।

শীতকালীন সবজি হলেও বর্তমানে শীত থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত প্রচুর টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে এই এলাকায়। এখানকার টমেটো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের মাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।

চলতি বছর নাগরপুর উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। কিন্তু ক্রমাগত শৈত্যপ্রবাহের ফলে টমেটো পাকতে দেরি হওয়ায় কিছু চাষি কাঁচা টমেটো ছিড়ে মেডিসিন দিয়ে তা পাকিয়ে বাজারজাত করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, টমেটো সোলানেসি পরিবারের লাইকোপার্সিকগনের অন্তর্ভুক্ত কোমল ও রসালো সবজি। অনেক স্থানে টমেটোকে বিলাতি বেগুনও বলা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে। টমেটোতে লাইকোপেন নামে বিশেষ উপাদান রয়েছে বলে এটা ফুসফুস, পাকস্থলি, অগ্ন‌্যাশয়, কোলন, স্তন, মূত্রাশয় প্রভৃতি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। টমেটো অর্থকরী ফসল। শুধু সবজি নয় সালাদ ও সস তৈরিতেও টমেটো ব্যবহার করা হয়।

উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের বেটুয়াজানী গ্রামের সফল টমেটো চাষি পাগলা মিয়া। তার মতো তামাক ছেড়ে টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন করিম শেখ, সবুর মিয়া, মোতাসিম, শহীদুল, জয়েদ আলীসহ অনেকে। টমেটো ছাড়াও এখানকার কৃষকরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, বেগুনসহ নানা রকমের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করছেন।

পাগলা মিয়া বলেন, ‘আমরা এক সময় ধলেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলে তামাক চাষ করতাম। এখন উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে আমরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। আমরা প্রতি বছর টমেটোর বাম্পার ফলন পেয়ে থাকি।’

আরেক চাষি শহীদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন বীজ কোম্পানির পরামর্শ ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি নিয়ে তারা জৈব সার ও সেক্সফোরমেন ট্র্যাপ ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন। তিনি কয়েক একর জমিতে টমেটো ও সবজি চাষ করছেন। এবার ফলন ভালো হলেও দফায় দফায় শৈত্যপ্রবাহের কারণে টমেটো পাকতে দেরি হচ্ছে। ফলে ভালো দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত তারা।

চাষিদের লোকসান ঠেকাতে ও বেশি উৎপাদনের জন্য উপজেলায় একটি সবজি সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

তবে অধিক মুনাফার লোভে বেশকিছু কৃষক কাঁচা টমেটো ওষুধ দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করছেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চাষি বলেন, ‘প্রথম দিকে টমেটোর ভালো দাম পেলেও শেষদিকে টমেটোর দাম প্রতি কেজি ৫-৭ টাকায় নেমে যায়, যা আমাদের জন্য লাভজনক নয়। তাই বাধ্য হয়ে মেডিসিন দিয়ে টমেটো পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। যদি টমেটো বা সবজি রাখার জন্য কোনো সংরক্ষণাগার থাকত তাহলে আমাদের টমেটো নষ্ট হতো না। আমরা আরো ভালো দাম পেতাম।’

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, ‘একসময় এ অঞ্চলের চাষিরা তামাক চাষ করত। আমরা তাদেরকে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছি। এখন এলাকায় টমেটোর পাশাপাশি প্রচুর শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজির চাষ হচ্ছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি- কীভাবে ওষুধ প্রয়োগ ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে টমেটো পাকানো যায়। ঢাকা ও টাঙ্গাইলের নিরাপদ সবজি বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছে কৃষকদের উৎপাদিত টমেটো সরবরাহের ব্যবস্থা করছি, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায়।’



টাঙ্গাইল/শাহরিয়ার সিফাত/রফিক

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়