ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ০২ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

তিনি একটি বিষমুক্ত ফলের বাগান গড়ে তুলতে চান

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২১ ৯:১৯:৩৩ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২১ ১১:১৫:২৪ এএম

বিচিত্র পেশায় উপার্জনের পথ খুঁজে নিয়ে বেঁচে আছেন যারা, হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার পাহাড়ি এলাকার নিজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. তাহির মিয়া তাদেরই একজন।

বাহুবলের রশিদপুর পাহাড়ে মৌসুমী ফলের গাছ কিনে ফল বিক্রি করে চলছে তার জীবন ও জীবিকা।

এখন লিচুর মৌসুম। এ মৌসুমে তিনি ৭০ হাজার টাকায় লিচুসহ ১৮টি গাছ কিনেছেন। ইতোমধ্যে অর্ধেক লিচু তিনি পাইকারের কাছে বিক্রিও করে দিয়েছেন।

তিনি জানান, এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। তবে করোনার কারণে ফলের দাম কিছুটা কম।

তিনি জানান, ফল গাছে আসতে না আসতেই গাছ কিনে পরিচর্যা করেন। দিনরাত গাছ পাহাড়া দেন। কারণ, পাহাড়ের বাগানে বাদুর আর কাঠবিড়ালির খুবই উৎপাত। আবার চোরেরও উৎপাত আছে। এরপর আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এবার আবার নতুন করে যোগ হয়েছে ‘করোনা'। এসব বাধা পার হয়ে লাভের চিন্তা করতে হয় তাদের।

মৌসুম অনুযায়ী পাহাড়ি এলাকায় এভাবে ফলের গাছ কিনে সে ফল বেচে ভালই আছেন তাহির মিয়া। ফল বিক্রির লাভের অর্থে তিনি সৎপথে জীবিকা নির্বাহ করছেন, এটাই গর্ব তার।

লিচুর মতো তিনি গাছে থাকা কাঁঠালও কিনেছেন। লিচুর মৌসুম শেষ হলেই তিনি কাঁঠাল বিক্রি করবেন বলে জানালেন।  ঈদের পর এ কাঁঠাল বিক্রি শুরু হবে।

জানলেন, ফলে কখনো তিনি কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। ক্রেতাদের তিনি ঠকাতে চান না। তাই ক্রেতারা তার কেমিক্যালহীন বিষমুক্ত ফল খেয়ে পুষ্টি পাচ্ছে।

বাড়ির ৪ শতক ভিটে ছাড়া তার কোন জমি নেই। তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ ৭ সদস্যের পরিবার নিয়ে খেয়েপরে কেটে যাচ্ছে দিন। মৌসুমী ফল বিক্রির লাভের টাকায় তিনি সৎভাবে বেঁচে আছেন। জানালেন, এতেই তিনি সন্তুষ্ট। লাখ লাখ রোজগারের আশা না করে তিনি বৈধ উপায়ে হাজারো টাকা রোজগারে বিশ্বাসী।

তিনি জানান, টাকার অভাবে নিজে যেমন পড়তে পারেননি, তেমনি সন্তানদেরও লেখাপড়া করাতে পারছেন না। তবে কষ্ট করে এক কন্যাকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সরকারের কাছে তিনি দাবি জানান, পাহাড়ি কিছু পরিত্যক্ত জমি তার নামে বরাদ্দ দিয়ে আর্থিক অনুদান দেওয়ার জন্য। এতে তিনি নিজস্ব একটি বিষমুক্ত ফলের বাগান গড়ে তুলতে চান।  

 

হবিগঞ্জ /টিপু

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : হবিগঞ্জ, সিলেট বিভাগ