ঢাকা, সোমবার, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দ্রুত রক্তপড়া যেভাবে বন্ধ করবেন

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৮ ১২:৩৫:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৮ ১২:৩৫:৩৬ পিএম

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে কখনো দুর্ঘটনাবশত কেটে গিয়ে অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কারণে শরীর থেকে রক্ত ঝরতে পারে। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্ত বের হয়ে যাওয়া ভালো কিছু নয়। তাৎক্ষণিকভাবে রক্তক্ষরণ থামানোর কৌশল সম্পর্কে জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুর্ঘটনায় পতিত কাউকে জরুরি বিভাগে নিতে নিতে অত্যধিক রক্তক্ষরণে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। প্রথমে জেনে নেয়া যাক ছোটখাটো রক্তক্ষরণ থামানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে।

* প্রথমে একটা পরিষ্কার তোয়ালে অথবা স্টেরাইল গজ প্যাড নিন। এগুলো হাতের কাছে পাওয়া না গেলে অন্য কোনো পরিষ্কার কাপড় পেলেই চলবে। এবার ক্ষত বা কেটে যাওয়া স্থানের ওপর সেগুলো রেখে সরাসরি চাপ প্রয়োগ করুন।

* এরপর অভ্যন্তরীণ কৌশল অবলম্বন করতে হবে। রক্ত দ্রুত জমাট বাঁধতে বরফ ব্যবহার করতে পারেন। 

* ভালো নিরাময় পেতে ও ইনফেকশনের ঝুঁকি এড়াতে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা আপনার ক্ষতস্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন, সেলাই করে দেবেন ও ওষুধ প্রেসক্রাইব করবেন।

* শিরা বা ধমনী কেটে রক্ত বের হতে থাকলে প্রথম পদক্ষেপ হবে, ক্ষতস্থানের ওপর তোয়ালে বা স্টেরাইল গজ প্যাড বসিয়ে চেপে ধরা। এতে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে টার্নিকেটের প্রয়োজন হবে। যেখান থেকে রক্ত ঝরে তার একটু ওপরে কিছু একটা বেঁধে রক্তপ্রবাহ সীমিত করাই হচ্ছে টার্নিকেট।

* টার্নিকেট জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। টার্নিকেটের জন্য বিশেষ মেডিক্যাল উপকরণের প্রয়োজন নেই। আঙুলে টার্নিকেট করতে রাবার ব্যান্ড এবং বাহু ও পায়ে টার্নিকেট করতে ফিতা বা এক্সারসাইজ ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন।

* চেপে ধরার পরও ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হতে থাকলে অথবা আহত ব্যক্তির ত্বক বিবর্ণ ও ঘর্মাক্ত হলে বা মাথা ঘোরালে বা শ্বাসকষ্ট হলে টার্নিকেট করতে দ্বিধা করবেন না। রান্নার কাজে ব্যবহৃত ছুরিতে আঙুল কেটে গেলেও টার্নিকেট ব্যবহার করতে পারেন। আপনার আঙুলের ক্ষতস্থানের একটু উপরে একটি রাবার ব্যান্ড পেঁচিয়ে নিন। এখন আহত আঙুল মাথার ওপরে রাখলে রক্তক্ষরণ দ্রুত থেমে যাবে।

* রক্তক্ষরণ থেমে গেলে ক্ষতস্থানে টাইট ড্রেসিং করুন। ড্রেসিং করার পর রক্তপ্রবাহ চালু করতে রাবার ব্যান্ড খুলে নিন। এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, আঙুলে পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের বেশি সময় রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে রাখা উচিত হবে না।



ঢাকা/ফিরোজ