ঢাকা, শনিবার, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নতুন সূর্যের দিন ।। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৫-১২-১৬ ১:৫০:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:০৯:৪৭ এএম
Walton E-plaza

১৬ ডিসেম্বর, আমাদের বিজয় দিবস। একাত্তরের এই দিনে বাঙালি জাতির ইতিহাসে রচিত হয়েছিল এক যুগান্তকারী মহান বিজয়। ‘এক নদী রক্তের বিনিময়ে’ পাকিস্তানি হানাদার-দখলদার বাহিনী, তাদের দেশীয় অনুচর রাজাকার-আলবদর-জামায়াত-শিবির বাহিনীর নিধন, নির্যাতন এবং তাদের বিদেশি মদদদাতা আমেরিকা ও অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশ, সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদার মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র ও চীনা শক্তির ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিল এই বিজয়।

বিজাতীয় শাসনের নাগপাশকে ছিন্ন করে সেদিন পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। আমরা সেই মহান ‘বিজয় দিবসের’ চার দশক অতিক্রম করেছি। খুবই স্বাভাবিক যে, এত বছর পরে এসে ‘বিজয়ের’ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ ও মূল্যায়নের কথাটি সব মানুষের মনে একবার হলেও উদয় হবে। প্রশ্ন জাগবে, কী পেলাম এই ৪১ বছরে ?
 
বাংলাদেশে ৪১ বছরের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব ও তার মূল্যায়ন দু’ভাবে করা যায়। এক হলো, যদি এখনো আমাদের পাকিস্তানের অংশ হয়ে জাতিগত শোষণের নিগড়ে আবদ্ধ থাকতে হতো, তাহলে আমরা সম্ভবত যে অবস্থায় থাকতাম বলে অনুমান করা যায়, তার তুলনায় বর্তমানে আমরা কি সার্বিক বিচারে ভালো আছি, নাকি খারাপ, সেই মানদ-ে এই বিচারে, মুহূর্তকাল দ্বিধা না করে সবাই একবাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য যে, পাকিস্তান থাকলে এতদিনে আমাদের যে হাল হতো তার চেয়ে আমরা অনেক ভালো আছি। এটি কেবল স্বাধীনতার আবেগ, আত্মমর্যাদার অনুভূতি ও দেশপ্রেমের চেতনার অমূল্য সম্পদ প্রাপ্তির হিসাবেই নয়। পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রটির বাস্তব হাল-হকিকত এখন যা, তাতে আঁতকে উঠে সবাই একবাক্যে বলবে যে, ভাগ্যিস তেমন মৌলবাদী জঙ্গি সংঘাতের লীলাভূমি, প্রতিদিনকার নির্বিচার হামলা-হত্যার নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে আমরা আজ বহুলাংশে মুক্ত থাকতে পারছি। এ সবই আমাদের বড় প্রাপ্তি।

কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছরে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব ও মূল্যায়ন ‘পাকিস্তানে যদি থাকতাম তবে কী অবস্থা হতো’ ধরে করাটা মোটেও যুক্তিসংগত নয়। একাত্তরের বিজয় যে প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল তার নিরিখে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব করাই হবে যুক্তিসংগত। ৪৪ বছর আগে ১৬ ডিসেম্বরে ‘এক নদী রক্তের বিনিময়ে’ অর্জিত বিজয় যে স্বপ্ন-সুযোগ-সম্ভাবনা উন্মোচিত করেছিল সেই তুলনায় আমরা কী পেলাম, এটাই হওয়া উচিৎ হিসাব-নিকাশ ও মূল্যায়নের মাপকাঠি। সেই বিবেচনা থেকে বলা যায় যে, ৪৪ বছর আগে আমরা যা অর্জন করেছিলাম তার অনেক কিছুই আমরা ধরে রাখতে পারিনি। আমাদের বিজয়ের বেশির ভাগ উপাদানই আজ হাতছাড়া হয়ে গেছে। ৪৪ বছর আগের স্বপ্নের সঙ্গে আজকের বাস্তবতার, সেদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে আজকের প্রাপ্তির ফারাক হলো আকাশ-পাতাল।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে কী স্বপ্ন ও প্রত্যাশা জেগেছিল দেশবাসীর মনে, আমার নিজের মনে? এই প্রশ্নের জবাব খোঁজার জন্য ফিরে তাকাতে হয় সেই দিনের দিকে। ওই দিনটি ছিল আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন। মনে রাখা দরকার যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কেবল ’৭১-এর ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল না। এর আগে বছরের পর বছর ধরে দেশে যে রাজনৈতিক সংগ্রাম হয়েছে সে অধ্যায় বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যায়ন করা যায় না। আমি নিজে সেই রাজনৈতিক সংগ্রামের অধ্যায়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। আমি ছিলাম ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী, গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রভৃতি নানা বিষয়ে আমাদেরকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম চালিয়ে জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে এগিয়ে নিতে হয়েছে। এসব সংগ্রামের ধারাতেই তিলে তিলে আকার পেয়েছিল আমাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাগুলো। ’৭১-এর মার্চে দেশ সশস্ত্র সংগ্রামের দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। ছাত্র ইউনিয়নের ব্যানারে আমরা মুক্তি সংগ্রামের লক্ষ্যে আমাদের রাজনৈতিক প্রস্তুতি অনেকখানি এগিয়ে নেই। সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য বাস্তব প্রস্তুতিও এগিয়ে নেই।

আসে ২৫ মার্চের কালরাত। রাতের আঁধারে পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিপাগল বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাদের কাঁচা হাতে প্রস্তুত করা প্রতিরোধের চেষ্টাগুলো নিষ্ফল হয়। দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে অনেককে। আমার অনেক বন্ধুও প্রাণ হারায়। এই অবস্থায় আরো উন্নত শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ পরিচালনার সুযোগের জন্য সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে ভারতে একত্রিত হই। সবার মনে তখন মরণপণ যুদ্ধের প্রত্যয়। স্বাধীন দেশ কেমন হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কল্পনা-স্বপ্ন-প্রত্যাশা নিয়ে অস্ত্র হাতে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি সশস্ত্র লড়াইয়ে।

১৯৭১-এর মে মাসে ভারতে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠন করা হয়। এই বাহিনীর প্রথম দলের একজন কমান্ডার হয়ে আমি আসামের তেজপুরে গিয়ে দেড় মাসের প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও সম্পন্ন করি। পরে ত্রিপুরার বাইকোরা নামক স্থানে বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করি। জুলাই থেকে গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের ছোট-ছোট গ্রুপে বিভক্ত করে দেশের ভেতরে পাঠাই। এ সময় আমাকে অপারেশন প্ল্যানিং কমিটির (ওপিসি) সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ক্রমান্বয়ে শুরু হয় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা অপারেশন। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর কুমিল্লার বেতিয়ারায় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত মুখোমুখি যুদ্ধে নিজামউদ্দিন আজাদ ও সিরাজুল মনিরসহ ৯ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

গেরিলা কৌশল বাদ দিয়ে নভেম্বরে আমরা ফ্রন্টাল যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেই। পাক হানাদার বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আক্রমণ পরিচালনার জন্য নভেম্বরের শেষ দিকে আমরা ঢাকার দিকে মার্চ করা শুরু করি। আমার কমান্ডে ২০০/২৫০ গেরিলা ও তাদের আরো শ’খানেক সহযোগীর একটি দল নিয়ে আমি দেশে ঢুকে পড়ি। ডিসেম্বরের ১৩ অথবা ১৪ তারিখ আমরা ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকায় পৌঁছি। অগ্রসর হতে থাকি ঢাকার দিকে। ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে খাওয়ার বিরতির সময় রেডিওতে শুনতে পাই বিকেলে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঘোষণা।

অবর্ণনীয় অনুভূতির মধ্যে আমাদের মনের সামনে আরো স্পষ্ট হয়ে আবির্ভূত হয় এতদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের ছবি। পুরো ফোর্স এবং রসদ নিয়ে আমরা স্বপ্নের মুক্ত ঢাকায় প্রবেশ করি ’৭১-এর ১৭ ডিসেম্বর। মুক্ত ঢাকায় আমাদের গেরিলা বাহিনীই প্রথম প্রবেশ করে। আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে ঢাবির সায়েন্স এনেক্স ভবনে অবস্থান নেই। শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে দেশ গড়ার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথ গ্রহণ করি। এই পরিচিত ছবিটি আজ অনেক জায়গায়ই উৎকীর্ণ আছে।

ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আমরা স্লোগান তুলি, ‘লাখো শহীদের রক্তে মুক্ত স্বদেশ-এসো এবার দেশ গড়ি’। দু’সপ্তাহ যেতে না যেতেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষানীতির খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু করি। শুরু হয়ে যায় আমাদের স্বপ্ন পূরণের প্রয়াস। স্বাধীন দেশ সম্পর্কে আমাদের স্বপ্ন মুহূর্তের ঝলকের মতো আবির্ভূত হয়নি। দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তিলে তিলে আমাদের স্বপ্ন রচিত হয়েছিল। সেই স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে আরো সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তা নির্দিষ্ট মূর্ত রূপ পেয়েছিল ’৭২-এর সংবিধানে। সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত আত্মশক্তিতে বলীয়ান একটি দেশের জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম পাকিস্তানের সব প্রতিক্রিয়াশীলতা থেকে আমাদের নতুন এই দেশটি সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে। ধর্ম বর্ণ ধনী গরিব নির্বিশেষে সব নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবে। সমাজ থেকে সব বে-ইনসাফ দূর হবে। মানুষের ওপর মানুষের শোষণ থাকবে না। শ্রেণিবৈষম্য থাকবে না। যৌথতার ভিত্তিতে অর্থনীতির নতুন কাঠামো ও ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প দূর হবে। মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার নিরঙ্কুশ হবে। দূর হবে পরাধীনতা ও পশ্চাৎপদতার প্লানি। থাকবে না কোনো হতাশা। এ সবই ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের অন্দোলন-সংগ্রামের ফসল, আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন।
 
আমাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের পথে গোড়াতেই আসে বাধা। আওয়ামী লীগের শ্রেণিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সৃষ্টি হয় নানা সমস্যা। বাধা সৃষ্টি হতে থাকে দলের ভেতর থেকেই। সাম্রাজ্যবাদ, প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীরা সেই সুযোগে তৎপর হয়ে ওঠে। এরকম একটি নাজুক পরিস্থিতিতে ’৭৫ সালে ঘটে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। দেশের চরিত্রকে মুক্তিযুদ্ধের ধারা থেকে বিচ্যুত করে ফিরিয়ে আনা হয় পাকিস্তানি ধারার অনেক উপাদান। দেশকে আটকে ফেলা হয় সাম্রাজ্যবাদনির্ভর লুটেরা পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়। গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী নব্য লুটেরা ধনিক গোষ্ঠী। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ দিয়ে মাঠে নামতে দেওয়া হয়। পাকিস্তানি ভূত চেপে বসে দেশের ওপর। জাতির ওপর চেপে বসে সামরিক স্বৈরাচার।

এসবের বিরুদ্ধে রক্তঝরা আন্দোলন করতে করতে ’৯০-এ অবসান হয় অসাংবিধানিক সামরিক শাসনের পর্যায়ক্রমিক পর্ব। নব্বইয়ের আরেক ডিসেম্বরেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশ আবার নির্বাচিত সরকারের ধারায় ফিরে আসে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারা দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়নি। দেশে অব্যাহত থেকেছে পঁচাত্তরপরবর্তী সময়ে মোশতাক-জিয়া-এরশাদ প্রবর্তিত ধারা। আওয়ামী লীগের প্রথম দফা শাসন পর্বেও একই ধারা বজায় রাখা হয়েছে। এবার মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে ফিরিয়ে আনা হবে বলে মানুষের মনে আশাবাদ জেগেছিল। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি। সংবিধানের সর্বশেষ পঞ্চম সংশোধনীতেও একটা গোঁজামিল দেওয়া হয়েছে। কিছুটা মুক্তিযুদ্ধের ধারা ও কিছুটা পাকিস্তানি ধারার একটি আজব মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। একফোঁটা চনার কারণে এক মণ দুধ যেমন নষ্ট হয়ে যায়, অবস্থা হয়েছে তেমনই।

অন্যদিকে অর্থনীতিতে মুক্তবাজারনীতি চালুর ফলে লুটপাটের মহোৎসব ক্রমাগতই জোরদার হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদ ও কালো টাকার শোষণ ও নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে দেশ। শুধু  গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনই নয়, বড় দুটি রাজনৈতিক দলও আজ এই শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সাম্রাজ্যবাদী মদদে দেশকে দ্বিদলীয় মেরুকরণের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রাজনীতিতে বাণিজ্যিকীকরণ ও দুর্বৃত্তায়ন প্রবল হয়ে উঠেছে। মুষ্টিমেয় মানুষ অকল্পনীয় সম্পদের মালিক হয়েছে। সমাজে বৈষম্য ও দারিদ্র্য কুৎসিত রূপ লাভ করেছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া, বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, ঘুষ-দুর্নীতি, অনাচার, উৎপীড়ন, নারী নির্যাতন, বৈষম্য, নির্মম শোষণ-পীড়ন ইত্যাদি আজও মানুষের জীবনকে জর্জরিত করে রেখেছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হতাশা আজ ক্রমেই আরো গভীর হচ্ছে। ক্রমাগত বাড়ছে ক্ষোভ।

সার্বিক বিবেচনায় ৪৪ বছর আগে দেশের বিজয় অর্জনের মুহূর্তে আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার ফারাক আজ আকাশ-পাতাল। এসবেরও পরেও বলব, ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত’। এ কথা ঠিক যে, আমাদের অনেক অর্জনই আমরা আজ হারিয়ে বসে আছি। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

শত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও মানুষের রক্ত থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। আজো আমাদের রক্তে সে চেতনা প্রবাহিত। নতুন প্রজন্মের মধ্যেও সেই চেতনারই স্ফুরণ দেখতে পাচ্ছি। দেশে এখন কৃষ্ণপক্ষ চলছে ঠিকই। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বলা যায় যে, শুক্লপক্ষের আগমন অপেক্ষমাণ মাত্র। আলোয়-আলোয় উদ্ভাসিত করে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনতে নবজাগরণের প্রস্তুতি চলছে ঘরে ঘরে। নতুন সূর্য উদয় হবেই। তাই ভয় কী!

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

 

 



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ ডিসেম্বর ২০১৫/শাহনেওয়াজ/তারা

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge